Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

দুর্ঘটনায় প্রয়াত বোনকে সাফল্য উৎসর্গ ঈশানের

ব্যর্থতার কানাগলি পেরিয়ে সাফল্যের রাজপথে! গত দু’বছর ক্রমাগত ঠোক্করই জুটেছে। ঘরোয়া টুর্নামেন্ট না খেলা, শৃঙ্খলাজনতি কারণে চুক্তিপত্র থেকে বাদ পড়া, জাতীয় দলের দরজা বন্ধ হওয়া, ক্রমশ হারিয়ে যেতে বসা— কী দেখেননি তিনি?

দুর্ঘটনায় প্রয়াত বোনকে সাফল্য উৎসর্গ ঈশানের
  • ১০ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সৌরাংশু দেবনাথ, আমেদাবাদ: ব্যর্থতার কানাগলি পেরিয়ে সাফল্যের রাজপথে! গত দু’বছর ক্রমাগত ঠোক্করই জুটেছে। ঘরোয়া টুর্নামেন্ট না খেলা, শৃঙ্খলাজনতি কারণে চুক্তিপত্র থেকে বাদ পড়া, জাতীয় দলের দরজা বন্ধ হওয়া, ক্রমশ হারিয়ে যেতে বসা— কী দেখেননি তিনি? তবু আস্থা হারাননি নিজের উপর। বরং ডুবে গিয়েছিলেন পরিশ্রমে। কে কী করছে দেখেননি। ছুটেছেন নিজেকে আরও ধারালো করে তোলার লক্ষ্যে। ঠিক যেন ‘থ্রি ইডিয়টস’ সিনেমার কাহিনি। সাফল্যকে নয়, তাড়া কর দক্ষতাকে। আয়ত্তে আনো উৎকর্ষকে। তাহলে একদিন সাফল্যই তোমার পিছনে দৌড়বে!

Advertisement

বিশ্বকাপের দল ঘোষণার আগে ঘরোয়া ক্রিকেটে দুরন্ত ফর্মে থাকা ঈশানের কাছে এসেছিল স্বয়ং ক্যাপ্টেনের ফোন। সরাসরি জানতে চেয়েছিলেন সূর্যকুমার যাদব, ‘বিশ্বকাপ জেতাতে পারবি?’ পালটা প্রশ্ন করেন ঈশান, ‘ভরসা করবে আমাকে?’ ইতিবাচক উত্তর দেন ‘স্কাই’। বিশ্বকাপ ফাইনালে ঝোড়ো পঞ্চাশে ক্যাপ্টেনের সেই আস্থারই মর্যাদা দিয়েছেন ঝাড়খণ্ডের যুবক। ৯ ইনিংসে ১৯৩.২৯ স্ট্রাইক রেটে ৩১৭ রান। ভিআইপি বক্সে বান্ধবীর উপস্থিতিতে তাঁর কাপ জেতানো ইনিংস সত্যিই অমূল্য।
কাঁটা বিছানো পথ পেরিয়ে আসার মন্ত্র কী? ঈশান শোনালেন, ‘সময় যত খারাপই যাক, নিজের উপর বিশ্বাস হারালে হবে না। তাহলে সেরাটা মেলে ধরাই অসম্ভব হয়ে পড়বে? ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলার সময়ও দলকেই প্রাধান্য দিয়েছি। তাছাড়া পাশে ইতিবাচক মানসিকতার লোকজন থাকাও জরুরি।’ মোতেরায় ফাইনালে নামার দু’দিন আগে এসেছিল দুঃসংবাদ। দুর্ঘটনায় মারা যান তুতো বোন। সেই ধাক্কা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তোলে। খেলা দেখতে আসতে পারেননি বাবা। ছলছল চোখে ঈশান বললেন, ‘সবসময় আমার ব্যাটে বড় রান দেখতে চাইত বোন। তার এমন মৃত্যু মানতে পারছিলাম না। ফাইনাল ম্যাচ বলে বাড়ি যেতে পারিনি। এমন কঠিন পরিস্থিতি নিয়ে হার্দিক ভাইয়ের সঙ্গে খোলাখুলি আলোচনা করি। ও বলে, দলগত খেলায় ব্যক্তিগত যন্ত্রণার জায়গা নেই। সব ভুলে মাঠে নামতে হয়। নিজেকে তাই বলেছিলাম, বোনের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর একমাত্র উপায় বড় রান করা। সেজন্যই হাফ-সেঞ্চুরির পর আকাশের দিকে ব্যাট তুলেছিলাম। এই সাফল্য ওকে উৎসর্গ করছি।’ 
একদিনের ক্রিকেটে ডাবল সেঞ্চুরি রয়েছে তাঁর। তবু ওডিআই দলে জায়গা হারানো নিয়ে ভাবনাই ছেড়ে দিয়েছেন। ঈশানের দার্শনিকসুলভ মন্তব্য, ‘ওসব নিয়ে ভাবলে দল ঘোষণার পর হয়তো কষ্ট পাব। তাতে আমারই ক্ষতি। মানসিকভাবে পিছিয়ে পড়ব। আর দল-নির্বাচন আমার হাতে নেই। আমি তাই নিজের যা করণীয়, তাতেই মন দিই।’ তাহলে মোটিভশেনের মন্ত্র কী? তাঁর কথায়, ‘জানি, আমার চেয়ে ভালো ক্রিকেটারের অভাব নেই। রানের খিদে সেজন্যই জরুরি। সেই সঙ্গে উন্নতির ধারা বজায় রাখাও।’ বৃথা যায়নি ঈশানের লড়াই ও সংকল্প। মোতেরায় তিনি গেয়ে উঠলেন— দিনের পথিক মনে রেখো, আমি চলেছিলেম রাতে সন্ধ্যাপ্রদীপ নিয়ে হাতে...।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ