Bartaman Logo
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

পাঁচ বছর আগে ভোট-হিংসায়ম নিহত বিজেপি কর্মীর দেহ তুলে এনে শুরু তদন্ত

পাঁচ বছর আগে দেহ সমাধিস্থ করা হয়েছিল। রবিবার সেই সমাধি থেকে তোলা হল বিজেপি কর্মী আস্তিকচন্দ্র দাসের দেহ।

পাঁচ বছর আগে ভোট-হিংসায়ম নিহত বিজেপি কর্মীর দেহ তুলে এনে শুরু তদন্ত
  • ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত ও সংবাদদাতা, বসিরহাট: পাঁচ বছর আগে দেহ সমাধিস্থ করা হয়েছিল। রবিবার সেই সমাধি থেকে তোলা হল বিজেপি কর্মী আস্তিকচন্দ্র দাসের দেহ। ২০২১ সালে বিধানসভা ভোট পরবর্তী হিংসায় তাঁর মৃত্যু হয়েছিল বলে পরিবারের অভিযোগ। সেই মৃত্যু নিয়ে দায়ের হওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে এতদিন পর ফের শুরু হল তদন্ত। সমাধি থেকে দেহ তোলার ঘটনাকে ঘিরে এদিন ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয় সন্দেশখালির ন্যাজাটে।

Advertisement

সন্দেশখালি ১ নম্বর ব্লকের কালীনগর অঞ্চলের ঝনঝনিয়া এলাকার বাসিন্দা ছিলেন আস্তিকবাবু। ২০২১ সালে বিধানসভা ভোটের ফলপ্রকাশের পর এলাকায় তৃণমূলের বিজয় মিছিল বেরিয়েছিল। সেই মিছিল থেকে কয়েকজন আস্তিকের উপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ। তাঁকে বেধড়ক মারধর করা হয়। হামলায় তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। পরিবারের দাবি, গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় আস্তিককে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হলেও বাধা দেয় শাহজাহান বাহিনীর লোকজন। শেষ পর্যন্ত বাড়িতেই কয়েকদিন ওই অবস্থায় থাকার পর মৃত্যু হয় তাঁর। পরিবারের আরও অভিযোগ, আস্তিকবাবুর মৃত্যুর পরও তাদের উপর চলে নানারকম অত্যাচার। সেই সময় পুলিশ তাঁদের পাশে দাঁড়ায়নি। থানায় লিখিত অভিযোগ পর্যন্ত নেওয়া হয়নি। ময়নাতদন্তও করতে দেওয়া হয়নি বলে দাবি পরিবারের। এমনকি, নানাভাবে ভয় দেখিয়ে পুলিশের নজরদারিতে আস্তিকের দেহ সমাধিস্থ করতে বাধ্য করা হয়েছিল বলে অভিযোগ মৃতের ছেলে সুব্রত দাসের। এরপর কেটে গিয়েছে পাঁচ-পাঁচটা বছর। রাজ্যে পালাবদলের পরে আস্তিকের মৃত্যুর বিচার চেয়ে ফের থানায় লিখিত অভিযোগ করেন পরিবারের সদস্যরা। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই রবিবার সমাধি থেকে দেহ তোলা হল। ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সমাধি খোলা হয়। ঘটনাস্থলে ছিল পুলিশ, চিকিৎসক এবং ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা। দেহ তোলার পর প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।  মৃতের ছেলে সুব্রত বলেন, ‘ওই সময় পুলিশ তৃণমূলের কথা মতো বাবার চিকিৎসা থেকে ময়নাতদন্ত, কোনো কিছুই করতে দেয়নি। শাহজাহান বাহিনী এবং পুলিশ গোটা ঘটনা ঘটিয়েছে। পুলিশের একাংশ এর সঙ্গে জড়িত। তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে। পাঁচ বছর পরে হলেও আশা করি বিচার পাব।’
এদিন দেহ তোলার খবর ছড়িয়ে পড়তেই ওই এলাকায় ভিড় জমে যায়। ছিল কড়া পুলিশি নিরাপত্তা। স্থানীয় বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের বক্তব্য, এতদিন পরে হলেও তদন্তের দরজা খুলেছে। বসিরহাট সাংগঠনিক জেলার বিজেপির যুব সভাপতি পলাশ সরকার বলেন, ‘আস্তিকদা নিরীহ বিজেপি কর্মী ছিলেন। তৃণমূলের গুন্ডা শাহজাহান বাহিনীর লোকজন তাঁকে নৃশংসভাবে খুন করে। পুলিশও কিছু করেনি। আমরা বিচারের অপেক্ষায় ছিলাম। এখন আইন মেনে তদন্ত শুরু হয়েছে।’ তবে এনিয়ে তৃণমূলের কোনো প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ