Bartaman Logo
১২ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

একদা ভোট ময়দানের ‘অমল-অমূল্য ধন’ হারিয়েই কি হার মানসের, সবংয়ে জল্পনা

প্রায় অর্ধ-শতক ধরে আছেন সংসদীয় রাজনীতিতে। ১৯৮২সাল থেকে টানা সবংয়ের বিধায়ক। রাজ্য মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও সামলেছেন। সবংয়ের মানস ভুঁইয়া এনিয়ে নিজের গড়ে দ্বিতীয়বার পরাজিত হলেন।

একদা ভোট ময়দানের ‘অমল-অমূল্য ধন’ হারিয়েই কি হার মানসের, সবংয়ে জল্পনা
  • ৬ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, খড়্গপুর: প্রায় অর্ধ-শতক ধরে আছেন সংসদীয় রাজনীতিতে। ১৯৮২সাল থেকে টানা সবংয়ের বিধায়ক। রাজ্য মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও সামলেছেন। সবংয়ের মানস ভুঁইয়া এনিয়ে নিজের গড়ে দ্বিতীয়বার পরাজিত হলেন। এর আগে ২০০১ সালে সিপিএম সমর্থিত নির্দল প্রার্থীর কাছে হেরে গিয়েছিলেন মানসবাবু। আর এবার তাঁকে পরাজয় স্বীকার করতে হল তাঁরই একসময়ের ছায়াসঙ্গী বিজেপির অমল পন্ডার কাছে। অমলবাবুর নির্বাচনি এজেন্ট আবার ছিলেন অমূল্য মাইতি। বহু বছর ধরে মানসবাবুরও ভোট-সেনাপতি হিসেবে কাজ করেছেন অমূল্যবাবু। এবার এই জয়ে অমূল্যবাবুকেই ‘কৃতিত্ব’ দিয়েছেন অমলবাবু। আর সবংয়ের মানুষ বলছেন, অমল-অমূল্য জুটির কাছেই হেরে গেলেন দোর্দণ্ডপ্রতাপ মানসবাবু।

Advertisement

মানসবাবু বলেন, বাম রাম ও কংগ্রেসের ত্রিমুখী শক্তি, অর্থবল আর কমিশন ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর পেশীশক্তির কাছেই হেরে গেলাম। যদিও, ১৯৯৬সালের কথা মনে করিয়ে দিয়ে এবারের পরাজয় নিয়ে সন্দেহ প্রকাশও করেন মানসবাবু। তিনি বলেন, ১৯৯৬ সালে ব্যালট পেপার টেম্পারিং করে আমাকে হারিয়ে দিয়েছিল সিপিএম। পরে আদালতের নির্দেশে আমি জয়ী হই। আর এবার মনে হচ্ছে ওরা ডিজিটাল টেম্পারিং করেছে। না হলে সবংয়ের বুকে এই হার কোনোমতেই সম্ভব নয়। বাংলাতেও বিজেপির এই বিপুল জয় কোনোমতেই সম্ভব নয়। কিন্তু, সবংয়ের মানুষ তো অমল-অমূল্য জুটির ক্যারিশমার কথা বলছেন? মানসবাবু বলেন, এটা সত্যিই, একসময় যাঁরা আমার জন্য নির্বাচনে কাজ করেছেন তাঁদের মধ্যে অন্যতম অমূল্য মাইতি। তবে বিকাশ ভুঁইয়া, আবু কালাম বক্সরাও ছিলেন। আর অমলবাবু আমার ভোট-ম্যানেজার ছিলেন না। আমার হাত ধরেই তিনি তৃণমূলে এসেছিলেন। তবে, মন থেকে কোনোদিন তৃণমূল করেননি।
একুশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে ২০২০সালের ডিসেম্বর মাসে শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন অমূল্যবাবু। ওই বছরের বিধানসভা নির্বাচনে তাঁকেই সবংয়ে প্রার্থী করেছিল বিজেপি। তবে, প্রায় ১০হাজার ভোটে মানসবাবুর কাছে হেরে যান। চলতি বছরের শুরুতেই শুভেন্দুর হাত ধরে বিজেপিতে যোগ দেন অমলবাবু। এবার তাঁকে প্রার্থী করে বিজেপি। অমলবাবুকে জিতিয়ে নিয়ে আসার দায়িত্ব অমূল্য মাইতির উপর দেওয়া হয়। তাতে যে তিনি একশো শতাংশ সফল, তা বলাই বাহুল্য। ১১ হাজারের কিছু বেশি ভোটে অমলবাবুর কাছে হেরেছেন মানসবাবু। নিজের নির্বাচনি এজেন্ট অমূল্য মাইতিকে কৃতিত্ব দেওয়া ছাড়াও সবংয়ের মানুষকে এই জয় উৎসর্গ করেন অমলবাবু। অমলবাবু বলেন, কেন আমাকে দল ছাড়তে হয়েছিল, আর কেনই বা মানসবাবুকে এবার হারতে হল তা পর্যালোচনা করুন উনি। তবে কি অমল-অমূল্য‘ধন’ হারিয়েই পরাজয়? মানসবাবু সরাসরি স্বীকার না করলেও পরোক্ষে মেনে নিচ্ছেন সবংয়ের বেশিরভাগ তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ