Bartaman Logo
১৫ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

তহবিল সংগ্রহে প্রভাবশালীরাই টার্গেট ছিল হামিম-অর্পিতাদের

কোন কোন প্রভাবশালী এবং ধনী ব্যক্তিদের কাছে থেকে তোলা আদায় করা হবে, সেই তালিকা তৈরি করেছিল জঙ্গি হামিম, অর্পিতারা।

তহবিল সংগ্রহে প্রভাবশালীরাই টার্গেট ছিল হামিম-অর্পিতাদের
  • ১৫ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: কোন কোন প্রভাবশালী এবং ধনী ব্যক্তিদের কাছে থেকে তোলা আদায় করা হবে, সেই তালিকা তৈরি করেছিল  জঙ্গি হামিম, অর্পিতারা। কীভাবে টাকা আদায় করা হবে,তারও ব্লুপ্রিন্ট তারা তৈরি করে রেখেছিল। শুধু এরাজ্যে নয়, দেশজুড়েই তহবিল সংগ্রহে অপারেশন শুরু করেছিল। হামিম ও তার দুই সঙ্গীকে জেরা করে গোয়েন্দারা এমনই তথ্য পেয়েছেন। শুক্রবার হামিম, অর্পিতাদের পাশাপাশি আদিত্য সিংকেও বর্ধমান আদালতে তোলা হয়। বিচারক তাদের ২৮ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন। এতদিন তারা পুলিশের হেফাজতে ছিল। তিনজনকে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করা হয়। বেঙ্গল এসটিএফের পাশাপাশি এনআইয়ের আধিকারিকরাও তাদের দফায় দফায় জেরা করেন। তাদের মোবাইল থেকে পাওয়া তথ্যগুলি যাচাই করা হয়। কীভাবে তারা পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থার ঘনিষ্ঠ শাহজাদ ভাট্টি গ্যাংয়ের সংস্পর্শে এল, সেটাও জানিয়েছে বলে গোয়েন্দারা বলছেন।

Advertisement

গোয়েন্দা সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, ভাট্টি গ্যাং প্রথমে হামিমকে নিজেদের কবজায় নেয়। একটি জনপ্রিয় অ্যাপসের মাধ্যমে পাক হ্যান্ডেলার রানা হুসেনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। রানা ভাট্টি গ্যাংয়ের সক্রিয় সদস্য। তার কাজ ছিল ভারতীয় জেন জি’দের জালে জড়ানো। হামিম জেরায় গোয়েন্দাদের জানিয়েছে, প্রথমে রানা ধর্ম নিয়ে মগজ ধোলাই করে। কেন ভাট্টি গ্যাংয়ে যোগদান করা উচিত, সেটা সে বোঝাতে থাকে। ভাট্টি গ্যাং নয়া সমাজ গঠনে কাজ করছে বলে সে জানায়। এছাড়া তাদের গ্যাংয়ে যোগদান করলে আর্থিক ভাবেও লাভবান হওয়া যাবে। তাছাড়া কখনই হামিমকে সরাসরি ময়দানে নেমে কাজ করতে হবে না বলে জানিয়ে দেয়। তার কাজ হবে নেটওয়ার্ক বাড়ানো এবং তথ্য জোগাড় করা। এই কাজে রানা হামিমকে তার ‘গার্লফ্রেন্ড’ অর্পিতাকে কাজে লাগানোর পরামর্শ দেয়। গোয়েন্দারা বলছেন, অর্পিতা সবটা না বুঝে শুধু টাকার লোভেই ভাট্টি গ্যাংয়ে যোগ দেয়। তাকে সদস্য বাড়ানোর টার্গেট দেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রভাবশালীদের প্রেমের জালে জড়ানোর দায়িত্বও দেওয়া হয়েছিল তাকে। সেই মত সে কাজ এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকে। বিনিময়ে তাকে পারিশ্রমিক দেওয়া হয়। সেই টাকায় সে মোবাইল কেনে। এছাড়াও বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে যাওয়ার জন্য টাকাও দেওয়া হয়। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানের ভিডিও আপলোড করতে পারলে তাকে বাড়তি টাকা দেওয়া হত। আদিত্যকে হামিম নিয়োগ করেছিল। তার কাজ ছিল হাওড়ার জনপ্রতিনিধি তথা মন্ত্রী উমেশ রাই এবং তাঁর ছেলের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া। বেশ কিছু তথ্য সে হামিমকে দিয়েছিল। ওই প্রভাবশালীর ছেলেকে অপহরণের দিনক্ষণও প্রায় চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছিল। ছেলেকে অপহরণের আগে হামিম ওই প্রভাবশালীকে ফোন করে টাকা চায়। সেটাই কাল হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ অ্যাপসের মাধ্যমে কল করেও শেষ রক্ষা হয়নি। এসটিএফ তাকে জালে তুলে নেয়।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ