নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: অপারেশন সিন্দুরের পর পাকিস্তানকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে কূটনৈতিকভাবে কোণঠাসা করতে তৎপর মোদি সরকার। পাকিস্তানের মদতেই যে সন্ত্রাসবাদ অনেক বেশি পরিপুষ্ট, এই বার্তা জোরালোভাবে দিতে দেশে দেশে সর্বদলীয় প্রতিনিধি পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত। একইসঙ্গে এই প্রতিনিধি দলের তরফে গোটা বিশ্বকে জানানো হবে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের অবস্থান। নয়াদিল্লি সন্ত্রাসবাদকে মুছে দেওয়ার পক্ষেই।
কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে, দলমত নির্বিশেষে মোট সাতজন সাংসদকে দেওয়া হচ্ছে প্রতিনিধি দলের দায়িত্ব। যাদের মধ্যে রয়েছেন কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর, বিজেপির সাংসদ রবিশঙ্কর প্রসাদ, বৈজয়ন্ত পান্ডা, জেডিইউ-র সঞ্জয় কুমার ঝা, ডিএমকের কানিমোঝি, এনসিপির সুপ্রিয়া সুলে এবং একনাথপন্থী শিবসেনার শ্রীকান্ত একনাথ সিন্ধে (একনাথ সিন্ধের ছেলে)। প্রত্যেকেই আলাদা আলাদা দেশে প্রতিনিধি দলকে নেতৃত্ব দেবেন। উল্লেখ্য, জেডিইউ-র সঞ্জয় কুমার ঝা’র দলে ছিলেন তৃণমূল সাংসদ ইউসুফ পাঠান। কিন্তু সেই প্রতিনিধি দলে বহরমপুরের সাংসদ থাকবেন না বলে জানিয়ে দেয় ঘাসফুল শিবির। ইউসুফ পাঠান বিদেশ সফরে যাবেন না বলেই জানানো হয়। সেই বিষয়ে তৃণমূল নেত্রী গতকাল, সোমবার জানিয়েছিলেন, বিষয়টিতে কোনও বিতর্কের ব্যাপার নেই বা বয়কট নয়। আমাদের পার্টি থেকে কে যাবেন, তা অন্য কেউ সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। এটা অন্যের পছন্দমতো হতে পারে না। আমাদের দলই ঠিক করবে কে যাবেন। ফলে আগে থেকে আমাদের জানানো উচিত ছিল। তাহলে আমরা আমাদের দল থেকে ঠিক করে দিতাম কাকে পাঠানো হবে। তৃণমূলের তরফে অভিযোগ, দলনেত্রীর সঙ্গে কথা না বলেই কেন্দ্রীয় সরকার একতরফাভাবে ইউসুফ পাঠানের নাম দিয়েছে প্রতিনিধি দলে। তাই তাতে আপত্তি জানানো হয়।
সেই বিষয়ে আজ, মঙ্গলবার তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফোন করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু। ফোনে তৃণমূল নেত্রীকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, অপারেশন সিন্দুরে তৃণমূলের হয়ে কে প্রতিনিধিত্ব করবেন সেটা আপনাদের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত ছিল। আপনি তৃণমূলের কাউকে বিদেশ সফরে যাওয়ার অনুমতি দিন। তারপরেই তৃণমূলের তরফে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দলে বিদেশ সফরে ঘাসফুল শিবিরের প্রতিনিধি হয়ে যাবেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। জানা গিয়েছে, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় থাকবেন জেডিইউ-র সঞ্জয় কুমার ঝা’য়ের দলে। যার ফলে অভিষেক যাবেন সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান ও মালয়েশিয়ায়।
পহেলগাঁও জঙ্গি হামলা ও তাঁর বিরুদ্ধে জবাব দিতেই অপারেশন সিন্দুর অভিযান ভারতের। পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরে বেছে বেছে জঙ্গি ঘাঁটিই ধ্বংস করেছে ভারতীয় সেনা। খতম হয়েছে ১০০ জঙ্গি। সেই তথ্যই গোটা বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে ও পাকিস্তানকে আরও কোণঠাসা করতেই এই বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। জানা গিয়েছে, সাংসদদের প্রতিনিধি দল যাবে ব্রিটেন, হংকং, আমেরিকা, দক্ষিণ আফ্রিকা, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, সৌদি আরব, দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলিতে।