


দুবাই, নয়াদিল্লি ও কলম্বো: মার্কিন সাবমেরিন থেকে টর্পেডো হামলা ভারত মহাসাগরে। ভারতে আন্তর্জাতিক মহড়া কর্মসূচি থেকে ফেরার পথেই ধ্বংস করা হয়েছে ইরানের রণতরী। মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৮৭ নাবিকের। বুধবার ভোররাতের এই ঘটনায় এবার ওয়াশিংটনকে চরম হুঁশিয়ারি দিল তেহরান। বৃহস্পতিবার ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সুর চড়িয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, ‘ইরান উপকূল থেকে প্রায় ২ হাজার মাইল দূরে সমুদ্রে নির্মম ঘটনা ঘটিয়েছে আমেরিকা। ভারতীয় নৌসেনার ‘অতিথি’ ছিল ফ্রিগেট ডেনা। তাতে ছিলেন ১৩০ জন নাবিক। কোনো রকম সতর্কবার্তা ছাড়াই আন্তর্জাতিক জলসীমায় সেই রণতরীতে আঘাত করা হয়েছে। আমার কথা লিখে রাখুন। আমেরিকা যে নজির তৈরি করল, সেজন্য তাদের চরম পস্তাতে হবে।’ শুধু হুমকিতেই থেমে নেই ইরান। আমেরিকার বিরুদ্ধে প্রত্যাঘাতের দাবিও করেছে তাদের এলিট বাহিনী আইআরজিসি। উত্তর পারস্য উপসাগরে একটি মার্কিন তেলবাহী জাহাজে তারা পালটা হামলা চালিয়েছে। ইরানের সরকারি মিডিয়ায় দাবি, আক্রান্ত মার্কিন ট্যাঙ্কারটিকে মাঝ সমুদ্রে দাউদাউ করে জ্বলতে দেখা গিয়েছে।
শ্রীলঙ্কা উপকূলের কাছে ভারত মহাসাগরে মার্কিন টর্পেডো হামলায় ইরানি রণতরী ধ্বংস হওয়ায় স্বাভাকিভাবেই উদ্বেগ বেড়েছে নয়াদিল্লির। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ কার্যত ভারতের দোরগোড়ায় চলে আসার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে এদিন কলম্বো জানিয়েছে, ইরানের আরও একটি রণতরী তাদের উপকূলের দিকে রওনা হয়েছে। তাতে রয়েছেন শতাধিক নাবিক। বুধবার ঘটনার পর স্বাভাবিকভাবেই এই ইরানি যুদ্ধজাহাজ নিয়েও তৈরি হয়েছে আশঙ্কার মেঘ। শ্রীলঙ্কার মন্ত্রী নলিন্দা জয়তিসা বলেছেন, আমাদের দেশের জলসীমার কাছেই রয়েছে ওই রণতরী। অন্য একটি সরকারি সূত্র থেকে জানানো হয়েছে, নিরাপত্তার কারণে জাহাজটিকে যাতে শ্রীলঙ্কা সরকার তাদের জলসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেয়, সেজন্য ইরান সরকারের তরফে অনুরোধ করা হয়েছিল। মার্কিন টর্পেডো হামলার শিকার হওয়া প্রথম জাহাজটি থেকে জীবিত উদ্ধার করা ইরানি নাবিক-নৌসেনাদের চিকিৎসা চলছে গল শহরের হাসপাতালে। সেই হাসপাতালের ছবিও এদিন প্রকাশ্যে এসেছে। তবে, বুধবার ভোররাতে হামলার ওই ঘটনায় মার্কিন বাহিনী ভারতের কোনো বন্দর ব্যবহার করেছে বলে খবর প্রকাশ করেছিল কিছু আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। সেই রিপোর্ট অসত্য বলে খারিজ করে দিয়েছে নয়াদিল্লি।