


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: আপাতত ৩০ দিনের জন্য রাশিয়া থেকে অশোধিত তেল কিনতে পারবে ভারত। ইরান সংকটের আবহে সোশ্যাল মিডিয়ায় মার্কিন রাজস্ব সচিব স্কট বেসেন্ট শুক্রবার এমনই ঘোষণা করেছেন। এই ঘটনায় জাতীয় রাজনীতিতে জোর শোরগোল। সার্বভৌম দেশ ভারত কার থেকে তেল কিনবে, তা নিয়ে মার্কিন ‘অনুমতি’র প্রয়োজন কেন? এই প্রশ্ন তুলে মোদি সরকারকে নিশানা করেছে বিরোধীরা। তারা এই ঘটনাকে আমেরিকার ব্ল্যাকমেলের কাছে মোদির সরকারের নতি স্বীকার বলে তোপ দেগেছে।
ইরানের সঙ্গে মার্কিন ও ইজরায়েলের যুদ্ধের জেরে হরমুজ প্রণালী বন্ধ। এরফলে ভারতে জ্বালানি আমদানি বিঘ্নিত হয়েছে। তাই অন্য দেশ থেকে তেল নিতেই হবে বলে জানিয়েছিল মোদি সরকার। কিন্তু সেটি যে রাশিয়া হতে পারে, তা নিয়ে রা কাটেনি। এমত আবহেই শুক্রবার মার্কিন রাজস্ব সচিবের বার্তা, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে তেল সরবরাহ অব্যাহত রাখতে ভারতীয় তৈল শোধনকারী সংস্থাগুলিকে আগামী ৩০ দিনের জন্য ছাড় দেওয়া হচ্ছে। এই স্বল্পমেয়াদি ব্যবস্থায় রুশ সরকারের তেমন কোনও আর্থিক সুবিধা হবে না। কেননা, এক্ষেত্রে শুধুমাত্র সমুদ্রে আটকে থাকা তেল ট্যাংকারগুলির লেনদেনে ছাড় দেওয়া হচ্ছে।’
এই খবর সামনে আসার পরই সুর চড়িয়েছে বিরোধীরা। তাদের প্রশ্ন, কেন মার্কিন ‘ব্ল্যাকমেলে’র কাছে নতি স্বীকার করছে মোদি সরকার? জ্বালানি তেল কিনতে কেন ট্রাম্পের অনুমতি নিতে হবে? কীসের জুজু দেখাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট? প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে কংগ্রেসের খোঁচা, তবে কি এপস্টাইন ফাইলের জুজুকেই ভয় পাচ্ছেন স্বঘোষিত বিশ্বগুরু? একইসঙ্গে প্রশ্ন তুলল, ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মগুরু খামেনেই হত্যার নিন্দা করে কেন এখনও একটি কথাও বলেননি প্রধানমন্ত্রী? কেন দিল্লিতে ইরান দূতাবাসে গিয়ে খামেনেইয়ের স্মরণে শোক জানাতে কোনো মন্ত্রী যাননি? এত ভয় আমেরিকাকে? কেনই বা ভয়?
এভাবেই মোদি সরকারকে নিশানা করেছেন রাহুল গান্ধী থেকে শুরু করে কংগ্রেসের একাধিক নেতা। আপ সুপ্রিমো অরবিন্দ কেজরিওয়ালের তোপ, আমেরিকা কে যে তার কাছ থেকে আমাদের অনুমতি নিতে হবে? রাহুলের মন্তব্য, ভারতের বর্তমান বিদেশ নীতি আজ একজন ব্যক্তির আপসের শিকার। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গের কটাক্ষ, অপারেশন সিন্দুর থেকে বিদেশ থেকে তেল কেনা, ট্রাম্পের কাছে সম্পূর্ণ সারেন্ডার করেছেন মোদি। জয়রাম রমেশের প্রশ্ন, এই মার্কিন ব্ল্যাকমেল আর কতদিন চলবে? কংগ্রেসের মুখপাত্র পবন খেরা সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, ভারত কি
তেল আমদানি করার জন্য আমেরিকার কাছ থেকে লাইসেন্স নেবে? আসলে ট্রাম্পের হাতের পুতুল হয়ে গিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। তা নাহলে কেন ‘মৌন’ মোদি?