নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য কংগ্রেসের দরজা যে খোলা রয়েছে, সেটা কার্যত বুঝিয়ে দিলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার। তবে একটি শর্ত দিয়েছেন তিনি। বলেছেন, কংগ্রেস-ত্যাগ যে মমতার ভুলই হয়েছিল, সেটা ২১ জুলাই শহিদ মিনারের সমাবেশে এসে তিনি স্বীকার করে নিন।
বস্তুত, এই শহিদতর্পণ সমাবেশকে কেন্দ্র করেই তিন শিবিরের মধ্যে দড়ি টানাটানি অব্যাহত। ইতিমধ্যে ধর্মতলার গান্ধীমূর্তির পাদদেশে মেয়ো রোডে একুশে জুলাই কর্মসূচি পালনের অনুমতি পেয়ে গিয়েছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল। পুলিশের ছাড়পত্র পেয়ে সমাবেশ সফল করতে তারা যাবতীয় প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে। জেলার নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে প্রতিমুহূর্তে। ‘রেকর্ড সংখ্যক’ মানুষের জমায়েতের টার্গেট নিয়েছে তারা। এদিকে ঋতব্রত তৃণমূলের মুখ্য সচেতক আখরুজ্জামান বলেছেন, কাকলি ঘোষ দস্তিদার, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়রা অন্য দলে যোগ দিয়েছেন। তাই তাঁদের এই কর্মসূচিতে আমরা আমন্ত্রণ জানাব না। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন কালীঘাট তৃণমূলকে এখনো পুলিশের তরফে কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। কালীঘাট তৃণমূল এখনো সভা করতে চায় ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে। তার জন্য হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে তারা। তাঁরা হাইকোর্টের নির্দেশের অপেক্ষায় আছেন। জানিয়েছেন মমতাপন্থী সাংসদ দোলা সেন।
এই আবহে কালীঘাট তৃণমূল শিবিরকে বিজেপির মন্ত্রী অগ্রিমিত্রা পালের চ্যালেঞ্জ, ব্রিগেডে সভা করুক তৃণমূল। আমরা যাবতীয় প্রশাসনিক সহযোগিতা করব। ঘটনাচক্রে দিনকয়েক আগেই বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূলকে কটাক্ষসহ বলেন, আপনাদের নাকি লক্ষ লক্ষ লোক! দম থাকলে ব্রিগেডে গিয়ে সভা করুন।
যদিও মমতাপন্থী তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ পালটা বলেন, ভরা বর্ষায় ব্রিগেড সমাবেশ কেউই করতে পারবে না।
এই প্রেক্ষাপটেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশে খোলা বার্তা দিলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার। মঙ্গলবার শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে গিয়েছিলেন তিনি। একুশে জুলাই এখানেই সমাবেশ করবেন তাঁরা। সভাস্থল পরিদর্শনের পর শুভঙ্কর জানান, তাঁর কংগ্রেস ছাড়ার সিদ্ধান্ত যে ভুল ছিল সেটা স্বীকার করুন মমতা। এই শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে এসেই শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করুন তিনি এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করুন যুব কংগ্রেসের সেদিনের লড়াইয়ের সৈনিকদের প্রতি। তাহলে তাঁর এতদিনের কৃতকর্মের কিছুটা হলেও প্রায়শ্চিত্ত হবে। আমরা তাঁকে ওই মঞ্চে স্বাগত জানাব।
ইতিমধ্যে দেখা গিয়েছে, দিল্লিতে গিয়ে সোনিয়া গান্ধী ও রাহুল গান্ধীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন মমতা ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এর পরবর্তী পর্যায়ে প্রদেশ কংগ্রেসের তরফ থেকে বাংলার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে বার্তা দেওয়া হল। যদিও কালীঘাট তৃণমূল পালটা বলছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এত বছর ধরে যেভাবে ২১ জুলাই কর্মসূচি পালন করে এসেছেন, এবছরও তার ব্যতিক্রম হবে না।