Bartaman Logo
৫ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ভোটের রেজাল্টের পর আর দেখা মেলেনি, সাংসদ শতাব্দী রায়ও কি বেসুরো? চলছে জল্পনা

বীরভূমের সাংসদ শতাব্দী রায় ভোটের পর কেন আড়ালে? দলীয় সংকটে তাঁর ভূমিকা নিয়ে চলছে জল্পনা। বিস্তারিত জানুন।

ভোটের রেজাল্টের পর আর দেখা মেলেনি, সাংসদ শতাব্দী রায়ও কি বেসুরো? চলছে জল্পনা
  • ৫ জুন, ২০২৬ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: বিধানসভা নির্বাচনের কয়েকদিন আগে মুরারইয়ের জনসভায় দাঁড়িয়ে বীরভূমের তৃণমূল সাংসদ শতাব্দী রায় বলেছিলেন, ‘যাঁরা দলে থেকে বিরোধিতা করছেন, তাঁদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া উচিত। এমন শাস্তি, যাতে তাঁদের ছেলেমেয়েও আর বিরোধিতা করতে না পারে।’ দল বিরোধীদের কঠোর শাস্তির দাবি তোলা সেই শতাব্দী রায়ই কি এবার বেসুরো বাজছেন— এই প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে বীরভূমের রাজনৈতিক মহলে। কারণ, ভোটের পর থেকে জেলা তো বটেই, কলকাতায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক বা কর্মসূচিগুলোতেও শতাব্দীকে দেখা যাচ্ছে না, যা এই প্রশ্নকে আরও জোরালো করেছে। 

Advertisement

২০০৯ সাল থেকে বীরভূম লোকসভা কেন্দ্র থেকে টানা চারবার জয়ী হয়ে এলেও শতাব্দী রায় আদতে এই জেলার ভোটার নন। তাঁর স্থায়ী আস্তানা কলকাতায়। সচরাচর মাসে দু’-একবার তাঁকে জেলায় দেখা গেলেও, সাম্প্রতিক বিধানসভা ভোটের ফল ঘোষণার পর থেকে বীরভূমের মাটিতে তাঁর পা পড়েনি। তৃণমূলের এই চরম বিপদের দিনেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দেখা যায়নি তাঁকে। দলের এই দুর্দিনে কেন তাঁর দেখা মিলছে না, তা নিয়ে তৃণমূলের অন্দরে প্রশ্ন— দল ক্ষমতাচ্যুত হওয়াতেই কি তিনি শীর্ষ নেতৃত্বের থেকে দূরত্ব বাড়াচ্ছেন?
অভিনেত্রী থেকে রাজনীতিবিদ হয়ে ওঠার শুরুতে শতাব্দী রায়ের রাজনৈতিক ‘পরিপক্বতা’ নিয়ে কম চর্চা হয়নি। বিশেষ করে তাঁর সেই বহুল আলোচিত মন্তব্য জনমানসে আজও টাটকা— ‘আমাকে সিনেমায় দেখতে গেলে টাকা দিতে হয়। কিন্তু বিনা পয়সায় দেখতে গেলে ভোট দিতে হবে।’ তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জেলার রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করেন শতাব্দী। বিভিন্ন ব্লকে দলের ভেতরেই তিনি নিজস্ব একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী তৈরি করেছিলেন, যাঁদের বিরুদ্ধে এলাকায় বিস্তর ক্ষোভ ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। রাজনৈতিক মহলের দাবি— সেই বিতর্কিত লোকেদেরই বিভিন্ন সাংগঠনিক পদে বসাতে বড় অবদান থাকত সাংসদের। 
দলের একটা অংশের দাবি, দুবরাজপুরের অঞ্চল থেকে ব্লকের কোর কমিটি গঠন হোক কিংবা রামপুরহাটের শহর সভাপতি নির্বাচন— সবই নাকি নিয়ন্ত্রিত হতো তাঁর অঙ্গুলি হেলনেই। বিশেষ করে খয়রাশোল এবং দুবরাজপুর ব্লকের সংগঠন ও প্রশাসনকে তিনি নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখেছিলেন। বিক্ষুব্ধ শিবিরের একাংশের দাবি, এই দুই ব্লকের ক্ষমতার রাশ কুক্ষিগত করার নেপথ্যে ছিল সেখানকার বিপুল আর্থিক সমীকরণ। দুবরাজপুরের বিজেপি বিধায়ক অনুপ সাহার অভিযোগ, দুবরাজপুরের বালিঘাট কিংবা খয়রাশোলের কয়লা খনি থেকে যে বিপুল পরিমাণ কাঁচা টাকার লেনদেন হতো, তার সবটাই নিজের ঘনিষ্ঠদের দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করতেন সাংসদ। 
বর্তমানে তৃণমূল ভেঙে দুই টুকরো হয়ে গিয়েছে। বিধানসভার পর এবার ‘অপারেশন লোকসভা’ নিয়ে গুঞ্জন তুঙ্গে। কিন্তু এই সময় রহস্যজনক ভাবে নিরব সাংসদ। সূত্রের খবর, তৃণমূলের সাংসদদের একটি বড় অংশই এবার শিবির বদলের জন্য পা বাড়িয়ে রেখেছেন। সেই তালিকায় বীরভূমের এই দাপুটে সাংসদও রয়েছেন কি না, তা নিয়ে কৌতূহল বাড়ছে। এই বিষয়ে সত্যতা যাচাই করতে সাংসদকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাঁর মোবাইল বন্ধ পাওয়া গিয়েছে। এমনকী মেসেজ পাঠানো হলেও তাঁর থেকে কোনো উত্তর মেলেনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বীরভূমের এই সাংসদের আড়ালে থাকাই এখন জেলার রাজনীতির সবথেকে বড় রহস্য। -নিজস্ব চিত্র

সম্পর্কিত সংবাদ