গল: শনিবার শুরু প্রথম টেস্ট। সমুদ্রপাড়ের শহরে তাই মঙ্গলবার পৌঁছাল শুভমান গিল ব্রিগেড। কলম্বোতে অবশ্য গত এক সপ্তাহ জুড়েই কন্ডিশনের সঙ্গে ধাতস্থ হয়ে ওঠার সুযোগ পেয়েছেন ক্রিকেটাররা। দুটো প্র্যাকটিস সেশনের পর তিনদিনের প্রস্তুতি ম্যাচ ছিল মেনুতে। এর পর চতুর্থ দিনের ক্রমশ কঠিন হওয়া পিচে স্পিন চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করেন ব্যাটাররা। প্রস্তুতি নিয়ে তাই কোচ গৌতম গম্ভীরের কোনো অভিযোগ থাকা উচিত নয়। এবার ‘মিশন গল’। টিমবাস করে সেখানে এদিনই এলেন ক্রিকেটাররা। দলের সঙ্গে ছিলেন নির্বাচকমণ্ডলীর প্রধান অজিত আগরকরও। পরিষ্কার, প্রথম এগারো গড়ার ক্ষেত্রে তাঁর মতামত গুরুত্বপূর্ণ হবে।
এই আবহেই সরফরাজ খানের সম্ভাবনা নিয়ে চলছে চর্চা। মহম্মদ কাইফের মতো প্রাক্তন ক্রিকেটার বলেছেন মুম্বইকরকে খেলানোর পক্ষপাতী। তাঁর মতে, স্পিনের বিরুদ্ধে দক্ষতাই সরফরাজের প্লাস পয়েন্ট। ঘূর্ণি পিচে সুইপ, রিভার্স সুইপ মেরে বোলারের ছন্দ নষ্ট করার ক্ষমতা ধরেন তিনি। বিশেষ করে গলের পিচ ঐতিহ্যগতভাবেই স্পিনসহায়ক। সেখানে স্পিনের বিরুদ্ধে দুর্বল দেখানো ধ্রুব জুরেলকে খেলানো বোকামি হবে বলেই বক্তব্য কাইফের। এক বছর পর ১৭ কেজি ওজন কমানো সরফরাজের খেলার সম্ভাবনা যদিও কম।
যা আভাস, তাতে প্রথম টেস্টে লোকেশ রাহুল ও যশস্বী জয়সওয়াল ওপেন করবেন। সাই সুদর্শনের অনুপস্থিতিতে তিনে দেবদূত পাদিক্কাল। চারে ক্যাপ্টেন গিল, পাঁচে ঋষভ পন্থ, ছয়ে জুরেল বা সরফরাজ। এরপর তিন স্পিনার রবীন্দ্র জাদেজা, মানব সুথার ও কুলদীপ যাদব। প্রথম দু’জন অবশ্য অলরাউন্ডারও। নতুন বল ভাগ করে নেবেন দুই পেসার মহম্মদ সিরাজ ও প্রসিদ্ধ কৃষ্ণা। কোনো অঘটন ছাড়া গলে এটাই হতে চলেছে ভারতের এগারো। তবে তরুণ তুর্কি গুরনুর ব্রারকে নিয়ে অনেকেই উচ্ছ্বসিত। শ্রীলঙ্কার প্রাক্তন ক্রিকেটার ফারফেজ মাহরুফ যেমন তাঁকে ‘এক্স ফ্যাক্টর’ হিসাবে চিহ্নিত করেছেন।
এদিকে, টেস্ট সিরিজ শুরুর আগে শ্রীলঙ্কা শিবিরে দুঃসংবাদ। ফিটনেসজনিত কারণে প্রথম টেস্টে খেলতে পারবেন না কুসল মেন্ডিস ও পাথুম নিসাঙ্কা। হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট কুসলের। দ্বিতীয় টেস্টেও তাঁকে পাওয়ার সম্ভাবনা কম। অন্যদিকে, পাথুমের চোট কবজিতে। এই পরিস্থিতিতে টেস্টে প্রত্যাবর্তন করতে চলেছেন নিরোশান ডিকওয়েলা। তাঁর অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে চাইছেন নির্বাচকরা। প্রস্তুতি ম্যাচে ভারতের বিরুদ্ধে সদ্য দুই ইনিংসেই হাফ-সেঞ্চুরির পর নিশান মাদুশকার খেলার সম্ভাবনাও রয়েছে টেস্টে।