নিজস্ব প্রতিনিধি, রায়গঞ্জ: ওপেন বিল স্টর্ক থেকে ইগ্রেটস। নানা প্রজাতির পরিযায়ী পাখি চাক্ষুষ করার হাতছানি। পক্ষীকূলের কলতানে সবুজে ঘেরা পরিবেশে দিনভর কাটানোর সুযোগ মেলে কুলিক নদীপাড়ের সরকারি গেস্ট হাউসে বসে। যেটির নাম ‘দিনান্তে’। দুর্গাপুজোর আগে সেই দিনান্তেকেই নতুন করে সাজানোর উদ্যোগ নিল পর্যটন দপ্তর। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পর্যটন দপ্তর শীঘ্রই গেস্ট হাউসটির সংস্কারের কাজে হাত দেবে বলে জানা গিয়েছে। প্রথম ধাপে ১৬ লক্ষ টাকা খরচ করবে পর্যটন দপ্তর। পরবর্তীতেও প্রয়োজনীয় ফান্ড মিলবে।
পর্যটন দপ্তরের গেস্ট হাউস সূত্রে খবর, কুলিক পক্ষীনিবাসের রকমারি পাখির টানে প্রতি বছর পুজোয় পর্যটকদের বুকিং বাড়ে। আকর্ষণীয় বিষয় হল দূরবিন বা বাইনোকুলার ছাড়াই গেস্ট হাউসের নিজস্ব ওয়াচটাওয়ার থেকে পাখি দর্শন করা যায়। একপাশে কুলিক নদী, একদিকে পক্ষীনিবাস ও চারদিকে সবুজে মোড়া গাছপালা ও জলাশয়ের মোহে বুকিং ফুল হয়ে যায়। কিন্তু দীর্ঘ বছর আগে শুরু হওয়া দিনান্তের বেশকিছু সংস্কারের প্রয়োজন আছে। বয়স বাড়ায় কোথাও কোথাও গেস্ট হাউসের পলেস্তারা খসে পড়ছে। কোথায় চটে গিয়েছে রং। কোথাও আবার জমে থাকা আবর্জনা সাফাইয়ের প্রয়োজন। তাই দিনান্তে সংস্কারের জন্য উদ্যোগ শুরু হয়েছে।
উত্তর দিনাজপুরের জেলাশাসক সুরেন্দ্র কুমার মীনা বলেন, কুলিক পক্ষীনিবাসে বাইরের পর্যটক টানতে পর্যটন দপ্তরের দিনান্তে গেস্ট হাউসটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলার জন্য সংস্কারের প্রয়োজন। সেকথা মাথায় রেখেই পর্যটন দপ্তরে ডিপিআর পাঠানো হয়েছিল। প্রথম দফায় ১৬ লক্ষ টাকা অনুমোদন এসেছে।
ইতিমধ্যে উত্তরের একমাত্র পক্ষীনিবাস কুলিকে পরিযায়ী পাখিদের আসা শুরু হয়েছে। এছাড়াও দেবীনগর, শহরে রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন কোম্পানির অফিসের আশপাশের গাছ, দেহশ্রী মোড়, এলআইসি মোড় সহ বাহিন গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার কিছু গাছে বছরের নির্দিষ্ট সময় বাসা করে থাকছে ওপেন বিল স্টর্ক, নাইট হেরন, লিটিল কর্মরান্ট, ইগ্রেটস প্রজাতির পরিযায়ী পাখির দল। জেলা প্রশাসন তথা পর্যটন দপ্তরের আশা, পাখির টানে পার্শ্ববর্তী জেলা থেকে শুরু করে কলকাতা থেকেও পর্যটকদের আসা এবার শুরু হবে। - নিজস্ব চিত্র