Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

হুগলি জেলা পরিষদেও কি নিঃশব্দে ‘পালাবদল’?

হুগলি জেলা পরিষদে বিজেপির কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। সভা বাতিলের ফলে শাসকদলের নিয়ন্ত্রণ স্পষ্ট। বিস্তারিত পড়ুন।

হুগলি জেলা পরিষদেও কি নিঃশব্দে ‘পালাবদল’?
  • ৯ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: রাজ্যে পালাবদলের পরে একপ্রকার নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছিল হুগলি জেলা পরিষদ। এই পরিস্থিতিতে তৃণমূল পরিচালিত জেলা পরিষদের সভাধিপতি সহ পদাধিকারীরা পদত্যাগ করবেন কি না, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে উঠেছিল। এর মধ্যেই একটি ঘটনাকে ঘিরে জেলা পরিষদে বিজেপির ‘কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা’ হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে। জানা গিয়েছে, গত ২৫ মে হুগলি জেলা পরিষদ সাধারণ সভা ডাকার নোটিস দিয়েছিল। আজ, মঙ্গলবার ৯ জুন সেই সভা হওয়ার কথা। পদাধিকার বলে সেখানে বিজেপির মন্ত্রী ও বিধায়করা আমন্ত্রিত। কিন্তু তারকেশ্বরে বিজেপির মন্ত্রীদের একটি বিশেষ কর্মসূচি থাকায় জেলা পরিষদের এই সাধারণ সভা মুলতবি রাখা হয়েছে। সোমবার রাতে সেকথা জানিয়েছেন বিজেপির মন্ত্রী তথা বলাগড়ের বিধায়ক সুমনা সরকার। যদিও সেই একই সময়ে তৃণমূল নেতা তথা জেলা পরিষদের সভাধিপতি রঞ্জন ধাড়া জানিয়েছেন, বৈঠক বাতিলের সংবাদ তিনি জানেন না। উল্লেখ্য, রঞ্জনকে হারিয়েই সুমনা এবার বিধানসভা নির্বাচনে জয়লাভ করেছেন।

Advertisement

আইন বিশেষজ্ঞদের দাবি, জেলা পরিষদের সাধারণ সভায় বিধায়ক, মন্ত্রীরা আমন্ত্রিত সদস্য। যদি ত্রিস্তর পঞ্চায়েত সদস্যদের নিয়ে ‘কোরাম’ হয়ে যায় তাহলে বিধায়ক বা মন্ত্রীদের অনুপস্থিতি বিশেষ গুরুত্ব পায় না। কিন্তু রাজ্যের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে শাসক প্রতিনিধিদের উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে, সভা বাতিল হয়েছে। এ থেকেই বোঝা যাচ্ছে, তৃণমূলের নিরঙ্কুশ গরিষ্ঠতার বোর্ডে বর্তমান শাসকদলের ‘নিয়ন্ত্রণ’ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তৃণমূলের জেলা পরিষদের নেতা তথা সভাধিপতি নিজেই এনিয়ে মুখ খুলতে ‘সাহস’ করেননি। তিনি বলেন, মঙ্গলবার সভা হবে। যদি কোনোকারণে সভা না হয়, তা নিয়ে মন্তব্য করব না। বলাগড়ের বর্তমান বিজেপি বিধায়ক তথা মন্ত্রী সুমনা সরকার বলেন, মঙ্গলবার জেলা পরিষদের সাধারণ সভা হচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রী ২০ জুন তারকেশ্বরে আসবেন। তা নিয়ে মঙ্গলবার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক আছে সেখানে। গ্রামীণ হুগলির উন্নয়নের কাজ আমাদেরই করতে হবে। ফলে, অন্যদিন বৈঠক ডাকতে বলা হয়েছে। আরেক মন্ত্রী ভাস্কর ভট্টাচার্য বলেন, মঙ্গলবারের সভা বাতিল করতে হবে। তৃণমূলের একসময়ের দাপুটে এক জেলা পরিষদ সদস্য বলেন, মঙ্গলবার বৈঠক হলে বকলমে পরিষদের ক্ষমতা হস্তান্তর হয়ে যেত। শাসকের প্রতিনিধি হিসাবে বিজেপির বিধায়ক, মন্ত্রীরাই কর্তৃত্ব করতেন। আমরা পদত্যাগ না করলেও পুতুল শাসক হয়ে যেতাম। বিজেপি নেতৃত্বের অনুপস্থিতির কারণে বৈঠক বাতিল হলেও আখেরে রাজ্যের শাসকদলের কর্তৃত্বই প্রতিষ্ঠা হল। প্রসঙ্গত, কেন্দ্রীয় ও রাজ্যের অর্থ কমিশন নিয়ে পরিকল্পনা তৈরি এবং পুরানো কাজের পর্যালোচনার জন্য সাধারণ সভা ডাকা হয়েছিল। জেলা পরিষদের নিজস্ব গঠনতন্ত্রে এই সভাই সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী। 

সম্পর্কিত সংবাদ