


লন্ডন: রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল কিনছে ভারত। এর সমালোচনায় সরব আমেরিকা সহ পশ্চিমী দুনিয়ার একাধিক দেশ। যদিও এই সব আপত্তিকে নস্যাৎ করে দিলেন ব্রিটেনে নিযুক্ত ভারতীয় হাই কমিশনার। এসংক্রান্ত প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে বিক্রম দোরাইস্বামীর গলায় উঠে আসে ইউরোপের দেশগুলির রাশিয়া থেকে আমদানির প্রসঙ্গ। তিনি বলেন, ‘ইউরোপের একাধিক দেশ যেখান থেকে খনিজ পদার্থ ও জ্বালানি কেনে, তারাই আবার ভারতকে সেখান থেকে জ্বালানি আমদানি করতে বারণ করে। বিষয়টা কি আশ্চর্যজনক নয়!’ পাশাপাশি তিনি বলেন, একটা দেশ কোনওভাবেই তার অর্থনীতিকে অচল করে দিতে পারে না। গত সপ্তাহে ব্রিটেনের একটি রেডিওতে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে এই মন্তব্য করেছেন ভারতীয় হাই কমিশনার।
২০২২ সালে ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে একাধিক দেশ রাশিয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। বাধ্য হয়ে জ্বালানিতে বড় ছাড় দেওয়ার কথা ঘোষণা করে মস্কো। এর পরেই রাশিয়ার থেকে জ্বালানি আমদানির পরিমাণ বাড়িয়ে দেয় নয়াদিল্লি। আমেরিকার রক্তচক্ষু সত্ত্বেও অবস্থান বদল করেনি ভারত। এনিয়ে প্রথমে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও পরে আমেরিকার নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটোর প্রধানও সরব হয়েছেন। এই প্রসঙ্গেই একটি প্রশ্নের উত্তরে দোরাইস্বামী ভারত-রাশিয়ার সুদীর্ঘ সুসম্পর্কের কথা মনে করিয়ে দেন। তিনি বলেন, সামরিক ক্ষেত্রে আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। একটা সময়ে পশ্চিমী দুনিয়ার বন্ধুরা আমাদের অস্ত্র বিক্রি না করলেও প্রতিবেশী দেশগুলিকে করত। সেই সময়ে রাশিয়াই যে ভারতের পাশে ছিল, তাও জানাতে ভোলেননি বিক্রম।
এর পরেই তিনি বলেন, ‘এক সময় আমরা যেখান থেকে জ্বালানি কিনতাম, এখন সবাই সেখান থেকে কিনছে। ফলে আমরা সেই বাজার থেকে ছিটকে গিয়েছি। দামও বেড়েছে। জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে বিশ্বের তৃতীয় স্থানে থাকা একটা দেশ সেক্ষেত্রে কি করবে? গোটা অর্থনীতি স্তব্ধ করে দেবে?’ পাশাপাশি, ভারত যে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের পক্ষে, সেকথাও জানান দোরাইস্বামী।