নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: হুগলিতে ইস্তফা দিলেন তৃণমূলের আরও এক পুর চেয়ারম্যান। বাঁশবেড়িয়া পুরসভার চেয়ারম্যান তথা প্রবীণ নেতা তাপস চট্টোপাধ্যায় মহকুমা শাসক ও বোর্ড অব কাউন্সিলারসের কাছে তাঁর পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন। পাশাপাশি, পুরসভার এক সিআইসি সদস্য সহ তিনজন কাউন্সিলার আগেই তাপসবাবুর কাছে ইস্তফাপত্র জমা দিয়েছেন। এর ফলে, এই পুরসভা থেকে তৃণমূলের পতাকা সরে যাওয়া একপ্রকার নিশ্চিত হয়ে গেল বলা যায়। কারণ, বাঁশবেড়িয়ায় তৃণমূল এখনও সংখ্যাগরিষ্ঠ। কিন্তু দলের ডামাডোল এবং রাজ্যে পালাবদলের পরে কোনো কাউন্সিলারই চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিতে চাইছেন না। ফলে, নতুন করে তৃণমূলের নেতৃত্বে বোর্ড গঠন প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই ঘটনায় এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। বিশেষত, বর্ষার মরশুমে নাগরিক পরিষেবা নিয়ে বিপুল ভোগান্তির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। রাজ্য সরকার বা জেলা প্রশাসন বর্তমান পরিস্থিতিতে পুরসভায় প্রশাসক বসালেও তাঁরা কতটা পরিস্থিতি সামাল দিতে পারবেন, প্রশ্ন থাকছে।
মঙ্গলবার বাঁশবেড়িয়া পুরসভার পদত্যাগী চেয়ারম্যান বলেন, রাজ্য সরকার স্পষ্ট জানিয়েছে, তাদের পক্ষে পুরসভার জন্য বিশেষ বাজেট করা সম্ভব নয়। ফলে আর্থিক সংকটের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এই অবস্থায় পদ আঁকড়ে থাকা নাগরিকদের স্বার্থের পরিপন্থী। তাই পদত্যাগ করেছি। আমার কাছে একজন চেয়ারম্যান ইন কাউন্সিল সদস্য সহ তিনজন পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। বাঁশবেড়িয়ার (সপ্তগ্রাম) সদ্য নির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক স্বরাজ ঘোষ বলেন, নাগরিকদের পরিষেবার দায়িত্ব থেকে যাঁরা পালিয়ে গিয়ে ভাবছেন জবাবদিহি করতে হবে না, তাঁরা ভুল ভাবছেন। পুরবোর্ড তৃণমূল চালাক বা ছেড়ে দিক, অনিয়মের তদন্ত হবে। পদত্যাগ নিয়ে যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রশাসন নেবে। পুরসভার এক তৃণমূল কাউন্সিলার বলেন, রাজ্যে পালাবদলের পরে দলের পরিস্থিতি ছন্নছাড়া। এই অবস্থায় নতুন করে বোর্ড গড়া সম্ভব নয়। ফলে, বাঁশবেড়িয়ার বোর্ড হাতছাড়া হচ্ছে বলা যায়।
২২আসনের বাঁশবেড়িয়া পুরসভায় তৃণমূলের কাউন্সিলার ২১ জন। একজন সিপিএমের কাউন্সিলার আছেন। তাপসবাবু ও বাকি তিনজনকে বাদ দিলেও তৃণমূলের কাছে ১৭ জন কাউন্সিলার থাকে। তা নতুন বোর্ড গড়ার জন্য যথেষ্ট। কিন্তু বাস্তবে তৃণমূলের সেই দাপটই নেই যে, তারা নতুন বোর্ড গড়ার পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। ফলে, চেয়ারম্যানের পদত্যাগের সঙ্গেই বাঁশবেড়িয়ার তৃণমূলের বোর্ডের বিসর্জনও নিশ্চিত হয়ে গিয়েছে। এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
প্রসঙ্গত, এর আগে ভদ্রেশ্বর পুরসভার চেয়ারম্যান ও চন্দননগর পুরসভার মেয়র পদ ছেড়েছেন। পরিস্থিতি বিচার করে পুর চেয়ারম্যানদের পদত্যাগের হিড়িক পড়তে পারে এমনই ইঙ্গিত দিয়েছিল রাজনীতির পর্যবেক্ষকরা। বাস্তবে পরিস্থিতি সেদিকেই যাচ্ছে।