


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: আইপ্যাক মামলায় বুধবার রাজ্য সরকার এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যের পালটা জবাব জমা দিল এনফোর্সমেন্ট ডায়রেক্টরেট (ইডি)। সকালে শুনানিতে হলফনামা জমা করতে সময় চাওয়া হলেও বিকেলে তা সুপ্রিম কোর্টের রেজিষ্ট্রিতে জমা দেওয়া হয়। সেই মতো বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র এবং বিচারপতি কে ভি বিশ্বনাথনের বেঞ্চ শুনানির সময় জানিয়ে দিল, দু’ পক্ষের বক্তব্যই শুনব। আগামী ১৮ মার্চ পরবর্তী শুনানি হবে। আরও আগে শুনতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আপনারা উভয়পক্ষই যখন বলছেন হোলির পর, তখন মামলা একমাস পিছিয়ে দেওয়া হল।
যদিও হাইকোর্ট এড়িয়ে সরাসরি সুপ্রিম কোর্টে এই মামলা দায়ের করার কোনো অধিকার ইডির নেই বলেই এদিন সওয়াল করেন রাজ্য
স্বরাষ্ট্র দপ্তর এবং তৎকালীন ডিজিপি রাজীব কুমারের আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি। এই মামলায় রাজ্য সরকার, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ কলকাতার পুলিস কমিশনার মনোজ কুমার ভার্মা, ডিসিপি (দক্ষিণ) প্রিয়ব্রত রায়কে বিবাদী করেছে ইডি। বিবাদীর পক্ষে অন্য আইনজীবী সিদ্ধার্থ লুথরা এবং মানেকা গুরুস্বামী এদিন আদালতে বলেন, কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসাবে কাজে লাগানো হচ্ছে।
যদিও প্রতিবাদ করেন ইডির আইনজীবী কেন্দ্রের অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এস ভি রাজু। তিনি বলেন, ইডিকে অস্ত্র নয়। বরং ইডিকে সন্ত্রাসের মুখে পড়তে হচ্ছে। সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতার দাবি, সরাসরি সুপ্রিম কোর্টে মামলা করার অধিকার রয়েছে ইডির। তদন্তের কাজে নেমে যেভাবে বাধা দেওয়া হয়েছে, তা আদতে মৌলিক অধিকারে ধাক্কা। তাই গত ১৫ জানুয়ারি আদালতের নির্দেশ মতো বিবাদীরা যে বক্তব্য দিয়েছেন, তার পালটা হলফনামা জমা করল ইডি।
মোট ৬৬ পাতার হলফনামায় ২৮ বার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দাবি, কয়লা পাচার কাণ্ডের তদন্তের কাজে নেমে গত ৮ জানুয়ারি কলকাতায় যেভাবে ইডির কাজে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ বাধা দিয়েছে, তার সিবিআই তদন্ত হওয়া উচিত। এখন দেখার, পরবর্তী শুনানিতে কী হয়।