Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬

৩৫ হাজার ধার ব্রিটিশদের, আদায়ে ১০৯ বছর পর ‘আইনি যুদ্ধে’ ভারতীয় ব্যবসায়ী

এক সময় বলা হত, ব্রিটিশ সাম্রাজ্যে সূর্য কখনো অস্ত যায় না। বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা উপনিবেশে তাদের দাপটও ছিল লক্ষ্যণীয়

৩৫ হাজার ধার ব্রিটিশদের, আদায়ে ১০৯ বছর পর ‘আইনি যুদ্ধে’ ভারতীয় ব্যবসায়ী
  • ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

ভোপাল: এক সময় বলা হত, ব্রিটিশ সাম্রাজ্যে সূর্য কখনো অস্ত যায় না। বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা উপনিবেশে তাদের দাপটও ছিল লক্ষ্যণীয়। এমন প্রতিপত্তি থাকা সত্ত্বেও ১০৯ বছর আগে এক ভারতীয় ব্যবসায়ীর কাছে হাত পাততে হয়েছিল ইংরেজদের। যুদ্ধকালীন ঋণ হিসাবে ৩৫ হাজার টাকা নিয়েছিল তারা। তবে ধার নেওয়া টাকা কখনো ফেরত দেয়নি ব্রিটিশরা। এবারে সেই প্রাপ্য বুঝে নিতে ইংরেজদের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধ’ ঘোষণা করার পথে এক ভারতীয় ব্যবসায়ী। না, কোনো সামরিক অভিযান নয়। লড়াই হবে আইনি পথে। সেই মামলায় হেরে গেলে বর্তমান ব্রিটিশ সরকারকে ‘ক্ষতিপূরণ’ দিতে হবে কয়েক কোটি টাকা!

Advertisement

শুনে গল্প মনে হচ্ছে? তাহলে ঘটনাটি খোলসা করে বলা যাক। ১৯১৭ সাল। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলছে। জলের মতো টাকা খরচ হচ্ছে ইংরেজদের। এমন পরিস্থিতিতে বিভিন্ন উপনিবেশের ব্যবসায়ীদের থেকে টাকা ঋণ নিয়েছিল ব্রিটিশ রাজ। সেই সময় মধ্যপ্রদেশের অন্যতম ধনী ব্যবসায়ী ছিলেন শেঠ জুম্মালাল রুথিয়া। সেহোর ও ভোপালে বিশাল প্রতিপত্তি ছিল তাঁর। এই জুম্মালালের থেকে ৩৫ হাজার টাকা ধার নেয় ব্রিটিশরা। সরকার বাহাদুরের হয়ে গোটা প্রক্রিয়ার দায়িত্ব সামলান ভোপালের তৎকালীন রাজনৈতিক এজেন্ট ডব্লু এস ডেভিস। ১৯৩৭ সালে জুম্মালালের মৃত্যু হয়। তার ১০ বছর পর ভারত স্বাধীনতা লাভ করে। ইংরেজরা জুম্মালালের টাকা না মিটিয়ে দিব্যি দেশ ছেড়ে চলে যায়। হয়তো তারা ভেবেছিল, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রুথিয়া পরিবার সবকিছু ভুলে যাবে। কিন্তু সব ভাবনা কি আর সত্যি হয়! সম্প্রতি পারিবারিক নথি ও দলিল ঘেঁটে দেখছিলেন জুম্মালালের নাতি বিবেক রুথিয়া। ধুলো পড়া কাগজপত্রের মাঝে একটি ঋণপত্র হাতে পান তিনি। ১৯১৭ সালের ৪ জুনের সেই নথিতে লেখা রয়েছে, ‘শেঠ রমাকিষেণ জসকরণ রুথিয়া ফার্মের শেঠ জুম্মালাল যুদ্ধকালীন ঋণ হিসাবে ৩৫ হাজার টাকা দিয়েছিলেন। এই টাকা ধার দিয়ে সরকার ও ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের প্রতি নিজের আনুগত্য দেখিয়েছিলেন তিনি।’ নথিতে রাজনৈতিক এজেন্ট হিসাবে ডেভিসের স্বাক্ষর পর্যন্ত রয়েছে।
বিবেক জানান, ধারের টাকা কোনোদিন ফেরত পায়নি তাঁর পরিবার। আজকের দিনে ৩৫ হাজার টাকা খুব সামান্য বলে মনে হতেই পারে। তবে কালের নিয়মে জুম্মালালের দেওয়া ঋণের টাকা বেড়েছে অনেকটাই। রুথিয়াদের দাবি, সুদ মিলিয়ে বর্তমানে টাকার অঙ্কটা কয়েক কোটি। সেই টাকা ফেরত পেতেই ব্রিটিশ সরকারকে আইনি নোটিস পাঠাচ্ছেন বিবেক। 
এখানেই শেষ নয়। আন্তর্জাতিক আইন বুঝতে আইনজীবীদের পরামর্শও নিচ্ছেন তিনি। বিবেকের কথায়, ‘আমার দাদু প্রচুর দানধ্যান করতেন। যুদ্ধের সময় ব্রিটিশ সরকারকে ঋণ হিসাবে এই টাকা দিয়েছিলেন। তবে সেই টাকা কখনো ফেরত আসেনি। আমার বাবা টাকা উদ্ধারের কোনো চেষ্টা করেননি। তবে আমি আইনি পথে চেষ্টা চালানোর কথা ভেবেছি। বর্তমান আইন মেনে সুদসমেত টাকা আদায়ের জন্য পদক্ষেপ করব।’

সম্পর্কিত সংবাদ