সংবাদদাতা, রানাঘাট: রাজ্যজুড়ে একের পর এক তৃণমূল পরিচালিত পুরসভা নিয়ে যখন টানাপোড়েন তুঙ্গে, ঠিক তখনই এবার শান্তিপুর পুরসভাকে ঘিরেও তৈরি হল রাজনৈতিক জল্পনা। রাজ্যে পালাবদলের পর থেকে সঠিক নাগরিক পরিষেবা না দিতে পারার কারণে এবার কি হাতছাড়া হতে চলেছে তৃণমূল পরিচালিত এই পুরসভা? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে শান্তিপুরের রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মনে। পরিস্থিতি এতই বেগতিক যে, পরিষেবা স্বাভাবিক করতে নদীয়া জেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত আবেদন জানাতে বাধ্য হয়েছেন শান্তিপুর পুরসভার তৃণমূল চেয়ারম্যান সুব্রত ঘোষ।
বিগত বেশ কিছুদিন ধরে পুরসভার অন্তর্গত একাধিক ওয়ার্ডে নাগরিক পরিষেবা তলানিতে এসে ঠেকেছে বলে ক্ষোভ মানুষের। পরিস্থিতি এমন যে পুরসভার কর্মী থেকে শুরু করে কাউন্সিলারদের বাড়ি গিয়ে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এমনকি, কিছুদিন আগে বেহাল রাস্তার কারণে ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলারকে ভাঙা রাস্তায় হাঁটতে বাধ্য করেন। সম্প্রতি একটি দলীয় হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপে ২ নম্বর ওয়ার্ডের এক তৃণমূল কাউন্সিলার পদত্যাগের ইচ্ছাপ্রকাশ করেন।
শান্তিপুর এলাকার কিছু বাসিন্দারা বক্তব্য, শুনছিলাম তো দু-এক দিন আগেই চেয়ারম্যান নাকি পদত্যাগ করবেন। পাল্টা আর একজন বলেন, শুনছিলাম তো কয়েকজন কাউন্সিলার আগে পদত্যাগ করবেন।
শান্তিপুর পুরসভার চেয়ারম্যান সুব্রত ঘোষ জানান, নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে পুরসভার কাজ সংক্রান্ত টাকা পয়সার লেনদেন বন্ধ রাখা হয়েছে। আর্থিক সংকট এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে এখন শান্তিপুরের কোনো ওয়ার্ডের রাস্তার আলো খারাপ হয়ে গেলেও পুরসভার কাছে তা সারানোর মতো ন্যূনতম পয়সাকড়ি নেই।
কাউন্সিলারদের পদত্যাগের ইচ্ছা নিয়ে চেয়ারম্যান জানান, আমরা যদি মানুষের কাছে সঠিক পরিষেবা পৌঁছে দিতে না পারি তবে, স্বাভাবিকভাবেই মানুষ ক্ষিপ্ত হবেন। খুব শীঘ্রই সব কাউন্সিলারদের নিয়ে একটি বৈঠক ডাকা হবে। সেখানেই পরবর্তী পদক্ষেপ স্থির করা হবে।
শান্তিপুর কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক স্বপন কুমার দাস জানান, বর্তমানে যে সময় এসে আমরা পৌঁছেছি তাতে মানুষ আর সহ্য করতে পারছেন না। মানুষ পা বাড়িয়ে বসে আছেন শান্তিপুর পুরসভায় নতুন সরকারের দায়িত্ব পাওয়া নিয়ে।
শান্তিপুরের রাজনৈতিক মহলের মতে একদিকে পুরসভার আর্থিক সংকট তো অন্যদিকে সাধারণ মানুষের তীব্র জনরোষ। পাশাপাশি পুর চেয়ারম্যানের জেলা প্রশাসনকে চিঠি দেওয়া কি আদতে আত্মসমর্পণেরই ইঙ্গিত? না কি পুরবোর্ড ধরে রাখার মরিয়া চেষ্টা!