


ওয়াশিংটন: শুল্ক-যুদ্ধের আবহে ভারত, চীন আর রাশিয়া কাছাকাছি আসায় কি চাপে পড়েছে আমেরিকা? তিয়ানজিনে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) সম্মেলনের মাঝেই চীন ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আর সেই সময়েই ভারত নিয়ে অদ্ভূত দাবি করে বিতর্কে জড়ালেন হোয়াইট হাউসের শিল্পসংক্রান্ত পরামর্শদাতা পিটার নাভারো। রাশিয়া থেকে ভারতের তেল কেনার সমালোচনা করতে গিয়ে জাতপাতের প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ এই কর্তা। নাভারোর দাবি, রাশিয়া থেকে তেল কিনে সাধারণ ভারতীয়দের ক্ষতি করে ব্রাহ্মণরাই শুধু মুনাফা লুটছে। তাঁরা এটা বন্ধ করতে চান। তবে এটুকু মন্তব্য করেই থামেননি তিনি। মোদিকে নিয়েও কুরুচিকর মন্তব্য করেছেন তিনি।
রবিবার এক মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে নাভারো বলেছেন, ‘ভারত হল শুল্কের মহারাজা। বিশ্বে ওরা সবচেয়ে বেশি শুল্ক নেয়। আর আমাদের দেশে প্রচুর কিছু রপ্তানি করে। এতে আমেরিকার কর্মী, করদাতা, ইউক্রেনের নাগরিকদের ক্ষতি হচ্ছে। মোদি একজন মহান নেতা। কিন্তু বুঝতে পারছি না, ভারত বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র হওয়া সত্ত্বেও উনি কেন পুতিন আর জিনপিংয়ের সঙ্গে এক শয্যায় যাচ্ছেন।’ তাঁর মতে, ভারতের নাগরিকদের বোঝা উচিত, চারপাশে কী ঘটছে। এর আগেও ইউক্রেন যুদ্ধকে ‘মোদির যুদ্ধ’ বলে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন নাভারো। সেই সময় তিনি দাবি করেছিলেন, ভারতকে তেল বিক্রি করে পাওয়া টাকা ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে কাজে লাগাচ্ছে রাশিয়া।
এদিকে, নাভারোর বক্তব্যের সমালোচনা করেছে কংগ্রেস। সোমবার দলের নেতা পবন খেড়া বলেন, আমেরিকার এমন ভিত্তিহীন দাবি করা উচিত নয়। যদিও রবিবার কংগ্রেস সাংসদ তথা দলের দলিত মুখ বলে পরিচিত উদিত রাজ নাভারোর বক্তব্যকে সমর্থন করেছিলেন। উদিত জানান, নাভারোর বক্তব্য তথ্যগতভাবে ঠিক। কারণ, দেশের বেশিরভাগ কর্পোরেট হাউস উচ্চবর্ণরাই চালান। রাশিয়ার তেল কেনার ফলে দেশের শুধু উচ্চবর্ণের ব্যবসায়ীরাই লাভবান হচ্ছেন। সাধারণ মানুষের কোনও সুফল পাচ্ছেন না। তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ সাগরিকা ঘোষ এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, এখনও ইংরেজিভাষী দেশগুলিতে এলিট বা অভিজাতদের বোঝাতে ‘ব্রাহ্মণ’ বলে অভিহিত করা হয়। উদ্ধবপন্থী শিবসেনার নেত্রী প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদির দাবি, ইচ্ছাকৃতভাবেই রাজনৈতিক কারণে ব্রাহ্মণ শব্দটির উল্লেখ করেছেন ট্রাম্প ঘনিষ্ঠ কর্তা।
নাভারোর বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রীর ইকোনমিক অ্যাডভাইসারি কাউন্সিলের সদস্য সঞ্জীব স্যানালও। তিনি এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, নাভারোর বক্তব্যেই স্পষ্ট, আমেরিকার অন্দরে ভারত সম্পর্কে নীতি নির্ধারণের বিষয়টি কারা নিয়ন্ত্রণ করছে। উনিশ শতকের ঔপনিবেশিক মনোভাব থেকেই এমন মন্তব্য বলেও দাবি সঞ্জীবের।