


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: আইপ্যাক মামলায় সুপ্রিম কোর্টে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)কে বৃহত্তর প্রশ্নের মুখে ফেলে দিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। সংবিধান এবং সংশ্লিষ্ট আইন অস্ত্র করে রাজ্য সরকারের আইনজীবী শ্যাম দিওয়ান প্রশ্ন তুললেন, ইডি কি কোনো রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে সরাসরি মামলা করতে পারে? সেই অধিকার আদৌ আছে? এভাবে মামলা করা যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার জন্য
ভয়ঙ্কর। মামলাটি সাংবিধানিক অধিকারের প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। তাই দুই বিচারপতির বেঞ্চ নয়। সুপ্রিম কোর্টে বৃহত্তর বেঞ্চে শুনানির প্রয়োজন বলে সওয়াল করেন শ্যাম দিওয়ান, কপিল সিবাল। যা শুনে বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র এবং বিচারপতি এন ভি আঞ্জারিয়া জানিয়ে দিলেন, সেই অধিকারের বিষয়টিই তো শুনানি
করছি। তবে এটিও কি ঠিক যে, তদন্তের কাজে বাধা দিতে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী চলে যাবেন? গত ৮ জানুয়ারি যা হয়েছে, তা মোটেই সুখকর নয়। এ ধরনের ঘটনা আগে ঘটেনি। তাই আজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গিয়েছেন। কাল অন্য রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী
চলে যাবেন। সেই কারণেই বৃহত্তর বিষয় বিচার্য। স্রেফ আইপ্যাকের পশ্চিমবঙ্গ মামলার বিষয় নয়। মামলার বিস্তারিত শুনানি চলবে। আগামী মঙ্গলবার ২৪ মার্চ ফের শুনানি হবে।
কয়লা কেলেঙ্কারিতে প্রিভেনশন অব মানি লন্ডারিং আইনে পুরনো এক মামলায় তদন্তের নামে গত ৮ জানুয়ারি তৃণমূলের নির্বাচনি স্ট্র্যাটেজি সংস্থা আইপ্যাকের দপ্তরে, মালিক প্রতীক জৈনের বাড়িতে হানা দেয় ইডি। সেই তদন্তে রাজ্য পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাধা দিয়েছেন, নথি কেড়ে নিয়েছেন বলে ইডি’র অভিযোগ। তারাই সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ রাজ্য পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থার আর্জি জানিয়েছে। সিবিআই তদন্ত চেয়েছে। এদিন ইডির হয়ে সওয়াল করেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা।
শুনানি অন্তত চার সপ্তাহ পিছিয়ে দিতে এদিন আবেদন করে রাজ্য। আপত্তি করে ইডি। আদালত জানায়, এদিনই শুনানি হবে। সেই মতো মধ্যে এক ঘণ্টার লাঞ্চ ব্রেক বাদে বেলা ১১ টা থেকে দুপুর সাড়ে তিনটের পরেও চলল শুনানি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী কপিল সিবালের সওয়াল, ইডি এভাবে আদালতে সরাসরি মামলা করে সিবিআই তদন্ত চাইতেই পারে না। শ্যাম দিওয়ান বলেন, ইডি কেন্দ্রীয় সরকারের একটি অঙ্গ। অর্থমন্ত্রকের একটি দপ্তর। তাদের এভাবে সরাসরি কোনো রাজ্যের বিরুদ্ধে মামলা করাটা যুক্তরাষ্ট্র কাঠামোর জন্য ডেঞ্জারাস।