


নয়াদিল্লি: অপারেশন সিন্দুরের সময় ‘এস ৪০০’-র সাফল্য ভরসা জুগিয়েছে। পাকিস্তানি হামলা রুখতে কার্যত গেম চেঞ্জারের ভূমিকা নেয় মস্কোর তৈরি এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। সেই ভরসা থেকেই আবারও রুশ প্রতিরক্ষা সামগ্রীর উপর বাজি রাখতে চলেছে সাউথ ব্লক। এবার বায়ুসেনার ভাঁড়ার আরও সমৃদ্ধ করতে রাশিয়ার পঞ্চম প্রজন্মের সুখোই এসইউ-৫৭ যুদ্ধবিমানের বরাত দিতে চলেছে নয়াদিল্লি। সূত্রের খবর, কেন্দ্রের ছাড়পত্র পেলেই কেনা হবে ৪০টি যুদ্ধবিমান। কেন সুখোইকেই বেছে নেওয়া হচ্ছে? ওই সূত্রটি জানাচ্ছে, আকাশপথে যুদ্ধ আর কেবল আত্মরক্ষায় সীমাবদ্ধ নেই। আগে শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র চিহ্নিত করে ধব্ংসের উপর জোর দেওয়া হত। অপারেশন সিন্দুর বদলে দিয়েছে যুদ্ধ নিয়ে ভারতের এই চিরাচরিত দৃষ্টিভঙ্গি। রেডারের নজর এড়িয়ে শত্রু দেশে হানা এখন কঠোর বাস্তব। এই কাজে এসইউ-৫৭ যুদ্ধবিমান
বিশেষ সহায়ক হবে বলে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মত।
রাশিয়ার পঞ্চম প্রজন্মের এই অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমানের গোপনে হানা দেওয়ার ক্ষমতা প্রশ্নাতীত। ওই সূত্র আরও জানাচ্ছে, ‘এসইউ-৫৭’-র ফ্রেম এমন উপাদানে তৈরি যা সহজে রেডারে ধরা পড়ে না। তাছাড়া রেডারকে বিভ্রান্ত করতেও এর জুড়ি মেলা ভার। গতিতে সুপারক্রুজ হওয়ায় ব্যবস্থা নেওয়ার আগেই আঘাত হানতে সক্ষম এই যুদ্ধবিমান। নিজেদের ওয়েবসাইটে সুখোই দাবি করেছে, তাদের এই বিমান কেবল যুদ্ধক্ষেত্রেই পারদর্শী নয়, নজরদারিতেও সিদ্ধহস্ত। কোনো একটি এলাকায় গিয়ে বাজপাখির মতো এলাকা পর্যবক্ষেণ করে সেখানকার রিয়েল টাইম ডেটাও পাঠাতে পারবে এসইউ-৫৭। সেই তথ্য বিশ্লেষণ করতে পারবেন গ্রাউন্ট কন্ট্রোল সিস্টেমসের বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের পালটা নির্দেশ তালিম করার ক্ষমতা রাখে এই সুখোই।
সমর বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান জে-২০ তৈরি করে ফেলেছে চীন। খুব শীঘ্রই তারা ‘অল ওয়েদার ফ্রেন্ড’ পাকিস্তানের হাতে এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তির যুদ্ধবিমান তুলে দেবে। ভারতও নিজস্ব প্রযুক্তিতে পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান তৈরিতে হাত লাগিয়েছে। সূত্রের খবর, সেটি হাতে পেতে ২০২৮-’২৯ সাল হয়ে যাবে। এরপর ব্যবহারোপযোগী করতে লাগবে আরও পাঁচ-ছ’বছর। তাই সুখোই-৫৭ কেনা জরুরি হয়ে পড়েছে।