Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ইউনেস্কোর নামে টিকিট বিক্রি পুজো পরিক্রমার, অভিযুক্ত সস্ত্রীক ইন্দ্রনীল

ইউনেস্কোর নামে ৪ হাজার টাকার টিকিট বিক্রির অভিযোগ উঠল ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে। দুর্নীতির তদন্ত চলছে। বিস্তারিত পড়ুন।

ইউনেস্কোর নামে টিকিট বিক্রি পুজো পরিক্রমার, অভিযুক্ত সস্ত্রীক ইন্দ্রনীল
  • ১০ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ২০২১ সালে বাংলার দুর্গাপুজোকে ‘ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ’ আখ্যা দিয়েছিল ইউনেস্কো। তারপরই বাংলায় শুরু হয় ‘পুজোর আগেই পুজো দেখা’। বাছাই করা ২৪টি দুর্গাপুজোর পরিক্রমায় চালু হয় বিশেষ টিকিট। দাম, ৪ হাজার টাকা। আর এই সমীকরণেই বিপুল দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ দায়ের হল বউবাজার থানায়। বাঙালির আবেগকে হাতিয়ার করে ‘মাস আর্ট’ নামে একটি সংস্থার সঙ্গে ইউনেস্কোর লোগো জুড়ে কোটি কোটি টাকা তোলার এই অভিযোগে নাম জড়াল রাজ্যের প্রাক্তন তথ্য-সংস্কৃতি মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন ও তাঁর স্ত্রী মধুছন্দা সেনের। একইসঙ্গে, ওই এনজিও’র তিন অধিকর্তার নামে অভিযোগপত্র জমা পড়েছে কলকাতা ও রাজ্য পুলিশের কর্তাদের কাছে। 

Advertisement

পুজোপাগল বাঙালি। ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ তকমা প্রাপ্তির পর এরাজ্যের পুজো দেখতে ভিড় বাড়তে শুরু করে বিদেশিদেরও। সবার আগে ‘সেরার সেরা মণ্ডপ’ দর্শনের স্বাদ নিতে ও  পুজো চলাকালীন ভিড় এড়াতে ২০২২ সাল থেকে ৪ হাজার টাকার টিকিট কাটতে পিছপা হননি অনেকেই। বহু সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সরও গাঁটের কড়ি খরচ করেছেন। পূর্বতন রাজ্য সরকারের তরফে প্রচার করা হয়, ইউনেস্কো ও রাজ্য সরকারের যৌথ সহযোগিতায় ‘মহানির্বাণ রোড মাস আর্ট সোসাইটি’ নামে এক সংস্থার তরফে ইউনেস্কোর বাছাই করা পুজোগুলি দেখানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২২, ২০২৩ ও ২০২৪ সাল, এই তিন বছর ‘সেরার সেরা’ পুজোর টিকিট ৪ হাজারে বিক্রি হয়েছে। গত বছর এই টিকিটের নাম বদলে করা হয় ‘ডোনার কার্ড’। অর্থাৎ, মাস আর্টের সেরার সেরা সবার আগে দেখতে হলে মানুষ টিকিট কাটবেন না। অনুদান দেবেন। 
অভিযোগকারী জয়দীপ মুখোপাধ্যায়ের দাবি, গোটা বিষয়টাই ভ্রান্ত। ভুল বুঝিয়ে চার বছর ধরে দুর্গাপুজোর নামে বেআইনিভাবে টাকা তোলা হয়েছে। জয়দীপবাবু পেশায় আন্তর্জাতিক ভ্রমণ নির্দেশক। ২০১৯ সাল থেকে তিনি দুর্গাপুজোকে বিশ্ব দরবারে নিয়ে যাওয়ার জন্য কাজ করছেন। তাঁর অভিযোগ, মাস আর্টের সঙ্গে ইউনেস্কোর কোনো সম্পর্ক নেই। ইউনেস্কোর লোগো জাল করে মাস আর্টের সহযোগী হিসাবে প্রচার করেছে তৎকালীন রাজ্য সরকার ও তথ্য-সংস্কৃতি মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। এভাবে সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত অর্থ তছরুপ করা হয়েছে। অভিযোগপত্রে জয়দীপ জানিয়েছেন, ‘মাস আর্টের সম্পাদক ধ্রুবজ্যোতি বসু, সহ সভাপতি সায়ন্তন মৈত্র ও কোষাধ্যক্ষ রঞ্জন চট্টোপাধ্যায় এই দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত। ইউনেস্কোকে মাস আর্টের অফিসিয়াল সহযোগী হিসাবে ঘোষণা করে তাঁদের সংস্থা মিথ্যাচার করেছে। শুধু তাই নয়, সংস্থার তরফে এখনও পর্যন্ত পুজো দেখানোর নামে তোলা দানসর্বস্ব টাকার হিসাব দেখানো হয়নি।’ গোটা বিষয়টাই অবশ্য উড়িয়ে দিয়েছেন প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। তিনি বলেন, ‘ব্যবসায়িক স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য এই অভিযোগ। সবটাই ভিত্তিহীন।’ ধ্রুবজ্যোতি বসু বলেন, ‘অভিযোগ উঠেছে ঠিকই। কিন্তু আমাদের কাছে সব কাগজপত্র রয়েছে।’ 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ