


অভিষেক পাল, বহরমপুর: বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচনে ক্ষমতায় না এলেও কট্টরপন্থী জামাতের উল্লেখযোগ্য উত্থান হয়েছে। তার উপর পশ্চিমবঙ্গ সীমান্ত লাগোয়া কেন্দ্রগুলিতে বিরাট জয় পেয়েছে জামাত। বাংলাদেশের এমন রাজনৈতিক সমীকরণে উদ্বিগ্ন রাজ্যের গোয়েন্দারা। কেননা, ভারত-বিরোধী কার্যকলাপকে আরও সুসংহত করতে জামাত তাদের জয়ী কেন্দ্রগুলিকে কাজে লাগাতে পারে। এমন আশঙ্কা একেবারেই উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলিতে জামাত বরাবরই শক্তিশালী। তাদের কর্মকাণ্ডও ওইসব অঞ্চলে প্রসারিত। একসময়ের ‘বাংলা ভাই’ থেকে শুরু করে বেশ কিছু জঙ্গি সংগঠনের ডেরা রয়েছে এলাকাগুলিতে। এবার নির্বাচনের হাত ধরে জামাতের আরও বেশি শক্তিবৃদ্ধি হয়েছে। তাতেই সীমান্তবর্তী এলাকায় সার্বিক নিরাপত্তার প্রশ্নে ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে মত গোয়েন্দাদের। এমন আশঙ্কা বাংলাদেশের জুলাই বিপ্লব থেকেই করছিল নিরাপত্তা সংস্থাগুলি। সে কারণে বাংলাদেশের নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে ছিল সব মহলই।
বাংলাদেশের এপার সীমান্ত ঘেঁষা সাতক্ষীরা, কুষ্টিয়া এবং রংপুর এলাকাগুলি অর্ধ বৃত্তাকারে পশ্চিমবঙ্গ, অসম এবং শিলিগুড়ি করিডরের দিকে মুখ করে অবস্থান করছে। আর এইসব অংশে জামাতের প্রভাব প্রতিপত্তি বেশ ভালোই। এবার আরও শক্তি সঞ্চয় করে ভারত-বিরোধী মনোভাবে উস্কানি দেবে বলেই মনে করছেন গোয়েন্দারা। পাশাপাশি, সীমান্ত সমস্যা আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সীমান্ত এলাকায় অবৈধ অনুপ্রবেশ, মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান নিয়ন্ত্রণে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে আরও বেশি সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিতে হবে বলে গোয়েন্দা রিপোর্টে বলা হয়েছে। মুর্শিদাবাদ লাগোয়া রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ এলাকা থেকে বারবার চোরাচালানের অভিযোগ ওঠে। এছাড়া সাতক্ষীরা, কুষ্টিয়া এবং খুলনার যে অংশ পশ্চিমবঙ্গ সীমান্ত লাগোয়া এবং রংপুর অঞ্চলে নানাবিধ অবৈধ কাজকর্মের সঙ্গে যুক্ত থাকে বহু যুবক। তারাই এখন জামাতের সদস্য এবং কর্মকর্তা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাংলাদেশে কট্টরপন্থী কিংবা মৌলবাদী দলগুলির শক্তিশালী অবস্থান আগামী বিধানসভা নির্বাচনে এই রাজ্যের রাজনীতিতে বিশেষ করে সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে ধর্মীয় মেরুকরণের কারণ হতে পারে। প্রথম থেকেই ব্যাপক ভারত বিদ্বেষী মনোভাব জামাতকে শক্তিশালী করছে। বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের সামগ্রিক কাঠামো বদলে গিয়েছে জামাতের উত্থানে। সেদেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যায় ব্যাপকভাবে ভারত বিদ্বেষী স্লোগান দেওয়ার নজিরও মিলেছে। সীমান্তে জামাতের এই উত্থান এপার বাংলায় সীমান্তবর্তী মানুষের জীবনযাত্রার উপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে বল মত গোয়েন্দাদের।
গোয়েন্দা আধিকারিকদের দাবি, ক্ষমতা দখল করতে না পারলেও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসন জয়ের নতুন নজির গড়েছে জামাত। এর আগে ১৯৯১ সালের নির্বাচনে সর্বোচ্চ ১৮টি আসনে জিতেছিলেন দাঁড়িপাল্লার (জামাতের নির্বাচনী প্রতীক) প্রার্থীরা। এবার ৭৭ আসনে জয়লাভ নতুন করে সমীকরণ বদলে দেবে। বিশেষ করে দক্ষিণবঙ্গ লাগোয়া সাতক্ষীরা, ঝিনাইদহের পুরনো ঘাঁটির পাশাপাশি উত্তরবঙ্গ লাগোয়া রংপুরেও ভাল ফল করেছে জামাত ও তার সহযোগীরা। এর আগে ভারত-বিরোধী কট্টরপন্থী জঙ্গি সংগঠনগুলিকে মদত দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জামাতের বিরুদ্ধে। স্বাভাবিকভাবেই জামাতের উত্থানের বিষয়টি যথেষ্ট উদ্বেগের।