নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: স্ট্রং রুমের ভিতর ও বাইরে সশস্ত্র কেন্দ্রীয় বাহিনী। বাক্সবন্দি হয়ে ইভি এম, ভিভিপ্যাট ভিতরে ঢুকে গিয়েছে। ত্রিস্তর নিরাপত্তায় ঝাড়গ্রামের রানি ইন্দিরা দেবী সরকারি মহিলা কলেজকে মুড়ে ফেলা হয়েছে। নিরাপত্তার বলয়ে মাছি গলার জো নেই। কিন্তু সন্ধ্যে হলেই স্ট্রং রুম সংলগ্ন হেলিপ্যাড ময়দানে নেশার আসর বসছে। হেলিপ্যাড চত্বরজুড়ে মদের বোতল ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকছে। ফলে ভোট গণনার আগে জেলার স্ট্রং রুমের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েই উঠছে প্রশ্ন । ঝাড়গ্রাম জেলার পুলিশ সুপার মানব সিংলা এদিন বলেন, শহরের বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ নজরদারি চালাচ্ছে। স্ট্রংরুমের মতো সিকিউরিটি জোনে এমন কোনো ঘটনা ঘটছে কি না সেটা খতিয়ে দেখা হবে।
স্টংরুমের ঢিল ছোড়া দূরত্বে ঝাড়গ্রাম শহরের হেলিপ্যাড ময়দান। জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কার্যালয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ওই এলাকায় রয়েছে। শহরের অন্য এলাকার থেকে এখানে জনবসতিও কম। সন্ধ্যের পর শহরের মানুষ ওই এলাকা এড়িয়ে চলেন। হেলিপ্যাড ময়দান হয়ে ওঠে বেআইনি কারবারের আখরা। ভোট পর্বে শহরের নিরাপত্তার ব্যবস্থা বাড়ানো হয়েছে। ঝাড়গ্রাম শহর এলাকার গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে কড়া নজরদারি রয়েছে। ভোটের সময় জেলায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে দুষ্কৃতীদের গারদে পোড়া হয়েছে। পুলিশ ও আবগারি দপ্তর যৌথভাবে জেলাজুড়ে চোলাই মদের ঠেক ভাঙতে অভিযান চালিয়েছে। নকল মদের কারবার রুখতে টকিং পেন প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হয়েছে । স্ট্রংরুম সংলগ্ন এলাকায় ত্রিস্তর পেট্রোলিং থাকছে। এরপরেও নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে কীভাবে বেমালুম বেআইনি কারবার চলছে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
ঝাড়গ্রাম শহরের বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ,সন্ধ্যে নামলেই শহরের বিভিন্ন জায়গায় নেশার আসর বসছে। গভীর রাত পর্যন্ত চলছে হুল্লোড়। পুলিশ ধরপাকড় চালালেও নেশার আসর পুরোপুরি বন্ধ করা যায়নি। হেলিপ্যাড চত্বর এলাকায় অচেনা মুখের ঘোরাঘুরি নিয়েও স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষুব্ধ।
পুরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা বিদ্যুৎ মাহাতো বলেন, হেলিপ্যাড ময়দানে কোনো বাউন্ডারি নেই। আলোর ব্যবস্থাও নেই। সন্ধ্যের পর নিয়ম করে এখানে মদের আসর বসে। স্ট্রং রুমের মতো নিরাপত্তা জোন এলাকায় বেআইনি এই কারবার কীভাবে চলছে, তা ভেবেই অবাক হচ্ছি।
এদিকে, ঝাড়গ্রাম শহর তৃণমূলের এক নেতা বলেন, স্ট্রংরুম লাগোয়া এলাকায় তৃণমূল শিবির করেছে। স্ট্রংরুম কেন্দ্রের চারপাশে ঘুরলে হাজারটা প্রশ্নের উত্তর দিতে হচ্ছে। এদিকে দু'শো মিটার দূরত্বে বিনা বাঁধায় নেশার আসর বসছে। নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে বেআইনি কারবার চলছে। সেদিকে কোনো নজর নেই। -নিজস্ব চিত্র