Bartaman Logo
২৭ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ইন্ডিয়ান উইমেন্স লিগ খেলতে আজ মধ্যপ্রদেশে যাচ্ছে ডেঙ্গুয়াঝাড় চা বাগানের মেয়ে বর্ষা ওরাওঁ

ইন্ডিয়ান উইমেন্স লিগ খেলতে আজ মধ্যপ্রদেশে যাচ্ছে ডেঙ্গুয়াঝাড় চা বাগানের মেয়ে বর্ষা ওরাওঁ
  • ১৭ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
ব্রতীন দাস, জলপাইগুড়ি: বৃহস্পতিবার তখনও ভোরের আলো ফোটেনি। কোচ অমিত রায়ের কাছে ফোন আসে। জানানো হয়, ইন্ডিয়ান উইমেন্স লিগে খেলার সুযোগ পেয়েছে বর্ষা ওরাওঁ। খবরটা ছড়িয়ে পড়তেই খুশিতে মেতে ওঠে জলপাইগুড়ির ডেঙ্গুয়াঝাড় চা বাগানের শ্রমিক মহল্লা। এই বাগানেরই মেয়ে নবম শ্রেণির ছাত্রী বর্ষা। পড়াশোনার পাশাপাশি যার ধ্যান-জ্ঞান ফুটবল। খেলার জার্সি-জুতো কিনতে মায়ের সঙ্গে চা পাতা তোলার কাজে যায় সে। স্বপ্ন দেখে, মেসির মতো ফুটবলার হবে একদিন। ফুটবলের প্রতি মেয়ের অধ্যাবসায়ে আপ্লুত কোচ। আজ, শুক্রবার আইডব্লুএল-২-এ অংশ নিতে মধ্যপ্রদেশে রওনা হচ্ছে বর্ষা। চাঁদা তুলে তার যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
Advertisement
বাবা সাওনা ওরাওঁ বছর পনেরো আগে মারা গিয়েছেন। মা এতোয়ারি ওরাওঁ চা বাগানের শ্রমিক। দাদা বিশ্বজিৎ ওরাওঁ কাজ করেন চা ফ্যাক্টরিতে। পরিবারে নুন আনতে পান্তা ফুরোয়। কিন্তু আধপেটা খেয়েও নামী ফুটবলার হওয়ার নেশায় বুঁদ জলপাইগুড়ির ডেঙ্গুয়াঝাড় চা বাগানের কিশোরী বর্ষা ওরাওঁ। জলপাইগুড়ির কালিয়াগঞ্জ উত্তমেশ্বর হাইস্কুলের এই ছাত্রীর কথায়, এর আগে কলকাতায় কন্যাশ্রী কাপ খেলেছি। এবার মধ্যপ্রদেশে ইন্ডিয়ান উইমেন্স লিগ-২ খেলতে যাচ্ছি। খুব ভালো লাগছে। খাওয়া জুটুক বা না-জুটুক, ফুটবলকে আঁকড়ে ধরেই এগিয়ে যেতে চাই।
ঘরে অভাব থাকলেও ফুটবল খেলায় মেয়েকে এগিয়ে যেতে সবসময় উৎসাহ জোগান মা এতোয়ারি। বলেন, আমি চাই, ও একদিন ফুটবলে অনেক নাম করুক। যাতে সবাই ওর খেলা দেখার জন্য গ্যালারি ভরিয়ে দেয়।
ডেঙ্গুয়াঝাড় চা বাগানের ডাঙা লাইনে টিনের চালের ঘর বর্ষাদের। তিন দিদির বিয়ে হয়ে গিয়েছে। দাদা-বউদি আর মায়ের সঙ্গে থাকে বর্ষা। বাগানের থেকে বিদ্যুৎ দেওয়া হলেও ঘরে টিভি নেই। বাগানের কাজ করে মেয়েকে একটা পুরনো মোবাইল কিনে দিয়েছেন মা। তাতেই ইউটিউবে মেসির খেলা দেখে বর্ষা। তারপর মাঠে গিয়ে প্র্যাকটিস করে।
কোচ অমিত রায় বলেন, বর্ষার মধ্যে ভালো ফুটবলার হওয়ার প্রতিভা রয়েছে। সবচেয়ে বড় বিষয়, মাঠে গোল করার খিদে ওকে তাড়া করে বেড়ায়। কিন্তু খাওয়াদাওয়া তো বটেই, ওকে ঠিকমতো জার্সি-বুট দিতে পারি না আমরা। চা বাগানে বর্ষার মতো আরও অনেক প্রতিভা লুকিয়ে রয়েছে। ন্যূনতম স্পনসর পেলে আমরা তাদের তুলে আনতে পারতাম।
নিখরচার কোচিং নিয়ে জলপাইগুড়ি স্পোর্টস জোন দলের হয়ে বর্তমানে খেলছে বর্ষা। এই দলেরই আরএক ফুটবলার ধূপগুড়ির আমগুড়ির বাসিন্দা সোনু তান্ত্রিও ইন্ডিয়ান উইমেন্স লিগ-২ এ খেলার সুযোগ পেয়েছে বলে জানিয়েছেন কোচ।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ