নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কালীঘাট মন্দিরে দীর্ঘদিন ধরে চলা অনিয়ম, আর্থিক গরমিল এবং পবিত্রতা লঙ্ঘনের অভিযোগে এবার সরাসরি দেশের সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হল সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবার। পরিবার পরিষদের সম্পাদক দেবর্ষি রায়চৌধুরী ভারতের প্রধান বিচারপতির কাছে একটি বিস্তারিত চিঠি পাঠিয়ে মন্দির পরিচালনায় অবিলম্বে হস্তক্ষেপ এবং সিবিআই তদন্ত অথবা অবসরপ্রাপ্ত হাইকোর্টের বিচারপতির নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠনের আরজি জানিয়েছেন।
কালীঘাট মন্দিরের গয়না ও সম্পদের হদিশ না-থাকার অভিযোগ আগেই তুলেছিল সার্বণরা। এই চিঠিতে তারা গয়না ও মূল্যবান সামগ্রী রাখার ব্যাংক ভল্টের চাবি ৪৬ বছর ধরে নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা জানায়। এই ঘটনায় কোনও এফআইআর পর্যন্ত দায়ের হয়নি। ফলে ভল্টের ভিতরে আদৌ গয়না অক্ষত আছে কি না, বা কী পরিমাণ সম্পদ রয়েছে তার কোনো হিসাব নেই। চিঠিতে বলা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে গঠিত ইনভেন্টরি কমিটির প্রতি পনেরো দিন অন্তর গয়নার হিসাব করে তা ব্যাংকে জমা রাখার কথা ছিল। কিন্তু বছরের পর বছর সেই কমিটি অচল।
মন্দির পরিচালনার সামগ্রিক ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন সর্বোচ্চ আদালতে নালিশ জানিয়েছে সাবর্ণ পরিবার। তাদের বক্তব্য, ১৯৬০ সালে সুপ্রিম কোর্ট কালীঘাট মন্দিরকে একটি পাবলিক এনডাওমেন্ট ট্রাস্ট হিসেবে ঘোষণা করে একটি পরিচালন স্কিম তৈরি করে দেয়। সেই স্কিম অনুযায়ী দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা জজকে চেয়ারম্যান করে সেবায়েত ও সেবায়েত নয়, এমন সদস্যদের নিয়ে একটি কমিটি গঠনের কথা। কিন্তু সেই কমিটি কার্যত অকেজো হয়ে গিয়েছে। প্রতি পাঁচবছর অন্তর নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও ২০১৪ সালের পর থেকে কোনো নির্বাচনই হয়নি। সাবর্ণদের অভিযোগ, নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও গর্ভগৃহের ভিতরে অবাধে মোবাইল ও ক্যামেরায় ভিডিয়ো রেকর্ডিং হচ্ছে। সেবায়েত নয় এমন ব্যক্তিদের গর্ভগৃহে অবাধ প্রবেশ, মন্দির চত্বরে দালালদের দৌরাত্ম্যে ভক্তদের হয়রানি, নাটমন্দির বন্ধ রেখে দর্শনে বাধা সৃষ্টি এবং নিত্যপুজো, ভোগ ও আরতি সময়মতো না-করার মতো অভিযোগও তোলা হয়েছে। সাবর্ণ পরিবার সুপ্রিম কোর্টের কাছে তিনটি দাবি জানিয়েছে। প্রথমত, মন্দিরের সমস্ত অনিয়ম ও দুর্নীতির তদন্তে অবিলম্বে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হোক অথবা হাইকোর্টের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে বিশেষ তদন্ত দল (সিট) গঠন করা হোক। দ্বিতীয়ত, সুপ্রিম কোর্টের স্কিম মেনে জেলা জজ, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের প্রতিনিধি, সাবর্ণ পরিবারের অন্তত দুজন সদস্য এবং সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে নতুন করে মন্দির কমিটি গঠন করা হোক। তৃতীয়ত, পরিবারের ঐতিহাসিক দাবিকে দেওয়া হোক স্বীকৃতি।