


নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: পর্যটন শিল্পের প্রসারণে বলাগড়ের গুপ্তিপাড়ায় বায়োডাইভারসিটি পার্কের পরিকাঠামো সংস্কারের কাজে নামছে হুগলি জেলা পরিষদ। সম্প্রতি জেলা পরিষদের অর্থ স্থায়ী সমিতিতে এই কাজ অনুমোদিত হয়েছে। জেলা পরিষদের নিজস্ব তহবিলের টাকায় ওই পার্কের পরিকাঠামো সাজিয়ে তোলা হবে। গুপ্তিপাড়া এমনিতেই পর্যটনের জন্য উল্ল্যেখযোগ্য। পাশাপাশি এখানে রাজ্য সরকারের অন্যতম ল্যান্ডমার্ক প্রকল্প সবুজদ্বীপ রয়েছে। সেখানে পর্যটকদের কথা ভেবেই এক সময় বায়োডাইভারসিটি পার্ক তৈরি করা হয়েছিল। গঙ্গাপাড়ের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের পাশাপাশি তা একটি বিকল্প দর্শনীয় স্থান হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এবার সেটিকে আরও সাজিয়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
হুগলি জেলা পরিষদের কর্তাদের দাবি, ওই প্রকল্পের জন্য নির্দিষ্ট পরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে। প্রাথমিক সমীক্ষার পরেই গাছ থেকে প্রাণী, পরিকাঠামো থেকে পরিষেবা বৃদ্ধি করা হবে। এই কাজের জন্য টাকার অভাব হবে না।
এনিয়ে হুগলি জেলা পরিষদের মেন্টর সুবীর মুখোপাধ্যায় বলেন, বলাগড়ের চরকৃষ্ণবাটির ওই পার্কটি পর্যটন ও পরিবেশের কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হয়েছিল। গঙ্গার ধারে ওই পার্কটি তৈরি হয়েছে। বলাগড় ও গুপ্তিপাড়ার সার্বিক পর্যটন ক্ষেত্রের সঙ্গে মানানসই করে পার্কটি করা হয়েছে। দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে এই পার্ক আকর্ষণীয় হবে। তাই পার্কের পরিকাঠামো বৃদ্ধির তোড়জোড় শুরু হয়েছে।
জেলা পরিষদের সভাধিপতি রঞ্জন ধাড়া বলেন, অর্থ স্থায়ী সমিতির বৈঠক থেকে এই কাজ অনুমোদন করা হয়েছে। জেলার জীববৈচিত্র্য, গাঙ্গেয় এলাকার জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের পাশাপাশি পর্যটনের বিকাশেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
বলাগড়ে গঙ্গা তীরবর্তী এই এলাকাকে জেলার ট্যুরিজম সার্কিটে যুক্ত করেছে রাজ্যের তৃণমূল সরকার। সেইমতোই সবুজদ্বীপ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছিল। সেই প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার পরে তা দর্শনীয় স্থান হয়ে উঠেছে। আবার গুপ্তিপাড়ার রথ, স্থানীয় একগুচ্ছ পুরনো মন্দিরকে ঘিরে বরাবরই দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আনাগোনা ছিল বলাগড়ে। কয়েক বছর আগে গঙ্গার পাশে চরকৃষ্ণবাটিতে জেলার ল্যান্ডমার্ক বায়োডায়ভারসিটি পার্ক তৈরি হয়। মূলত, পর্যটকদের একটি বিকল্প ও ভিন্ন রকমের দর্শনীয় স্থান দিতেই বলাগড়ে এই প্রকল্প করা হয়েছিল। কিন্তু তা পুরোপুরি সাজিয়ে তোলা হয়নি। এবার জেলা পরিষদ সেই কাজেই নামছে।