নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: প্রদেশ কংগ্রেসের হাল ফেরাতে দলের সদর দপ্তর বিধান ভবনকে ঢেলে সাজা বা উন্নয়নের পরিমণ্ডলে আলোকিত করার কান্ডারি কে? অধীর চৌধুরী না শুভঙ্কর সরকার? প্রাক্তন ও বর্তমান দুই প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির অনুগামীদের মধ্যে তর্কযুদ্ধ এখন তুঙ্গে। ঘরোয়া বৈঠক বা অভ্যন্তরীণ আলোচনা ছেড়ে একেবারে সামাজিক মাধ্যমে তাঁরা নেমে পড়েছেন নিজ নিজ শিবিরের গুণগান গাইতে।
কিছুদিন যাবৎ দেখা যাচ্ছে, অধীর ও শুভঙ্করের মধ্যে বেশকিছু ক্ষেত্রে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। তার সর্বশেষ প্রমাণ মিলেছে একটি যোগদান কর্মসূচিতে। সামশেরগঞ্জে সম্প্রতি অধীরের উপস্থিতিতে কংগ্রেসের ‘যোগদান’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। যদিও তা ভালো চোখে দেখেনি শুভঙ্কর শিবির। বিষয়টি দিল্লিকে জানায় তারা। সর্বভারতীয় কংগ্রেস কমিটির পশ্চিমবঙ্গের পর্যবেক্ষক প্রকাশ যোশি স্পষ্টভাবে জানান, যোগদান সংক্রান্ত বিষয় প্রদেশ কংগ্রেস কমিটিকে আগে জানাতে হবে। তারপর দিল্লির অনুমোদনসাপেক্ষেই হবে যোগদান। যদিও দিল্লির এই নির্দেশিকায় অধীরের অবস্থানের নড়চড় হয়নি। বরং রবিনহুড মনোভাবেই তাঁর মতো করে যোগদান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। ঘটনাচক্রে ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসে (২৮ আগস্ট) মহাজাতি সদনের অনুষ্ঠানে শুভঙ্কর সরকার উপস্থিত থাকলেও অধীর চৌধুরীর দেখা মেলেনি।
ঠিক এই প্রেক্ষাপটে চর্চার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে বিধান ভবনের ‘উন্নয়ন’ কার হাতে? অধীর চৌধুরীর অনুগামী এবং তাঁর একসময়ের রাজনৈতিক সচিব নিলয় প্রামাণিক ‘পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস ও বিধান ভবন’ শীর্ষক লেখালেখি শুরু করে দিয়েছেন। একটা সময় বিধান ভবনের ভদ্রস্থ সাইনবোর্ড না-থাকা, ভাঙা চেয়ার টেবিল, নোংরা আবর্জনা, ধুলোর স্তূপ, অস্বাস্থ্যকর শৌচালয়, পার্টি লাইব্রেরি রুম না-থাকার মতো একদা মলিন ছবিটি তুলে ধরেছেন তিনি। নিলয়ের কথায়, আগে তো বিধান ভবন সন্ধ্যার পর ‘ভূত বাংলো’ লাগত। অধীর উদ্যোগী না-হলে ওই ভবনের হাল ফিরত না। অধীর জমানায় অনেক কাজ হয়েছিল, কিন্তু তখন কেউ বিজ্ঞাপন করেনি।
পালটা আসরে নেমে পড়েছেন শুভঙ্কর-অনুগামীরা। শুভঙ্কর-ঘনিষ্ঠ প্রদেশ কংগ্রেস সোশ্যাল মিডিয়া বিভাগের চেয়ারম্যান অশোক ভট্টাচার্য বলেন, বিধান ভবনের রূপকার আসলে সোমেন মিত্র। বিধান ভবনের পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন সবটাই তাঁর। বিল্ডিংয়ের ছয়তলার কাজ আবার শুরু করেছেন সভাপতি শুভঙ্কর সরকার। কংগ্রেস রাজনীতিতে নেহাতই নাবালক যে তার পক্ষে এই ইতিহাস জানা সম্ভবও নয়।
রাজনৈতিক মহলের মত, অধীর বনাম শুভঙ্কর গোষ্ঠীর বিবাদ যেদিকে গড়াচ্ছে তাতে কংগ্রেসের ‘উন্নয়ন’ শেষমেশ কী দাঁড়াবে সেটাই বড়ো প্রশ্ন।