লস এঞ্জেলস: সবে বেলজিয়াম বধ করেছে স্পেন। সাংবাদিক সাক্ষাৎকারের জন্য ধরতেই রীতিমতো হুংকার লামিনে ইয়ামালের। ‘যদি ফ্রান্স কোনো দলকে ভয় পায়, সেটা স্পেন। অতীতে বড় টুর্নামেন্ট থেকে ওদের ছিটকে দিয়েছি। ফ্রান্সের বিরুদ্ধে সম্প্রতি দু’টি ম্যাচেই জিতেছি। তাই আমরা আত্মবিশ্বাসী।’ শেষ আটের গাঁট টপকাতেই যে লামিনে সেমি-ফাইনালের দামামা বাজিয়ে দিলেন, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। ফ্রান্স-স্পেন দ্বৈরথের জন্য ফুটবল বিশ্বও মুখিয়ে ।
২০২৪ ইউরোর সেমি-ফাইনালে ফ্রান্সকে হারিয়েছিল স্পেন। সেই ম্যাচে গোলও করেন লামিনে। তবে চলতি আসরে তিনি নিষ্প্রভ। শুক্রবার বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালের লড়াইয়েও ভালোমতো বেগ পেতে হয়েছে লা রোহা-ব্রিগেডকে। ৩০ মিনিটেই লিড নেয় স্পেন। ওলমোর শট আংশিক প্রতিহত করলেও বিপন্মুক্ত করতে ব্যর্থ বেলজিয়ামের গোলরক্ষক থিবো কুর্তোয়া। ফিরতি বল জালে জড়াতে অসুবিধা হয়নি ফাবিয়ান রুইজের (১-০)। কিন্তু লিড বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেনি লুই ডে লা ফুয়েন্তের ছেলেরা। আসলে কেভিন ডি’ব্রুইন সমৃদ্ধ বেলজিয়ামের মাঝমাঠ রড্রি-রুইজদের সঙ্গে জোরকদমে পাল্লা দিল। ৪১ মিনিটে ডে কুইপার ও ডি’ব্রুইনের নেতৃত্বে পালটা আক্রমণেই জেগে ওঠে দ্য রেড ডেভিলস। কাস্তাগনের ক্রস থেকে হেডে লক্ষ্যভেদে সমতা ফেরালেন কাটেলার (১-১)। অবশ্য এরজন্য দায় এড়াতে পারবেন না স্পেনের তরুণ ডিফেন্ডার কুবার্সি। দ্বিতীয়ার্ধেও সেয়ানে সেয়ানে টক্কর হল। কখনও ইয়ামাল বেলজিয়াম বক্সে বিপজ্জনক হলেন তো প্রতি-আক্রমণে ফ্রান্সের রক্ষণ কাঁপালেন ডোকু। তবে শেষ হাসি হাসল স্পেনই। সৌজন্যে, সুপার-সাব মিকেল মেরিনো। না, আরও একটা কারণ আছে। ৭১ মিনিটে চোট পেয়ে বেলজিয়াম গোলরক্ষক থিবো কুর্তোয়ার মাঠ ছাড়া। অন্যদিকে, ৮৬ মিনিটে ওলমোর পরিবর্তে মাঠে নামার দু’মিনিটের মধ্যে জয়সূচক গোল করলেন মেরিনো। ৮৮ মিনিটে কুবার্সির শট রুখলেও হাত থেকে বেরিয়ে যায় বেলজিয়ামের অনভিজ্ঞ গোলরক্ষক লামেন্সের। ফিরতি বলে লক্ষ্যভেদ সুযোগসন্ধানী মিকেল মেরিনোর (২-১)। কুর্তোয়া তখন বেঞ্চে মাথায় হাত দিয়ে বসে। নিশ্চয়ই ভাবছিলেন, ‘আমি থাকলে এই গোল হত না।’
সেমি-ফাইনালে ওঠার পর লামিনেও মেনে নিলেন, এখনও সেরা ফর্মে আসেনি স্পেন। তাঁর কথায়, ‘মনে হতে পারে, খুব ভালো খেলছি না আমরা। কিন্তু প্রতিটি দল আমাদের বিরুদ্ধে রক্ষণাত্মক খেলছে। শেষ পর্যন্ত জয়টাই আসল। এটাও অস্বীকারের জায়গা নেই, এবারের বিশ্বকাপে সেরা দুই দল অবশ্যই স্পেন ও ফ্রান্স। ফাইনালে ওঠাই এখন আমাদের লক্ষ্য।’