ঘটে জল নয়, থাকে সুরা এ পুজো স্বয়ং ব্যামাক্ষ্যাপার, খড়গ্রামের এড়োয়ালি গ্রামের মঠকালী
  • ৫ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কান্দি:  এখানে মা কালীর পুজো করেছিলেন তারাপীঠের ‘চলমান শিব’। সাধক বামাখ্যাপা। পঞ্চমুণ্ডির আসনে হয় দেবীর পুজো। আবার মা কালীর ঘটে এখানে জল থাকে না, থাকে মদ। তবে লোকচক্ষুর আড়ালেই রাখা হয় সুরা ভরতি সেই দেবীর ঘট। আজও গা ছমছমে পরিবেশে হয় খড়গ্রামের মঠকালীর পুজো। 

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ৩০০বছর আগে খড়গ্রামে জমিদার রামজীবন রায় দীপান্বিতা অমাবশ্যায় কালীপুজোর প্রতিষ্ঠা করেন। এর পরবর্তীতে বংশ বিস্তারের সঙ্গে পুজোর সংখ্যাও বেড়ে যায়। বর্তমানে এড়োয়ালি গ্রামে ১৩টি দীপান্বিতা কালীপুজো হয়। এর বাইরে গ্রামে কোনো বারোয়ারি বা ক্লাবের পুজোও হয় না। এই ১৩ টি পুজোর মধ্যে রয়েছে চট্টোপাধ্যায় বাড়ির রক্ষাকালী পুজো। আবার প্রতিটি পুজোর জন্য দেবীর আলাদা আলাদা মন্দিরও রয়েছে।
এগুলির মধ্যে মঠকালী পুজোর বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এড়োয়ালি জমিদার বাড়ি সূত্রে জানা গিয়েছে, জমিদার কার্তিক একবার মঠকালী দেবীর পুজো তারাপীঠের সাধক বামাখ্যাপাকে দিয়ে করাতে চেয়েছিলেন। জমিদারের ওই সাধপূরণ হলেও সাধক বামাকে নিয়ে নানা লোককথাও প্রচলিত রয়েছে। 
জমিদার বাড়ির তরফে কালীদাস বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ঠাকুরমার কাছে যা শুনেছি তাই জানাচ্ছি। জমিদার কার্তিক বামাখ্যাপাকে মঠকালী দেবীর পুজো করানোর জন্য চার বেহারা সহ একটি পালকি তারাপীঠে পাঠিয়েছিলেন। বামা খ্যাপাকে অনুনয় করে বলা হয়েছিল মঠকালী দেবীর পুজো করার জন্য। কিন্তু উনি পালকিতে চড়ে বসেননি। পালকি ফেরত পাঠিয়ে দিয়েছিলেন সাধক। তবে বেহারার দল গ্রামে ফিরতেই সবাই অবাক হয়ে যান। দেখা যায়, মঠকালী মন্দিরের সামনে মাতাল সাগরে (পুকুর) স্বয়ং বামা খ্যাপা ভাসছেন! এরপর পুকুর থেকে উঠে সোজা মন্দিরে ঢুকে পুজো শুরু করে দেন তিনি।
এদিকে এই পুজোর ঘট ভরা হয় ওই মাতাল সাগর থেকেই। তবে গোপনে আরও একটি ঘট ভরা হয়ে থাকে। আর ওই ঘটে জলের বদলে সুরা (মদ) দিয়ে ভরতি করা হয়। পরিবারের তরফে শুভঙ্কর রায় চৌধুরী বলেন, দেবীর বামদিকের ঘটটি সুরা দিয়ে ভরতি করা হয়। তবে সেটি রাখা হয় এমনভাবে যাতে এটি দর্শনার্থীদের চোখে না পড়ে। 
এখানে মহিষ বলিদানের প্রথাও চালু রয়েছে। তারাপীঠের সঙ্গে এই পুজোর সম্পর্ক থাকার কারণে পুজোর দিন ব্যাপক ভিড় করেন বাসিন্দারা। কথিত, একসময় এড়োয়ালি জমিদাররা তারাপীঠেও কর্তৃত্ব করতেন। এমনকী, চতুর্দশীতে তারাপীঠের প্রথম বলিদান হতো এড়োয়ালি থেকে পাঠানো ছাগলের (পাঁঠার)।  স্থানীয় শিবপদ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, সাধারণ মানুষ পুজো দেখতে ভীড় করেন ঠিকই তবে এখানে দেবীর পুজো দিতে পারেন না তাঁরা। সাধারণ মানুষ গ্রামের বড়ো কালীর মন্দিরে গিয়ে পুজো, পুষ্পাঞ্জলি দিতে পারেন। এই মন্দিরে শাক্তাভিষিক্ত দীক্ষিতরাই শুধু প্রবেশ করতে পারেন। 
 খড়গ্রাম ব্লকের এড়োয়ালি গ্রামের মঠকালী প্রতিমা।