Bartaman Logo
৩ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

নারীশিক্ষায় গুরুত্ব বৃদ্ধি, বেসরকারি স্কুল-কলেজকেও বার্তা শুভেন্দুর, কৃতীদের সেলফির আবদার মেটালেন মুখ্যমন্ত্রী

নারীশিক্ষায় জোর, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফি-এ নজর এবং প্রত্যক্ষ রাজনীতির ছোঁয়াচ থেকে ক্যাম্পাসগুলিকে রক্ষা—কৃতী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এসে এই বার্তাই দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

নারীশিক্ষায় গুরুত্ব বৃদ্ধি, বেসরকারি স্কুল-কলেজকেও বার্তা শুভেন্দুর, কৃতীদের সেলফির আবদার মেটালেন মুখ্যমন্ত্রী
  • ১৯ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নারীশিক্ষায় জোর, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফি-এ নজর এবং প্রত্যক্ষ রাজনীতির ছোঁয়াচ থেকে ক্যাম্পাসগুলিকে রক্ষা—কৃতী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এসে এই বার্তাই দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার ধনধান্য স্টেডিয়ামে সরকারের তরফে বিভিন্ন বোর্ডের ২২১ জন কৃতী ছাত্রছাত্রীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। সেখানে প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা রাজ্যসভার সদস্য শমীক ভট্টাচার্য। মুখ্যমন্ত্রী এবং শমীকের পাশাপাশি কৃতীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অন্য বিধায়করাও। পুরস্কারের তালিকায় ছিল ল্যাপটপ, উত্তরীয়, স্বামী বিবেকানন্দের ছবি এবং বই, ফুল, মিষ্টি প্রভৃতি।

Advertisement

নতুন সরকারের এটিই প্রথম প্রকাশ্য অনুষ্ঠান ছিল। অন্যান্যবারের মতো মূল প্রেক্ষাগৃহে নয়, মিনি অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠানটি করা হয়। অনেকেরই বক্তব্য, আর্থিক চাপ রুখতেই এই উদ্যোগ। এদিন বক্তব্য রাখতে গিয়ে শমীক ভারতের জ্ঞানবিজ্ঞানচর্চায় প্রাচীন গৌরবগাথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি, এও বলেন, আর্যহানা তত্ত্ব এখন ভুল বলে প্রমাণিত হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী ভাষণে বলেন, ‘ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় অর্থাৎ বিদ্যাসাগরের নীতি মেনে আমরা নারীশিক্ষায় জোর দেব। মেয়েদের স্কুল, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাড়তি নজর থাকবে।’  পাশাপাশি বেসরকারি স্কুল ও কলেজের প্রতি বার্তা, সরকার এগুলিকে উৎসাহও দেবে না, আবার বিরোধিতাও করবে না। তবে, ফি নিয়ে এমন কিছু তারা না করে যাতে সরকার বিব্রত হয়। সেক্ষেত্রে সরকারকে পদক্ষপে করতে হতে পারে। সরকারি স্কুলের চেয়ে বেসরকারি স্কুলের মূল্যায়ন এবং ভরতি প্রক্রিয়া সহজ। তাই একটা অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়ে সরকারি স্কুলের পড়ুয়ারা। এদিকেও নজর দেওয়ার বার্তা দিয়েছেন সরকারি স্কুলগুলিকে। একইসঙ্গে জানিয়েছেন, শিক্ষাঙ্গন রাজনীতির আখড়া হয়ে উঠেছিল। তা থেকে মুক্ত করা হবে সেগুলিকে। জাতীয় শিক্ষানীতি, পিএমশ্রী প্রকল্প চালু হচ্ছে শিগগিরই। তার সুফলও আগামী দিনে পাওয়া যাবে। প্রচুর কেন্দ্রীয় অনুদানও আসতে শুরু করবে।
অনুষ্ঠান শেষে কৃতীদের মধ্যে নেমে পড়েন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁকে ঘিরে তখন ছাত্রছাত্রী এবং অভিভাবকদের উৎসাহ ছিল দেখার মতো। সবার ছবি তোলার আবদার মিটিয়ে মঞ্চে ফেরেন মুখ্যমন্ত্রী। উৎসাহীদের নিরস্ত করতে রীতিমতো ঘোষণা করে যেতে হয় সঞ্চালিকা মধুমন্তী মৈত্রকে। 
অন্যদিকে, শিক্ষকতার পেশায় যুক্ত ১৭ জন বিজেপি বিধায়ক এদিন সকালে স্বপন দাশগুপ্ত এবং শংকর ঘোষের নেতৃত্বে শিক্ষাসচিব বিনোদ কুমারের সঙ্গে বৈঠক করেন। শংকর ঘোষ এবং স্বপন দাশগুপ্ত জানান, সচিবকে বিভিন্ন প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। দপ্তরের বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর কাছেও নিয়ে যাওয়া হবে। শিক্ষাকে দুর্নীতিমুক্ত করতে এবং উৎকর্ষ ফেরাতেই এই উদ্যোগ।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ