


লন্ডন: টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে একমাত্র পেসার হিসেবে সাতশো উইকেট নিয়েছেন জেমস অ্যান্ডারসন। এই ফরম্যাটে ৭০৪ উইকেটের মালিক তিনি। বল করেছেন বিশ্বের তাবড় তাবড় ব্যাটসম্যানদের। আর তাঁদের মধ্যে বিরাট কোহলিই নাকি সবচেয়ে বেশি সমস্যায় ফেলেছিলেন ইংরেজ তারকাকে। এমনকী, কঠিন চ্যালেঞ্জার হিসেবে শচীন তেন্ডুলকরের চেয়েও বিরাটকে এগিয়ে রেখেছেন অ্যান্ডারসন।
২০১৪ সালের ইংল্যান্ড সফরে পাঁচ টেস্টের সিরিজে চরম ব্যর্থ হয়েছিলেন কোহলি। দশ ইনিংসে করেন মাত্র ১৩৪ রান। তার মধ্যে অ্যান্ডারসনের বলেই পাঁচবার আউট হন ভিকে। কিন্তু তারপর থেকে ভারতীয় তারকার বিরুদ্ধে খুব একটা সাফল্য পাননি জিমি। পরবর্তীকালে মাত্র দু’বার পেয়েছিলেন বিরাটের উইকেট। সার্বিকভাবে টেস্টের আসরে মুখোমুখি সাক্ষাতে ডানহাতি পেসারের বিরুদ্ধে ৪৩.৫৭ গড়ে ৩০৫ রান করেন ভিকে। আউট হন মোট সাতবার। তুলনায় অ্যান্ডারসনের বোলিংয়ে ন’বার আউট হয়েছেন শচীন। তাঁর বিরুদ্ধে রান করেছেন ২০৮। গড়ও বেশ কম ২৩.১১। এই প্রসঙ্গে অ্যান্ডারসন বলেছেন, ‘একটা সময় মনে হতো, কোহলিকে প্রতিটা বলে আউট করতে পারব। কিন্তু পরবর্তীকালে সেই ধারণা বদলে গিয়েছে। নিজেকে বড্ড অসহায় লেগেছে ওর বিরুদ্ধে। শচীনকে বল করার সময় কখনও এমনটা মনে হয়নি। এভাবে হতাশাও গ্রাস করেনি। বিরাট নিজেকে এতটাই বদলে ফেলেছিল যে, সম্পূর্ণ অন্য ক্রিকেটার লাগত।’ তিনি আরও বলেছেন, ‘কোহলির ইস্পাতকঠিন মানসিকতার জন্যই ওকে বল করাটা কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছিল। ও সবসময় যুদ্ধং দেহি মেজাজে থাকত। যাকে বলে প্রচণ্ড লড়াকু।’
অথচ, ইংল্যান্ডে প্রথম সফরে কোহলির ঘাতক ছিলেন অ্যান্ডারসনই। ৪২ বছর বয়সি প্রাক্তন জোরেবোলারের স্মৃতিচারণ, ‘শুরুর দিকে বিরাটের বিরুদ্ধে সাফল্য পেয়েছিলাম। ২০১৪ সালে ও প্রথমবার ইংল্যান্ডে টেস্ট খেলতে এসেছিল। তখন অফস্টাম্পের বাইরে ওর দুর্বলতা ছিল। সেটার ফায়দা আমি নিয়েছিলাম। কিন্তু পরের বার যখন ইংল্যান্ডের মাটিতে ওকে বল করলাম, তখন সেই দুর্বলতা পুরোপুরি কাটিয়ে উঠেছে। মনে হচ্ছিল, অন্য একজন ব্যাটারকে বল করছি। অল্প সময়ের মধ্যে নিজের ব্যাটিংকে অন্য পর্যায়ে তুলে নিয়ে গিয়েছিল। শুধু আমিই নই, অন্য বোলাররাও ওকে আউট করতে সমস্যায় পড়েছে।’
অ্যান্ডারসন এও বলেছেন যে, শচীনের টেকনিকে কোনও দুর্বলতাই ছিল না। তাঁর মতে, ‘শচীনকে আউট করাও খুব কঠিন ছিল। কারণ টেকনিক ছিল খুঁতহীন। তাই নিশানায় নিখুঁত থাকতে হয়েছে। একটু ভুলচুক হলেই রান বেরিয়ে যেত।’ উল্লেখ্য, টেস্টে মোট রানের দিক থেকে শচীনের (১৫,৯২১) ধারেকাছেই নেই সদ্য অবসর নেওয়া কোহলি। দশ হাজারের মাইলফলকও অধরা থেকে যায় (৯২৩০)।