Bartaman Logo
৯ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

খোদ শিক্ষামন্ত্রীর বিধানসভা এলাকায় স্কুল শিক্ষকশূন্য, দ্রুত নিয়োগের দাবি

ফালাকাটার স্কুলে নেই স্থায়ী শিক্ষক, শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন দ্রুত নিয়োগের আশ্বাস দিয়েছেন। এলাকার অভিভাবকরা শিক্ষার সংকটের জন্য উদ্বিগ্ন। বিস্তারিত পড়ুন।

খোদ শিক্ষামন্ত্রীর বিধানসভা এলাকায় স্কুল শিক্ষকশূন্য, দ্রুত নিয়োগের দাবি
  • ৯ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, ফালাকাটা: এলাকার বিধায়ক রাজ্যের স্কুল শিক্ষামন্ত্রী। অথচ, তাঁর বিধানসভা এলাকা ফালাকাটার একটি স্কুলে একজন স্থায়ী শিক্ষকও নেই। স্কুলে রয়েছে সুসজ্জিত শ্রেণিকক্ষ, কম্পিউটার, স্মার্ট ক্লাসরুম সহ প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো। তবুও শিক্ষক সংকটের জেরে কার্যত ধুঁকছে বিদ্যালয়টি। এই পরিস্থিতিতে দ্রুত শিক্ষক নিয়োগের দাবি তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকরা।

Advertisement

এ বিষয়ে রাজ্যের স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন বলেন, সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কোন বিদ্যালয়ে কতজন শিক্ষক রয়েছেন, বিদ্যালয়ের অবস্থা কী এবং কতজন পড়ুয়া রয়েছে, তার তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। খুব দ্রুত এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। 
ফালাকাটা ব্লকের ময়রাডাঙা গ্রাম পঞ্চায়েতের তালুকেরটারি জুনিয়র হাইস্কুলটি ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। শুরুতে দু’জন শিক্ষক নিয়ে বিদ্যালয়ের পঠনপাঠন স্বাভাবিকভাবেই চলছিল। সেই সময় ছাত্রছাত্রীর সংখ্যাও ছিল শতাধিক। কিন্তু চার-পাঁচ বছর আগে উৎসশ্রী প্রকল্পের আওতায় ওই দুই শিক্ষক অন্যত্র বদলি হয়ে যান। এরপর দু’জন অতিথি শিক্ষক দিয়ে কোনোরকমে বিদ্যালয়ের পাঠদান চালানো হচ্ছিল। গত বছর শিক্ষাদপ্তর বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে একজন কম্পিউটার শিক্ষিকাকে নিয়োগ করে। কিন্তু সেবছরই দুই অতিথি শিক্ষকও অবসর গ্রহণ করেন। 
এদিকে, বিদ্যালয়ের একমাত্র গ্রুপ-ডি কর্মীর চাকরিও নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় বাতিল হয়ে যায়। বর্তমানে বিদ্যালয়ে একজনও স্থায়ী শিক্ষক বা অশিক্ষক কর্মী নেই। একমাত্র কম্পিউটার শিক্ষিকা রাজেপ্তা কর’ই প্রতিদিন ফালাকাটা থেকে এসে বিদ্যালয়ের সমস্ত দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি একাই ছাত্রছাত্রীদের পাঠদান, মিড ডে মিলের তদারকি, প্রশাসনিক কাজ এবং কম্পিউটারের ক্লাস করান। 
বর্তমানে বিদ্যালয়ে পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ১৭ জন ছাত্রছাত্রী রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের ঠিক উলটো দিকে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শতাধিক পড়ুয়া রয়েছে। আগে সেখানকার অধিকাংশ ছাত্রছাত্রী এই জুনিয়র হাইস্কুলে ভর্তি হলেও, বর্তমানে শিক্ষক না থাকায় বহু অভিভাবক ট্রান্সফার সার্টিফিকেট নিয়ে সন্তানদের দূরের হাইস্কুলে ভর্তি করাচ্ছেন। একমাত্র আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবারগুলিই বাধ্য হয়ে এখনও এই বিদ্যালয়ে সন্তানদের পড়াশোনা করাচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা সুকুমার বর্মন, ধনঞ্জয় বর্মন ও ক্ষিতীশ বর্মনের দাবি, আমাদের এলাকার বিধায়কই রাজ্যের স্কুল শিক্ষামন্ত্রী। তাই তিনি এই বিদ্যালয়ের দিকে বিশেষ নজর দিন। একজনও শিক্ষক ছাড়া একটি স্কুল চলতে পারে না। অবিলম্বে শিক্ষক নিয়োগ করে বিদ্যালয়টিকে সুষ্ঠু পঠনপাঠনের ব্যবস্থা করা হোক। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ