


ওয়াশিংটন: ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক পরিকাঠামোগুলিতে সাফল্যের সঙ্গে এয়ার স্ট্রাইকে চালানোর দাবি করছে ইজরায়েল। কিন্তু ইরানের প্রত্যাঘ্যাতের মুখে ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর দেশেও। এই অবস্থায় ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে প্রকাশিত একটি রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর দাবি করা হয়েছে। সরকারি সূত্র উদ্ধৃত করে সেই রিপোর্টে বলা হয়েছে, ইরানের ছোড়া ঝাঁকে ঝাঁকে দূর পাল্লার মিসাইল প্রতিহত করতে গিয়ে ক্রমেই চাপ বাড়ছে ইজরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার। দ্রুত কমে আসছে তাদের মিসাইল ইন্টারসেপ্টার। টান পড়তে শুরু করেছে এই ইহুদি রাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডারে। এই রিপোর্টেই দাবি, দ্রুত নতুন মিসাইল ইন্টারসেপ্টার হাতে না এলে বা আমেরিকা সহায়তার হাত বাড়িয়ে না দিলে বর্তমান রসদ দিয়ে আর মাত্র ১০ থেকে ১২ দিন যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারবে ইজরায়েল।
জানা যাচ্ছে, ইজরায়েলের ভূখণ্ড পর্যন্ত পৌঁছতে পারে, ইরানের হাতে এমন প্রায় ২ হাজার ব্যালিস্টিক মিসাইল রয়েছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইতিমধ্যেই প্রায় ৪০০টি ব্যালিস্টিক মিসাইল ছুড়েছে তেহরান। এরকম হাই-অল্টিটিউড ব্যালিস্টিক মিসাইলগুলি প্রতিহত করতে ইজরায়েল মূলত তাদের অ্যারো ডিফেন্স সিস্টেমকে কাজে লাগাচ্ছে। ইজরায়েলের মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেমে এই অ্যারো ছাড়াও রয়েছে আয়রন ডোম, ডেভিড’স স্লিং, আমেরিকার দেওয়া প্যাট্রিয়ট ও থাড ব্যাটারিজ। সামগ্রিকভাবে বহুস্তরীয় এই আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চালু রাখাটা এমনিতেই বিশাল খরচ সাপেক্ষ। ইজরায়েলের দৈনিক সংবাদপত্র দ্য মার্কারের হিসেব বলছে, মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম চালু রাখতে গিয়ে ২৮৫ মিলিয়ন ডলার খরচ হচ্ছে তেল আভিভের। এর মধ্যে শুধুমাত্র অ্যারো সিস্টেম থেকে প্রতিটি ব্যালিস্টিক মিসাইল ইন্টারসেপ্টার ব্যবহার করার জন্য ৩০ লক্ষ ডলার করে ব্যয় হচ্ছে। প্রতিদিন ঝাঁকে ঝাঁকে ইরানের মিসাইল ধেয়ে আসছে। এই অবস্থায় নতুন করে দ্রুত অস্ত্রের ভাণ্ডার পূরণ না হলে আর মাত্র ১০ থেকে ১২ দিন টিঁকে থাকতে পারে ইজরায়েলের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম।