


ভারত- ৪ : দক্ষিণ কোরিয়া-১
রাজগির: এশিয়া কাপে চক দে ইন্ডিয়া। হরমনপ্রীত সিংদের হাত ধরে চতুর্থবারের জন্য মহাদেশীয় হকির মঞ্চে উড়ল তেরঙা। রবিবার ফাইনালে দক্ষিণ কোরিয়াকে ৪-১ গোলে চূর্ণ করল ভারত। জোড়া গোলে ম্যাচের নায়ক দিলপ্রীত সিং। দলের বাকি দুই স্কোরার সুখজিৎ সিং এবং অমিত রোহিদাস। কোরিয়ার একমাত্র গোলটি সোন ডাইনের। এই জয়ের সুবাদে পরের বছর নেদারল্যান্ডস ও বেলজিয়ামে অনুষ্ঠেয় হকি বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার যোগ্যতা অর্জন করল টিম ইন্ডিয়া।
সুপার ফোরের ম্যাচে কোরিয়ার কাছে ২-২ গোলে আটকে গিয়েছিল ক্রেগ ফুলটন ব্রিগেড। ফাইনালে দুরন্ত আগ্রাসনে সেই জ্বালা মেটালেন হরমনপ্রীতরা। বিপক্ষকে দাঁড়াতেই দেয়নি ভারত। প্রাপ্ত সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে চার গোলের জায়গায় আট গোলও হতে পারত। ঘরের মাঠে ফেভারিট হিসেবেই প্রতিযোগিতা শুরু করেছিলেন মনদীপ-দিলপ্রীতরা। প্রতিযোগিতা যত এগিয়েছে, ততই অপ্রতিরোধ্য দেখিয়েছে ভারতকে। তবে সেরাটা বেরিয়ে এল ফাইনালেই।
ম্যাচের ৩০ সেকেন্ডে বাঁ-দিক থেকে কোরিয়ান ডিফেন্ডারদের পিছনে ফেলে উঠে আসেন অধিনায়ক হরমনপ্রীত। তাঁর বাড়ানো ক্রস ডি বক্সে খুঁজে নেয় সুখজিৎকে। গোলার মতো রিভার্স শটে দলকে ১-০ এগিয়ে দেন তিনি। এরপর একের পর এক আক্রমণে কোরিয়ান রক্ষণকে বিব্রত করতে থাকে ভারত। ৯ মিনিটে পেনাল্টি স্ট্রোক পেয়েও লক্ষ্যভেদে ব্যর্থ হন যুগরাজ। প্রথম কোয়ার্টারে আর কোনও গোল আসেনি। তবে দ্বিতীয় কোয়ার্টারের শেষদিকে দিলপ্রীতের বুদ্ধিদীপ্ত ফ্লিকে ২-০ লিড পায় ভারত। এরপর ম্যাচের ৪৫ মিনিটে এল তৃতীয় গোল, যা দিলপ্রীতের দ্বিতীয়। রাজকুমার পালের শট প্রতিহত হলে ফিরতি বল গোলে ঠেলেন তিনি (৩-০)। চতুর্থ গোল আসে ৫০ মিনিটে। পেনাল্টি কর্নার থেকে অমিতের শটের নাগাল পাননি কোরিয়ান গোলকিপার। পরের মিনিটেই অবশ্য ব্যবধান কমান সোন (১-৪)। তবে ততক্ষণে ম্যাচের ভবিতব্য স্পষ্ট।
এশিয়াসেরা হয়ে ক্যাপ্টেন হরমনপ্রীত বলেন, ‘চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্য নিয়েই নেমেছিলাম এই আসরে। প্রত্যেক ম্যাচ থেকে শিক্ষা নিয়েছি। ফাইনালের আগে বিশেষ হোমওয়ার্ক সেরেছিলাম। ডিফেন্স জমাট রেখে আক্রমণ গড়ে তোলাই ছিল কৌশল। এবার লক্ষ্য বিশ্বকাপ।’ কোচ ফুলটন প্রশংসায় ভরিয়েছেন দলকে, ‘এটাই ছিল বিশ্বকাপে যোগ্যতা অর্জনের শেষ সুযোগ। তার সদ্ব্যবহার করেছে ছেলেরা।’