সংবাদদাতা, খড়্গপুর: প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ভোটের আগে। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর সেই প্রতিশ্রুতি শুভেন্দু অধিকারীপূরণ করবেন, এই আশাতেই বুক বাঁধছেন সবংবাসী। সবংয়ের কাঁটাখালি এলাকায় দুই মেদিনীপুরের সংযোগস্থলে কেলেঘাই নদীর উপর সেতু তৈরি হলে প্রচুর মানুষ উপকৃত হবে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুবাবুর প্রথম পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা সফরের ঠিক আগেই এই সেতু ঘিরে জেলা ও ব্লক প্রশাসনের অন্দরে জোর তৎপরতা হয়ে হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সবং বিডিও অফিসে এনিয়ে জেলা প্রশাসন বৈঠকে বসে। সেখানে পূর্তদপ্তরের আধিকারিকরা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সবংয়ের বিধায়ক অমল পন্ডা, বিডিও রোমান মণ্ডল প্রমুখ। বুধবার বিধায়ক ও বিডিও দু’জনই জানান, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে এই সেতুর কাজ শুরুর বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। জমিজট কেটে যাবে বলেও আশাবাদী তাঁরা।
আগামী ১১আগস্ট বিপ্লবী ক্ষুদিরাম বসুর আত্মবলিদান দিবসে কেশপুরের মোহবনী এলাকায় আসতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই অনুষ্ঠান থেকে একাধিক প্রশাসনিক ঘোষণা কিংবা প্রকল্পের শিলান্যাসও হতে পারে। মুখ্যমন্ত্রীর সফরের আগে কাঁটাখালি সেতু ঘিরে এই তৎপরতা তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। বিধানসভা নির্বাচনের আগে সবংয়ে ভোটপ্রচারে এসে তৎকালীন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দুবাবু ঘোষণা করেছিলেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে এক বছরের মধ্যে কাঁটাখালি সেতু নির্মাণ করা হবে। মুখ্যমন্ত্রী সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ করবেন বলেই শাসকদলের কর্মীরা ও সাধারণ মানুষ মনে করছে।
কেলেঘাই নদীর উপর সবংয়ের মোহাড় অঞ্চলের কাঁটাখালি এলাকায় একটি কাঠের সেতু রয়েছে। সেতুর এক পারে পশ্চিম মেদিনীপুরের সবং, অপরপারে পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুর। টাকা দিয়ে এই কাঠের সেতু পারাপার করতে হয় দুই মেদিনীপুরের বিস্তীর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের। তবে, সেতু দিয়ে বাস, ট্রাক সহ ভারী যানবাহন চলাচল করতে পারে না। ফলে দুই মেদিনীপুরের মধ্যে সড়কপথে দূরত্ব বেড়ে গিয়েছে প্রায় ৬০-৭০ কিলোমিটার। স্থানীয় বাসিন্দা তরুণ সাঁতরা, অতনু জানা বলেন, ভোটের আগে সব রাজনৈতিক দলই স্থায়ী সেতুর প্রতিশ্রুতি দেয়। তারপর আর হয় না। আশা করছি, এবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরেই এই সেতুর শিলান্যাস হবে।
সবংয়ের প্রাক্তন বিধায়ক তথা রাজ্যের প্রাক্তন সেচমন্ত্রী মানস ভুঁইয়া বলেন, ২০১২সালে এই সেতুর জন্য ৩৪কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছিল। মাত্র আট-দশজন অনিচ্ছুক চাষির জন্য সেতুর কাজ শুরু করা যায়নি। তবে, লাঙলকাটা সেতুর শিলান্যাস আমরা করে দিয়েছি। সবংয়ের বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা তথা প্রাক্তন কর্মাধ্যক্ষ অমূল্য মাইতি বলেন, অনিচ্ছুক কৃষকদের সঙ্গে আমরা বৈঠক করেছি। তাঁরা জমি দিতে প্রস্তুত।