Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬

ইরান সংকট: বিশ্বজুড়ে আর্থিক মন্দার ভ্রুকুটি? অশোধিত তেল ১০০ ডলার ছাপিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা

ইরান সংকটের জের। বিশ্বজুড়ে কি আর্থিক মন্দার ভ্রুকুটি? বিভিন্ন রাষ্ট্র এবং আর্থিক সমীক্ষক সংস্থা এরকম এমনই আশঙ্কার কথা জানিয়েছে। ভারত সরকার অবশ্য এখনই এতটা নিরাশাবাদী হতে নারাজ।

ইরান সংকট: বিশ্বজুড়ে আর্থিক মন্দার ভ্রুকুটি? অশোধিত তেল ১০০ ডলার ছাপিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা
  • ৬ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ইরান সংকটের জের। বিশ্বজুড়ে কি আর্থিক মন্দার ভ্রুকুটি? বিভিন্ন রাষ্ট্র এবং আর্থিক সমীক্ষক সংস্থা এরকম এমনই আশঙ্কার কথা জানিয়েছে। ভারত সরকার অবশ্য এখনই এতটা নিরাশাবাদী হতে নারাজ। সরকারি সূত্রে বরং মনে করা হচ্ছে, এই অনিশ্চয়তা সাময়িক। দ্রুত কিছু সমাধান সূত্র পাওয়া যাবে। সরকারি সূত্রে বলা হচ্ছে, ভারতের কাছে ২৫ দিনের মতো অশোধিত তেলের সাপ্লাই রয়েছে। জ্বালানির অন্য পণ্যের ভান্ডারও ২৫ দিনের বেশি রয়েছে। আরও জানা যাচ্ছে, রাশিয়া থেকে তেল আমদানি কমানো হবে না। বরং বাড়ানো হবে। সুতরাং  আশঙ্কার কারণ নেই। যদিও  বহির্বিশ্ব ও ভারতের অন্দরে আর্থিক অস্থিরতা ক্রমেই মাথাচাড়া দিচ্ছে। বিশ্বের প্রতিটি বৃহত্তর আর্থিক শক্তিধর দেশের শেয়ারবাজারে ধস নেমেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৮৫ ডলার ছুঁতে চলেছে। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ চললে এই মাসের মধ্যেই দর ১০০ ডলারও ছাড়িয়ে যাবে। 

Advertisement

সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হল, প্রাকৃতিক গ্যাসের সাপ্লাই ক্রমেই সংকুচিত হয়ে আসছে। অশোধিত তেলের দাম এভাবে উল্কার গতিতে ঊর্ধমুখী হলে ভারতও পেট্রপণ্যের দাম খুব বেশিদিন না বাড়িয়ে রাখতে সক্ষম হবে না।  হরমুজ প্রণালীর ভবিষ্যৎ স্থির করে দেবে, বিশ্ব মন্দা নিয়ে উত্থাপিত প্রশ্নের উত্তর। তেলের ট্যাঙ্কারের বিমার প্রিমিয়াম আকাশ স্পর্শ করেছে। বহু আন্তর্জাতিক বিমা সংস্থা পশ্চিম এশিয়ার তেল ট্যাঙ্কার সংস্থার বিমা রিনিউ করায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এমনকি, ইতিমধ্যেই বিমা সংস্থাগুলিকে বিপুল অঙ্কের ক্লেম মেটাতে হচ্ছে। যা অর্থনীতির উপর বিরাট চাপ সৃষ্টি করেছে। পশ্চিম এশিয়া থেকে আমদানির উপর  নির্ভরশীল এশিয়া ও ইউরোপের দেশগুলিতে তেল আমদানি কার্যত স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে একবার যদি পেট্রপণ্যের দাম বাড়তে শুরু করে, তাহলে মূল্যবৃদ্ধির ছায়া ঘনাবে। আর তেমন হলে মূল্যবৃদ্ধিতে রাশ টানতে সর্বাগ্রে ভারতের রিজার্ভ ব্যাংক অথবা আমেরিকার ফেডারেল ব্যাংক সর্বাগ্রে রেপো রেট বাড়াতে শুরু করবে। সাম্প্রতিক অতীতে এই রেট ক্রমেই কমানো হচ্ছিল। আবার তা বাড়লে অর্থনীতি পূর্ববর্তী সংকটেই ফিরে যেতে পারে। মূল্যবূদ্ধি এবং বাড়িগাড়ির ঋণের সুদ বৃদ্ধি, দু’য়ের আঁচই এসে পড়বে আমআদমির পকেটে।
 ট্রাম্প প্রশাসনের বিবৃতি ও  আচরণের গতিপ্রকৃতি থেকে স্পষ্ট যে, তারা যত সহজে ইরানকে বশ করে দ্রুত যুদ্ধ থামিয়ে দিতে সক্ষম হবে বলে ভেবেছিল, সেটি হচ্ছে না। ডোনাল্ড ট্রাম্প বলছেন, এক দেড় মাস চলতে পারে। এমনটা হলে সামরিক ব্যয় মাত্রাছাড়া হবে আমেরিকার। তার আঁচ পড়বে বিশ্বজুড়ে। সেদেশে বেকারত্ব, মূল্যবৃদ্ধি বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের অন্তর্বর্তী নির্বাচনে এর ধাক্কা সামলাতে হবে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টিকে। বিশ্ব সামরিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ তাই বলছেন, এখন ট্রাম্পই চাইছেন দ্রুত একটা মীমাংসা হোক। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ