নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: গাঁজা-সাট্টার কারবার নিয়ে অশোকনগরে বিজেপির অন্দরে অস্বস্তি বাড়ছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে গিয়েছে, তাতে দলের মধ্যে আড়াআড়ি ফাটলের ইঙ্গিত মিলছে বলেই মত কর্মীদের! সমাজমাধ্যমে মণ্ডল সভাপতির বার্তায় সরাসরি এই কারবারের কথা বলা হয়নি। তবে, তাঁর বক্তব্যে অশোকনগরে গাঁজা-সাট্টার ব্যবসার চেষ্টা চলছে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। এই ব্যবসার এক ‘মাথাকে’ ঘিরেই দলের একাংশের আপত্তি। অথচ তাঁকেই আবার দেখা যাচ্ছে বিজেপির কর্মসূচিতে প্রথম সারির নেতাদের সঙ্গে। স্থানীয়দের প্রশ্ন, দলের অন্দরে কি দু’টি ভিন্ন অবস্থান তৈরি হয়েছে? এ নিয়ে এবার রাজ্য নেতৃত্বের দরবারে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিজেপির একাংশ।
রবিবার রাতে অশোকনগর ৪ নম্বর মণ্ডলের বিজেপি সভাপতি রিঙ্কি সুরের একটি সমাজমাধ্যম বার্তা ঘিরেই বিতর্কের সূত্রপাত। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে গাঁজা, সাট্টা এবং জুয়ার প্রসঙ্গ। বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর এই ধরনের ব্যবসা বন্ধ হয়েছিল বলে দাবি করেছেন তিনি। তাঁর খেদ, এক কুচক্রী ফের এই ব্যবসা চালানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। আমরা অশোকনগরে জুয়া, সাট্টা বা গাঁজার ঠেক হতে দেব না। রিঙ্কির এই বক্তব্য যে দলের একাংশের বিরুদ্ধে তোপ, তা মানছেন নীচুতলার কর্মীরা। অশোকনগরে যে এই অসাধু কারবার এখনও চলছে, তা নিয়ে ওই ভিডিয়ো বার্তার কমেন্ট সেকশনে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন অনেকে। এ নিয়ে চর্চাও শুরু হয়েছে।
বিজেপির দাবি, অশোকনগরে গাঁজা, সাট্টা ও জুয়ার কারবার নিয়ে প্রচুর অভিযোগ রয়েছে। ক’দিন আগে বিজেপির এক কর্মসূচিতে এক অসাধু ব্যবসায়ীকে দেখা যায় দলের প্রথম সারির নেতাদের সঙ্গে। শুধু অশোকনগর নয়, ওই ব্যবসায়ী বারাসতের এক প্রভাবশালী নেতারও ঘনিষ্ঠ। এই আবহে ওই ব্যবসায়ীর সঙ্গে দলীয় কর্মীদের যোগাযোগ না রাখার বার্তা দিয়েছেন বিজেপির বারাসত সাংগঠনিক জেলার সভাপতি রাজীব পোদ্দার। তবে, বিজেপির পুরানো কর্মীদের প্রশ্ন, যাঁর বিরুদ্ধে এত অভিযোগ, তাঁকে কর্মসূচিতে কেন জায়গা দেওয়া হচ্ছে? কেনই বা তাঁকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না? বিজেপির এক আদি নেতা জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে রাজ্য নেতৃত্বকে জানানো হবে। এনিয়ে রাজীব পোদ্দার জানিয়েছেন, বিষয়টি জানা নেই। কেউ যদি ভাবে বিজেপিতে এসে অসাধু কাজ করবে, তাঁর কপালে দুঃখ আছে।