


তেল আভিভ: একে একে নিভিছে দেউটি! এবার আমেরিকা-ইজরায়েলের যৌথ হামলায় খতম ইরানের আরও এক শীর্ষ সেনাকর্তা। নিহত এই ইরানি সেনাকর্তা হলেন এলিট নৌবাহিনীর কমান্ডার আলিরেজা তাংসিরি। জ্বালানি সরবরাহের ‘ধমনি’ হরমুজ প্রণালীকে অবরদ্ধ করে রাখার ভার ছিল তাঁর হাতেই। দক্ষিণ ইরানে হামলা চালিয়ে হরমুজের এই ‘প্রহরী’কে নিকেশ করা হয়েছে বলে দাবি ইজরায়েলের। তাংসিরির মৃত্যুর খরব নিশ্চিত করেছেন স্বয়ং ইজরালেয়ের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। তবে এব্যাপারে রাত পর্যন্ত ইরানের প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি।
ইজরায়েলের আধিকারিকদের দাবি, ইরানের বন্দর আব্বাস শহরে নিখুঁত হামলা চালিয়ে খতম করা হয়েছে আলিরেজা তাংসিরিকে। ইরানের শক্তিশালী আইআরজিসি-র নৌসেনা শাখার নেতৃত্বভার ছিল তাঁর হাতেই। এই তাংসিরির নেতৃত্বেই হরমুজ অবরুদ্ধ করে রেখেছিল তেহরান। গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ অবরুদ্ধ হয়ে পড়াতেই বিশ্বজুড়ে জ্বালানির জোগান ব্যাহত হয়েছে। তাংসিরির মৃত্যু তেহরানের পক্ষে বড় ধাক্কা বলে মনে করা হচ্ছে।
তাংসিরি আদতে দক্ষিণ ইরানের বুশেহর প্রদেশের বাসিন্দা। ইরাক-ইরান যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। আটের দশকে তথাকথিত ট্যাঙ্ক যুদ্ধ ন্যামে খ্যাত ইরানের সঙ্গে আমেরিকার প্রথম সংঘাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল তাঁর। ধীরে ধীরে আইআরজিসি-র নৌবাহিনীতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব তাংসিরির হাতে আসে। ২০১০ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ডেপুটি কমান্ডার, পরে বাহিনীর প্রধানের পদে উন্নীত হন।
যুদ্ধের শুরুতেই আমেরিকা-ইজরায়েলের যৌথ হামলায় মৃত্যু হয়েছিল ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের। এরপর ইরানের একের পর এক প্রথম সারির রাজনৈতিক ও সামরিক কর্তাদের নিশানা বানানো হয়। গত ১৭ মার্চ মৃত্যু হয় উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব তথা নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানির। সেই তালিকায় নয়া সংযোজন হরমুজ অবরোধের কাণ্ডারির।
হাত গুটিয়ে বসে নেই ইরানও। মধ্য ইজরায়েলের কাফার কাসিমে ইরানের মিসাইল হামলায় জখম পাঁচজন। হয়েছে ক্ষয়ক্ষতিও। পাশাপাশি আইআরজিসি-র দাবি, এদিন ভোরে ইজরায়েলের মিলিটারি কন্ট্রোল সেন্টারকে নিশানা বানাতে ড্রোন ও মিসাইল হামলা চালানো হয়েছে। ইরানের হামলার নিশানায় ছিল ডেড সি-এর দক্ষিণে ইজরায়েলের পরমাণু পরিকাঠামোও। এছাড়া হাইফা বন্দরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর ও সামরিক কেন্দ্রকে নিশানা করে ড্রোন হামলার দাবি করেছে তেহরান।