Bartaman Logo
১৫ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

১৭ আগস্ট স্বাধীনতার ঘোষণা পরদিন জাতীয় পতাকা উত্তোলন

১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্টের দু’দিন পর, অর্থাৎ ১৭ আগস্ট বিকালে অল ইন্ডিয়া রেডিওতে ঘোষণার মাধ্যমে মালদহকে ভারতের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ১৮ আগস্ট জেলা সদরে জাতীয় পতাকা ওঠার পরও জেলার বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষের কাছে সঠিক সময়ে সেই খবর পৌঁছায়নি।

১৭ আগস্ট স্বাধীনতার ঘোষণা পরদিন জাতীয় পতাকা উত্তোলন
  • ১৫ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

তারক চক্রবর্তী, মালদহ: ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্টের দু’দিন পর, অর্থাৎ ১৭ আগস্ট বিকালে অল ইন্ডিয়া রেডিওতে ঘোষণার মাধ্যমে মালদহকে ভারতের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ১৮ আগস্ট জেলা সদরে জাতীয় পতাকা ওঠার পরও জেলার বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষের কাছে সঠিক সময়ে সেই খবর পৌঁছায়নি। অনেকে তখনও নিজেদের তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের বাসিন্দা বলে মনে করছিলেন। অনেক জায়গাতে পূর্ব পাকিস্তানের পতাকাও ছিল। তবে, ১৮ আগস্টের জেলা সদরের কার্যালয়ে ভারতের জাতীয় পতাকা উত্তোলিত হতেই আগুনের মতো খবর ছড়াতে শুরু করে। যদিও সেই সময় জানানো হয়েছিল, মুসলিম ধর্মালম্বী সরকারি কর্মীরা নিজেদের ইচ্ছে মতো যে কোনো দেশে যেতে পারেন। এরপর থেকে মুসলিম কর্মীদের দেশ ছাড়ার হিড়িক পড়ে যায়। দলে দলে মুসলিম কর্মীদের বড় একটা অংশ এতো দ্রুত ওপার বাংলায় চলে যান যে, একাধিক সরকারি দপ্তর চালানোর মতো মানুষ পাওয়া দুষ্কর হয়ে যাচ্ছিল। ফলে বহু দপ্তরে জাতীয় পতাকা লাগানোর লোক পাওয়া যাচ্ছিল না। পাশাপাশি মুসলিম সরকারি কর্মীদের একাংশ কোনো ভাবে ওপার বাংলায় যেতে রাজি হননি। তাঁদের মধ্যে অন্যতম মালদহ কলেজের তৎকালীন অধ্যক্ষ মহম্মদ সানাউল্লাহ। তাঁর ছেলে মহম্মদ আতাউল্লাহ জেলার অন্যতম ইতিহাসবিদ।

Advertisement

তিনি বলেন, দেশভাগের সময়ে অনেকের ধারণা ছিল যে মালদহ পূর্ব পাকিস্তানে রয়েছে। সেই কারণে অনেক জায়গায় জাতীয় পতাকা পরে তোলা হয়েছিল। আমার বাবা সেই সময় মালদহ কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন। ভারতীয় জাতীয় পতাকা তোলার জন্য সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বাকিরা যখন তাঁকে চাপ দেন তখন তিনি কলেজের সেক্রেটারি তথা জমিদার ও হিন্দু মহাসভার নেতা আশুতোষ চৌধুরীকে এই বিষয়ে জানান। তিনি অনুমতি দিতেই কলেজে পতাকা তোলার বিষয়ে সায় দেন আমার বাবা।
তিনি আরও জানান, সেই সময় সকলের বাড়িতে রেডিও না থাকার ফলে এই সমস্যা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু, মালদহ জেলা ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল ১৮ আগস্ট। তার আগে এই জেলা পূর্ব পাকিস্তানে থাকবে নাকি ভারতে থাকবে, তা নিয়ে বিস্তর জল্পনা হয়েছিল। পরে মালদহের ১০টি থানা নিয়ে এই জেলাকে ভারতে রেখে দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। তবে হিন্দু মহাসভা এই বিষয়ে মুসলমানদের সুযোগ দিয়েছিল নিজেদের দেশ ঠিক করে নেওয়ার। দেশভাগের দুঃখ বুকে নিয়ে ওপার বাংলায় অনেক মানুষ গেলেও আজও তাঁদের অনেকের মধ্যে এদেশের মাটির টান রয়ে গিয়েছে আতাউল্লাহসাহেব দাবি করেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ