Bartaman Logo
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

অরাজনৈতিক তকমার আড়ালে তৃণমূলিকরণ হচ্ছে পদ্ম শিবিরের?

দুর্গাপুজোর ঢাকে কাঠি পড়তে এখনও কিছুদিন বাকি আছে। তার আগেই বারাসত বিজেপির ‘তৃণমূলীকরণ’ নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

অরাজনৈতিক তকমার আড়ালে তৃণমূলিকরণ হচ্ছে পদ্ম শিবিরের?
  • ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

শ্যামলেন্দু গোস্বামী, বারাসত: দুর্গাপুজোর ঢাকে কাঠি পড়তে এখনও কিছুদিন বাকি আছে। তার আগেই বারাসত বিজেপির ‘তৃণমূলীকরণ’ নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। শহরের একাধিক বড়ো কালীপুজোকে কেন্দ্র করে প্রাক্তন তৃণমূল নেতা-কাউন্সিলারদের ‘অরাজনৈতিক’ পরিচয় সামনে আনার চেষ্টা চলছে বলে জল্পনা। তার আঁচ গিয়ে পড়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্মদিনের কর্মসূচি পালনের ক্ষেত্রেও। তবে এই কর্মসূচিও প্রকাশ্যে অন্তত ‘অরাজনৈতিক’। বিজেপির ব্যানারে সরাসরি কোনো অনুষ্ঠান নয়। তবে বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্ব নেপথ্যে থেকেই যে কর্মসূচি পরিচালনা করবে, বলাই বাহুল্য। সেই মঞ্চেই প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলারদের ‘অরাজনৈতিক’ পরিচয়ে যুক্ত করার চেষ্টা হচ্ছে বলে দাবি বিজেপির একাংশের।

Advertisement

বারাসতে কালীপুজোর খ্যাতি আছে রাজ্যজুড়ে। বিজেপির অন্দরে জল্পনা, এসব পুজো কমিটি, অনুষ্ঠান, সাংস্কৃতিক কর্মসূচি ইত্যাদির আড়ালে আসলে প্রাক্তন তৃণমূল নেতাদের জায়গা করে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। সামনে ‘অরাজনৈতিক’ পরিচয় আর পিছনে রাজনৈতিক যোগাযোগ! এতেই আপত্তি বিজেপির পুরানো কর্মীদের একাংশের। তাঁদের প্রশ্ন, যাঁদের বিরুদ্ধে তৃণমূলের হয়ে গুন্ডামি, দুর্নীতির অভিযোগ ছিল, তাঁরা হঠাৎ ‘অরাজনৈতিক’ হয়ে গেলেন কীভাবে? তাঁরা কি এবার ‘ভালো তৃণমূল’ হতে চাইছেন? দলের ওই অংশের আরও অভিযোগ, বিষয়টি শুধু পুজোর মধ্যেই আটকে নেই। মোদির জন্মদিন উপলক্ষ্যে ‘অরাজনৈতিক’ কর্মসূচির পরিকল্পনাতেও প্রাক্তন তৃণমূল নেতাদের যুক্ত করার চেষ্টা হচ্ছে। এই সমীকরণ নিয়েই সোচ্চার হয়েছেন বিজেপির ‘আদি’ বা পোড় খাওয়া নেতারা। বিজেপির স্থানীয় কর্মীদের দাবি, তৃণমূলের ওই কাউন্সিলারদের নিজেদের ওয়ার্ডে খুব একটা সামনে আনা হচ্ছে না। কারণ, সেখানে তাঁদের পুরানো রাজনৈতিক পরিচয় মানুষ সবটা জানে। তাই অন্য ওয়ার্ডে নিয়ে গিয়ে তাঁদের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচিতে যুক্ত করানোর চেষ্টা চলছে। ফলে যে ওয়ার্ডে বিজেপির পুরানো কর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে সংগঠন করেছেন, সেখানে আচমকাই অন্য শিবিরের প্রাক্তনদের উপস্থিতি বাড়ছে। যদিও বিজেপির এক নেতা নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, ‘পুজো বা সামাজিক অনুষ্ঠানকে রাজনৈতিক রং দেওয়া ঠিক নয়। বিভিন্ন মতের মানুষ সামাজিক অনুষ্ঠানে থাকতেই পারেন।’ এই বিতর্কের মধ্যেই দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের ‘তৃণমূলীকরণ’ বিরোধী বার্তা নতুন করে চর্চায় এসেছে। ‘তৃণমূলের সঙ্গে গোপন আঁতাত বরদাস্ত করা হবে না’ বলে তিনি কড়া অবস্থান জানিয়েছেন। প্রয়োজনে কঠোর সাংগঠনিক পদক্ষেপের কথাও বলেছেন। ফলে বারাসতে প্রশ্নটা এখন শুধু পুজো কমিটি নিয়ে নয়। শুধু মোদির জন্মদিনের অনুষ্ঠান নিয়েও নয়। প্রশ্ন ‘অরাজনৈতিক’ পরিচয়ের আড়ালে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে—বলছে ওয়াকিবহাল মহল।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ