Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

অধ্যাপকদের বাড়তি দায়িত্ব: বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে সরব অ্যাসোসিয়েশন

বিশ্বভারতীতে অধ্যাপকদের বাড়তি কাজের দায়িত্ব চাপিয়ে দেওয়া সহ একাধিক অভিযোগ তুলে সরব হল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সংগঠন বিশ্বভারতী ফ্যাকাল্টি অ্যাসোসিয়েশন

অধ্যাপকদের বাড়তি দায়িত্ব: বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে সরব অ্যাসোসিয়েশন
  • ১০ এপ্রিল, ২০২৬ ১৪:০৪
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বোলপুর: বিশ্বভারতীতে অধ্যাপকদের বাড়তি কাজের দায়িত্ব চাপিয়ে দেওয়া সহ একাধিক অভিযোগ তুলে সরব হল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সংগঠন বিশ্বভারতী ফ্যাকাল্টি অ্যাসোসিয়েশন। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশ মেনে চলা ও দায়িত্ব পালন নিশ্চিত করার একটি বিজ্ঞপ্তি জারি হওয়াকে কেন্দ্র করে গভীর হতাশা প্রকাশ করেছে সংগঠনটি। মঙ্গলবার কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে সরব হয়ে তাঁরা একটি বিবৃতি প্রকাশ করে। যদিও এই নিয়ে বিশ্বভারতীর ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষ কোনো মন্তব্য করতে চাননি। 

Advertisement

এদিন প্রকাশিত বিবৃতিতে অধ্যাপক সংগঠন অভিযোগ তুলেছেন, বিশ্বভারতীতে গত কয়েক মাসে ধারাবাহিকভাবে এমন একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা শিক্ষকদের স্বাধীনতা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক অ্যাকাডেমিক পরিবেশকে ক্ষুণ্ণ করছে। চলতি বছরের জারি করা এক নির্দেশিকায় বিভাগগুলিকে উপাচার্যের পূর্বানুমতি ছাড়া আলাদাভাবে সেমিনার আয়োজন করতে নিষেধ করা হয়। তারও আগেও একটি নির্দেশে শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রীদের সংবাদমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত থাকতে বলা হয়। যদিও এই বিষয়টি বর্তমানে বিচারাধীন বলে উল্লেখ করেছে সংগঠন।
সংগঠনের দাবি, এই সমস্ত পদক্ষেপ সম্মিলিতভাবে শিক্ষকদের অ্যাকাডেমিক স্বাধীনতাকে ছোটো করার একটি পরিকল্পিত প্রয়াস। পাশাপাশি, উপাচার্যের তরফে মৌখিকভাবে বায়োমেট্রিক উপস্থিতি চালুর ঘোষণারও বিরোধিতা করেছে তাঁরা। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসজুড়ে বিস্তৃত নজরদারি ক্যামেরা, গেট বেড়া বসানো নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে এই সংগঠন। তাঁদের বক্তব্য, এই অতিরিক্ত নজরদারি কাদের জন্য? ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক, কর্মচারী নাকি স্থানীয় পল্লিবাসী, তা স্পষ্ট নয়। সংগঠনের মতে, বিপুল অর্থ ব্যয় করে নজরদারি ব্যবস্থা জোরদার করা হলেও অ্যাকাডেমিক পরিকাঠামো, উচ্চগতির ইন্টারনেট পরিষেবা ও আধুনিক শ্রেণিকক্ষের উন্নয়ন হয়নি।
শিক্ষকদের দায়িত্ব প্রসঙ্গে সংগঠনটি স্পষ্ট জানায়, শিক্ষাদান, গবেষণা ও গবেষণা নির্দেশনাই তাঁদের মূল কাজ। এর বাইরে অতিরিক্ত দায়িত্ব সম্পূর্ণ স্বেচ্ছামূলক। তার জন্য কোনো জোর জবরদস্তি বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণযোগ্য নয়। এমনকি বিভাগীয় প্রধান, অধ্যক্ষের দায়িত্বও বাধ্যতামূলক নয় বলেই দাবি করা হয়েছে। বাড়ি-বাড়ি, আবাসনে ঘুরে বর্জ্য সংগ্রহের মতো দায়িত্ব শিক্ষকদের উপর চাপিয়ে দেওয়ার বিরুদ্ধেও সরব হয়েছে সংগঠনটি।
এছাড়াও তাঁরা একাধিক দাবির কথা বিবৃতিতে উল্লেখ করেছেন।  ২০০৫ থেকে ২০১৬ সালের অর্জিত ছুটি থেকে আগে কেটে নেওয়া অংশ ফিরিয়ে দেওয়া, আগের প্রশাসনের জারি করা কারণ দর্শানোর নোটিস ও অভিযোগপত্র নিঃশর্তভাবে প্রত্যাহার, অসুস্থতার কারণে কাটা বেতন ফেরত দেওয়া ও অন্যান্য বকেয়া সমস্যার সমাধান করার কোথাও বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। 
এই নিয়ে বিশ্বভারতীর অধ্যাপক সংগঠনের সম্পাদক কৌশিক ভট্টাচার্য জানান, এই বিবৃতিতে আমাদের সম্মিলিত সংগঠনের একাধিক বিষয়ের কথায় জানানো হয়েছে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মান উন্নয়নে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে চায়। তবে সেই কাজ করার সুযোগ দিতে হবে এমন এক পরিবেশে, যেখানে মত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে। সবাইকে সম্মান দেওয়া হবে। আশা করছি আমাদের সকলের কথা ভেবে কর্তৃপক্ষ সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে। 

সম্পর্কিত সংবাদ