নিউজিল্যান্ড ২৫১-৭
ভারত ২৫৪-৬ (৪৯)
ভারত ৪ উইকেটে জয়ী
নিউজিল্যান্ড ২৫১-৭
ভারত ২৫৪-৬ (৪৯)
ভারত ৪ উইকেটে জয়ী
দুবাই: টানটান থ্রিলারে এল প্রতিশোধ!
মরুশহরের মহারণে নাটকীয়ভাবে নিউজিল্যান্ড বধ ভারতের। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে ৪ উইকেটে জয় এল এক ওভার বাকি থাকতে। রান তাড়ার শুরুটা ঝড়ের গতিতে করেছিলেন অধিনায়ক রোহিত শর্মা। তাঁর গড়ে দেওয়া ভিতের উপরই জয়ের ইমারত সাজালেন শ্রেয়স আয়ার, অক্ষর প্যাটেল, লোকেশ রাহুল, হার্দিক পান্ডিয়ারা। এক যুগ পর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ছিনিয়ে আনল ভারত। সৌজন্যে, টিম গেম। টি-২০ বিশ্বকাপের পর অপরাজিত থেকে এদিনের সাফল্য, নেতা রোহিত শর্মার মুকুট আরও ঝলমলে হল।
রাতের দুবাই মাতল আতশবাজির চোখঝলসানো আলোয়। উজ্জ্বল এই জয়ে থাকল অতীতের চোখের জলের বদলাও। ২০০০ সালে নাইরোবিতে চাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে সৌরভ গাঙ্গুলি ব্রিগেড মুখ থুবড়ে পড়ে নিউজিল্যান্ডের কাছেই। ম্যাঞ্চেস্টারে ২০১৯ ওডিআই বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালে ছিটকে যাওয়াও কালো জার্সিধারীদের বিপক্ষে। ২০২১’র সাউদাম্পটনে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে কাঁটা হয়ে ওঠেন কাইল জেমিসনরা। কয়েক মাস আগে ঘরের মাঠে টেস্ট সিরিজে লজ্জার ০-৩ হোয়াইটওয়াশের ক্ষত তো একেবারেই টাটকা। এদিনের জয় সেজন্যই এত মধুর!
দুবাইয়ের মাটিতে ত্রিবর্ণরঞ্জিত পতাকা ওড়ানোর অন্যতম কারিগর অবধারিতভাবেই রোহিত। সব সমালোচনার জবাবের জন্য ফাইনালের মঞ্চকেই বেছে নিয়েছিলেন হিটম্যান। ৮৩ বলে মুম্বইকরের ৭৬ রানের ইনিংস সাজানো ৭টি চার ও ৩টি ছক্কায়। রোহিতের ধুন্ধুমারেই ২৫২ তাড়া করতে নেমে ১৮ ওভারে বিনা উইকেটে একশোর গণ্ডি পেরিয়ে যায় ভারত। তখন মনে হচ্ছিল চল্লিশ ওভারের মধ্যেই বিজয়পতাকা উড়বে।
এরপরই ঘটে নাটকীয় পালাবদল। গ্লেন ফিলিপসের আরও এক সুপারম্যান সুলভ ক্যাচে ফেরেন শুভমান গিল। পরের ওভারের প্রথম বলেই মাইকেল ব্রেসওয়েলের অফস্পিন স্টাম্পের সামনে পেয়ে যায় কোহলির প্যাড। ৪ বলের মধ্যে জোড়া ঝাক্কায় কিউয়িরা তখন রক্তের স্বাদ পাওয়া বাঘের মতোই ভয়ঙ্কর। এই সময় গড়পড়তা বল অনেক বেশি ঘুরতেও থাকে। নিউজিল্যান্ডের ইনিংসের সময় টার্ন ছিল ২ ডিগ্রি। সেটাই বেড়ে দাঁড়ায় ৩.৪ ডিগ্রি!
ছক্কা মারতে গিয়ে রোহিত সুইসাইড করার পর টানছিলেন শ্রেয়স আয়ার, অক্ষর প্যাটেল, হার্দিক পান্ডিয়া। কিন্তু প্রত্যেকেই উপহার দেন উইকেট। লোকেশ রাহুল আর রবীন্দ্র জাদেজা অবশ্য ম্যাচে অতিনাটকীয়তা আসতে দেননি। উত্তেজনার চোরাস্রোত সামলে পেশাদারি মেজাজে ভারতকে (২৫৪-৬) জয়ের স্টেশনে পৌঁছে দেন দু’জনে।
টস জিতে দিনটা শুরু করেছিল নিউজিল্যান্ড। কিন্তু ইনিংসের প্রথম ৮ ওভার আর শেষ দশ ওভার ছাড়া ঘূর্ণিজালে ব্যাটারদের বশ করে রাখেন স্পিনাররা। পাওয়ার প্লে’র শুরুতে রাচীন রবীন্দ্রের সুবাদে ১ উইকেটে ৫৮ তোলে নিউজিল্যান্ড। ডেথ ওভারে তাদের সংগ্রহ ৭৯। ভারতের চার স্পিনার মিলে ৩৮ ওভারে ১৪৪ রানে নেন পাঁচ উইকেট। ‘চায়নাম্যান’ কুলদীপ যাদব মাত্র ৪০ রানের বিনিময়ে ফেরান রাচীন রবীন্দ্র ও কেন উইলিয়ামসনকে। ছন্দে ছিলেন ‘মিস্ট্রি স্পিনার’ বরুণ চক্রবর্তীও। উইল ইয়ং এবং গ্লেন ফিলিপস তাঁর শিকার। তিন ম্যাচে ১৪.৫৫ গড়ে ৯ উইকেট পেলেন তিনি। ইকনমি রেট ৪.৫৫। নিঃসন্দেহে এই আসরের আবিষ্কার।
মহম্মদ সামি যদিও হতাশ করলেন। ৭৪ রান দিলেন তিনি। সার্বিকভাবে ভারতীয় পেসারদের ১২ ওভারে ওঠে ১০৪। সেজন্যই আক্ষেপ, রোহিত কেন যে অক্ষর প্যাটেলের দুই ওভার ব্যবহার করলেন না! ড্যারিল মিচেল ১০১ বলে ৬৩ না করলে অবশ্য ২০০’ও অনিশ্চিত দেখাচ্ছিল কিউয়িদের। তাঁর পঞ্চাশ আসে ৯১ বলে, যা এই আসরের মন্থরতম। মাইকেল ব্রেসওয়েলের ৪০ বলে ৫৩ অবশ্য আড়াইশোর ওপারে পৌঁছে দেয় স্কোর। চারটে ক্যাচ পড়ার সুবিধাও পেয়েছেন কিউয়িরা। তবে এই পুঁজি নিয়ে ভারতের ব্যাটিং গভীরতাকে বশ মানানো আরব্য রজনীতেই সম্ভব!