Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬

অবমাননা! ক্ষমাপ্রার্থী কেন্দ্র, বই নিষিদ্ধ করল সুপ্রিম কোর্ট

বিচার বিভাগের বদনাম করতে এ এক গভীর, পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। কোনোভাবেই এই দায়িত্বজ্ঞান কাজ বরদাস্ত করা হবে না

অবমাননা! ক্ষমাপ্রার্থী কেন্দ্র, বই নিষিদ্ধ করল সুপ্রিম কোর্ট
  • ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ‘বিচার বিভাগের বদনাম করতে এ এক গভীর, পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। কোনোভাবেই এই দায়িত্বজ্ঞান কাজ বরদাস্ত করা হবে না।’ এনসিইআরটি’র অষ্টম শ্রেণির সমাজবিজ্ঞানের পাঠ্যপুস্তকের ‘বিতর্কিত’ অংশ ইস্যুতে বৃহস্পতিবার মোদি সরকারকে প্রবল ভৎর্সনা করল সুপ্রিম কোর্ট। বইটি প্রকাশে নিষেধাজ্ঞাও জারি হল। আদালত অবমাননার নোটিসও পাঠানো হল এনসিইআরটি (ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনি)র ডিরেক্টর এবং শিক্ষামন্ত্রকের বিরুদ্ধে। প্রতিটি সরকারি স্কুলের প্রিন্সিপালকেও বইটি বাজেয়াপ্ত করার দায়িত্ব দেওয়া হল। সব রাজ্যের শিক্ষাসচিবকে এ ব্যাপারে নজরদারিরও নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। এই বিতর্কে এনসিইআরটির ডিরেক্টরকে সরানো কার্যত অবশ্যম্ভাবী বলে মনে করা হচ্ছে। 

Advertisement

এদিন শীর্ষ আদালতের তোপের মুখে পড়ে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা করজোড়ে ক্ষমা চান। আদালতে ছিলেন শিক্ষামন্ত্রকের স্কুলশিক্ষা সচিব সঞ্জয় কুমার। তাঁকে দাঁড় করিয়েই সর্বোচ্চ আদালত ক্ষোভ উগরে দিল। কাকুতি মিনতি করে বলেন, যা হয়েছে, তার জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চাইছি। তিনি আরও বলেন, ওই পাঠ্যপুস্তকে স্রেফ বিচার বিভাগের দুর্নীতির চ্যাপ্টারই নয়। তার সঙ্গে ‘জাস্টিস ডিলেইড, জাস্টিস ডিনাইড’ নামে একটি অংশও আছে। এমনটা যারা করেছে, তাদের আর ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজের সঙ্গে কোনোভাবেই যুক্ত করা হবে না। কোনো মন্ত্রকের সঙ্গেই যাতে যুক্ত হতে না পারে, তারও ব্যবস্থা হবে। অষ্টম শ্রেণির ওই পাঠ্যপুস্তক বাজার থেকে তুলে নেওয়া হবে। 
যদিও কেন্দ্রের এই ক্ষমার পরেও শান্ত হয়নি সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি বিপুল পাঞ্চোলিকে পাশে নিয়ে ‘স্বতঃপ্রণোদিত’ এই মামলার শুনানিতে দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, সলিসিটির জেনারেল হয়ে আপনি ক্ষমা চাইছেন। কিন্তু এনসিইআরটি’র বিবৃতিতে তো এ ব্যাপারে একটি শব্দও নেই। প্রধান বিচারপতি বলেন, বন্দুক থেকে গুলি চালিয়ে দিয়েছেন। যার জেরে বিচার বিভাগ আজ রক্তাক্ত! বিচার বিভাগ যেখানে সংবিধানের রক্ষাকর্তা, সংবিধানিক নৈতিকতা ও মৌলিক কাঠামো রক্ষায় বিচার বিভাগের অপরিহার্য ভূমিকা অস্বীকার করে বদনাম করার চেষ্টা হয়েছে। এটি ষড়যন্ত্র। তাই মোটেই চুপ থাকব না। কী করে এমন হল? তার গভীরে যাব। 
আইনজীবী কপিল সিবাল এবং অভিষেক মনু সিংভি বলেন, এটি অত্যন্ত অপমানজনক। আর বাজার থেকে বই তুলে নিলে কী হবে, তার পিডিএফ (পোর্টবেল ডকুমেন্ট ফরম্যাট) ফর্ম সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে গিয়েছে। সেটি কী করে বন্ধ হবে? তাঁদের প্রশ্ন, এনসিইআরটি’র অনুমোদন বোর্ড কী করে সায় দিল? উল্লেখ্য, অষ্টম শ্রেণির ওই পাঠ্যপুস্তকে বিচার বিভাগে দুর্নীতি অংশ নিয়ে সর্বভারতীয় এক ইংরেজি দৈনিকে খবর প্রকাশ হয়। তারপরই বিষয়টি বুধবার দেশের প্রধান বিচারপতির 
সামনে উল্লেখ করেছিলেন সিংভি-সিবাল। যার জেরেই এই 
স্বতঃপ্রণোদিত মামলা। 
আদালতের এই সমালোচনার মুখে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান জানান, দেশের বিচার ব্যবস্থাকে হেয় করার কোনো প্রশ্নই নেই। যা ঘটেছে, তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। আমি ব্যক্তিগতভাবে এব্যাপারে ক্ষমাপ্রার্থী। কেন এমন হল তদন্ত হবে। মন্ত্রক সূত্রে খবর, ইজরায়েল সফররত প্রধানমন্ত্রীও বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ। তাই তিনিই এ ব্যাপারে ধর্মেন্দ্র প্রধানকে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। মন্ত্রকে তাই চর্চা, তবে কি পদ খোয়াতে চলেছেন এনসিইআরটির অধিকর্তা দীনেশ প্রসাদ সাকলানি?

সম্পর্কিত সংবাদ