Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

ইরানের কাছে তিন গোলে হার ভারতের

তাজিকিস্তানকে হারিয়ে কাফা নেশনস কাপে দারুণভাবে অভিযান শুরু করেছিল ভারত। তবে কোচ খালিদ জামিল আবেগে ভাসেননি। তিনি জানতেন, আসল পরীক্ষাটা ইরানের বিরুদ্ধে।

ইরানের কাছে তিন গোলে হার ভারতের
  • ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

ভারত- ০                                :                             ইরান- ৩
                                                   (আমির, আলি, তারেমি)

Advertisement

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: তাজিকিস্তানকে হারিয়ে কাফা নেশনস কাপে দারুণভাবে অভিযান শুরু করেছিল ভারত। তবে কোচ খালিদ জামিল আবেগে ভাসেননি। তিনি জানতেন, আসল পরীক্ষাটা ইরানের বিরুদ্ধে। প্রথমার্ধে অনবদ্য লড়াইও করেছে তাঁর দল। তবে বিরতির পর প্রকট হয়েছে দুর্দশা। হিসরের সেন্ট্রাল স্টেডিয়ামে ব্লু টাইগার্সকে ৩-০ ব্যবধান পরাস্ত করল ইরান। সময় গড়ানোর সঙ্গেই কোমরে হাত পড়ল আশিক, জিকসনদের। শেষ ১০ মিনিটেই দু’গোল হজম করতে হয় ভারতকে। আসলে ফিটনেস ও স্ট্যামিনাতেই খালিদ-ব্রিগেডকে টেক্কা দিল ইরান। 
এশিয়ান ফুটবলের অন্যতম সেরা শক্তি ইরান। ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে ভারতের (১৩৩) চেয়ে ১১৩ ধাপ উপরে তারা (২০)। প্রবল প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে আল্ট্রা-ডিফেন্সিভ ফর্মেশনে দল সাজান কোচ খালিদ। প্রথমার্ধে তাঁর ৪-২-৩-১ স্ট্র্যাটেজি সুপারহিট। চার ডিফেন্ডারের সামনে ডাবল পিভট হিসেবে দানিশ ফারুখ ও নিখিল প্রভুকে খেলালেন তিনি। আইএসএলে কেরল ব্লাস্টার্স ও পাঞ্জাবের হয়ে ডিফেন্সিভ ব্লকার হিসেবে নজর কেড়েছেন দু’জনেই। প্রতিপক্ষের বড় চেহারার ফুটবলারদের সঙ্গেও লড়ে গেলেন পূর্ণ শক্তিতে। একই সঙ্গে প্রচণ্ড ওয়ার্কলোড নিলেন বিক্রমপ্রতাপ ও সুরেশ সিং। প্রথমার্ধে ইরান প্রচুর পাস খেললেও ভারতের দুর্গ অক্ষতই থাকে। আরব দেশটির মাঝমাঠের ফুসফুস রোজমে খেসমি। কিন্তু খালিদের পাতা জাল কাটতে তিনিও হাঁসফাঁস করলেন। পাশাপাশি দুই প্রান্ত থেকে অবিরাম ভেসে আসা ক্রস ক্রমাগত বিপন্মুক্ত করলেন আনোয়ার ও সন্দেশ। ফলে মাঝমাঠে প্রচুর পাস খেললেও প্রথমার্ধে সেভাবে সিটার পায়নি ইরান। আসলে রক্ষণ জমাট করে খেলাই খালিদের সবচেয়ে পছন্দের কৌশল। শৌখিনতার ধার ধারেন না তিনি। দল গঠনে অনুগত সৈনিকদেরই বেছে নিয়েছেন মুম্বইকর, যারা প্রতিটা বলের জন্য দৌড়বে। প্রতিপক্ষকে ক্রমাগত তাড়া করার সেই কৌশলে প্রথমার্ধে তাল কাটল শক্তিশালী প্রতিপক্ষের।
জানাই ছিল, বিরতির পর গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ঝাঁপাবে ইরান। ক্রমাগত চাপ সামলে নিখিল প্রভু, দানিশও তখন ক্লান্ত। টানা ৯০ মিনিট ডিফেন্স করে ম্যাচ বাঁচানো যায় না। বাধ্য হয়েই চিঙ্গলসানা ও জিকসনকে নামান খালিদ। কিন্তু প্রবল চাপ রোখা তাঁদের পক্ষে সম্ভব হয়নি। মাঝমাঠে বল হোল্ড করার লোক নেই। আক্রমণও বেশ দুর্বল। ৫৮ মিনিটে জটলা থেকে লক্ষ্যভেদ আমির হোসেনের (১-০)। রাহুল ভেকেকে ঘাড়ে নিয়ে গোল করলেন তিনি। ৮৮ মিনিটে ব্যবধান বাড়ান আলি (২-০)। এক্ষেত্রেও দায় এড়াতে পারে না ভারতীয় রক্ষণ। এরপর সংযোজিত সময়ে অরক্ষিত মেহেদি তারেমি বাঁ পায়ের চাঁটায় জাল কাঁপান (৩-০)। ক্লান্ত, অবসন্ন রাহুল ভেকেরা তখন ধারেকাছে নেই। শেষদিকে মহেশ ও জিতিনকে নামিয়ে সান্ত্বনাসূচক গোলের খোঁজে ছিলেন ভারতীয় কোচ। কিন্তু ইরানের দুর্গ ভাঙতে তা যথেষ্ট ছিল না। গ্রুপে ভারতের শেষ ম্যাচ আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে।
ভারত: গুরপ্রীত, ভেকে, আনোয়ার, সন্দেশ, উভেস, নিখিল, সুরেশ (চিঙ্গলসেনা, মহেশ), বিক্রমপ্রতাপ (জিতিন), দানিশ (জিকসন), আশিক (ছাংতে) ও ইরফান (মনবীর)।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ