নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: মাত্র ছ’টি সবমেরিনের জন্য ভারত সরকার ব্যয় করতে চলেছে ৯০ হাজার কোটি টাকা। শুধু ডুবোজাহাজের জন্য এমন রেকর্ড সামরিক চুক্তি এই প্রথম। জার্মানি থেকে কেনা হচ্ছে ওই ছ’টি অত্যাধুনিক ডিজেল ইলেকট্রিক অ্যাটাক সাবমেরিন। দেশের তিন সামরিক বাহিনীর হাতে থাকা পুরনো তাবৎ সমর সরঞ্জাম বদলে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। বায়ুসেনার জন্য রাশিয়া, আমেরিকা, ইজরায়েল থেকে ক্রয় করা হচ্ছে আধুনিকতম ফাইটার জেট। পাশাপাশি ফ্রান্স থেকে আরও রাফাল কেনার সিদ্ধান্তও চুড়ান্ত। পুরানো ট্যাঙ্ক বদলে ফেলে সম্পূর্ণ অত্যাধুনিক ট্যাঙ্ক আসবে। পরমাণু অস্ত্র বহনকারী ফাইটার জেটের পাশাপাশি ২ থেকে ৫ হাজার কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রমে ক্ষমতাসম্পন্ন মিসাইল কেনা হয়েছে। আরও নতুন রাশিয়ান এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমও আসছে। এই তালিকায় নবতম সংযোজন নৌবাহিনীর জন্য ডিজেল ইলেকট্রিক অ্যাটাক সাবমেরিন। ২০৩২ সালের মধ্যে ৬টি ডুবোজাহাজের ডেলিভারি সম্পন্ন হবে।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা বিষয়ক কমিটির বৈঠকের কাছে এই সংক্রান্ত বিস্তারিত প্রস্তাব পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। ওই বৈঠকে প্রস্তাব অনুমোদিত হওয়ার পর সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যেই চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে বলে মন্ত্রক সূত্রে খবর। ভারত সরকারের মাজগাঁও ডক শিপবিল্ডার্স লিমিটেড এবং জার্মানির টিকেএমএসের মধ্যে হবে সেই চুক্তি। চুক্তির সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল, ভারতেই নির্মাণ করা হবে সাবমেরিন। আর প্রযুক্তি হস্তান্তরও করা হবে।
নৌবাহিনীর জন্য প্রতিরক্ষা মন্ত্রক যে প্রকল্প হাতে নিয়েছে, তার নাম ‘প্রোজেক্ট ৭৫১’। ভারতীয় নৌবাহিনীর কাছে বর্তমানে রয়েছে ২০টি সাবমেরিন। যুক্ত হবে ৬টি নতুন অত্যাধুনিক সাবমেরিন। ভারত মহাসাগর, বঙ্গোসাগর, আরব সাগর— সর্বত্র নৌসেনাকে নিশ্ছিদ্র করতে চলেছে নয়াদিল্লি। কারণটা সহজবোধ্য। চীন ও পাকিস্তানের যৌথবাহিনী সবথেকে বেশি টহল দিচ্ছে সমুদ্রপথে। করাচিতে দীর্ঘকাল ধরেই চীনের সাবমেরিন মোতায়েন করা রয়েছে। তরাই জবাব দিতে তৈরি হচ্ছে ভারত।