সন্দীপ স্বর্ণকার, নয়াদিল্লি: হিসাব ছিল ৯৭১ কোটি টাকা। কিন্তু নতুনের নেশায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির স্বপ্নের সংসদ ভবন তৈরিতে কেন্দ্রের কোষাগার থেকে আদতে খরচ হয়েছে ১ হাজার ২৮৪ কোটি টাকা। তথ্য জানার অধিকার আইনে পাওয়া তথ্য থেকেই এই পরিসংখ্যান পাওয়া গিয়েছে। কিন্তু কীসে খরচ? তার খুঁটিনাটি জানাতে নারাজ মোদি সরকার। তথ্য জানার অধিকার আইনে মাত্র তিরিশ দিনে যে জবাব পাওয়ার কথা, ৮৪৮ দিন পেরিয়ে গেলেও তা স্পষ্ট করা হচ্ছে না। জনগণের করের টাকা। তবুও তার হিসাব কেন লুকোচ্ছে কেন্দ্র? উঠছে প্রশ্ন।
সংসদেই হোক বা আরটিআই’য়ে, নতুন সংসদ ভবনের বিস্তারিত খরচের তথ্য দিতে নারাজ মোদি সরকার। তৃণমূল সাংসদ মালা রায় এ ব্যাপারে সরকারের কাছে সংসদে লিখিত জানতে চাইলে কিছুদিন আগে নগরোন্নয়ন মন্ত্রকের স্রেফ দায়সারা উত্তর, জিএসটি ১২ থেকে বেড়ে ১৮ শতাংশ হওয়ার জন্য খরচ বেড়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সিমেন্ট, স্টিল, লেবার চার্জ বেড়েছে। কিন্তু খরচ জানায়নি। একইভাবে প্রবাসী বাঙালি আরটিআর কর্মী মনোরঞ্জন এস রায়কে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে, নতুন সংসদ ভবনের জন্য নগরোন্নয়ন মন্ত্রকের অধীন সিপিডব্লুডি (সেন্ট্রাল পাবলিক ওয়ার্কস ডিপার্টমেন্ট)কে ১ হাজার ২৮৪ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে।
অর্থাৎ এখানেই পরিষ্কার খরচ বেড়েছে। ৯৭১ কোটি থেকে বেড়ে হয়েছে ১২০০ কোটি টাকা। কিন্তু কীসে বাড়ল খরচ? যা জানার অধিকার রয়েছে সাধারণের। তাই নাছোড় মনোরঞ্জনবাবু লেগে রয়েছেন। নতুন সংসদ ভবনে আসবাবপত্র, ইন্টেরিওর ডেকরেশন, স্থাপথ্য নির্মাণ, মার্বেল, গ্রানাইটের খরচ, ইলেকট্রিক্যাল যন্ত্রপাতি, ইলেকট্রনিক বস্তুর খরচ সহ যাবতীয় বিস্তারিত জানতে চেয়েছেন মুম্বই প্রবাসী বাঙালি আরটিআই কর্মী। আরটিআই অস্ত্রে খুঁটিনাটি জানতে চেয়ে গত ২০২৩ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর চিঠি দেন লোকসভা সচিবালয়ে। কিন্তু প্রায় আড়াই বছর পার। স্পষ্ট জবাব মিলছে না। এক দপ্তর বলছে, তাদের কাছে নেই। অন্য দপ্তর বলছে, খুঁজছি।
এমনকি তথ্য জানার অধিকার আইন মোতাবেক, সেন্ট্রাল ইরফরমেশন কমিশনের (সিআইসি) কাছে জবাব চেয়েও উত্তর মেলেনি। স্রেফ সিপিডব্লুডি জানিয়েছে, ২০১৯-২০ থেকে ২০২১-২২ অর্থবর্ষে সিভিল ওয়ার্কের জন্য টেন্ডার দেওয়া হয়েছিল ১ কোটি ৯৮ লক্ষ ৫২৮ টাকা। যদিও খরচ হয়েছে ২ কোটি ৯৬ লক্ষ ৯৮ হাজার ৫১৪ টাকা। পরের তিন অর্থবর্ষে অর্থাৎ ২০২৩-২৪ থেকে ২০২৫-২৬, সিভিল ওয়ার্কের জন্য ২ কোটি ৪১ লক্ষ ৫২ হাজার ৩৫৭ টাকার টেন্ডার দেওয়া হয়েছে। যদিও কত খরচ হয়েছে, জানানো হয়নি। জবাবে বলা হয়েছে, ‘ওয়ার্ক ইন প্রগ্রেস।’ পুরানো সংসদ ভবন (এখন যার নাম সংবিধান সদন)র জন্য ২০২৪-২৫ সালে ফার্নিচার বাবদ টেন্ডার ডাকা হয়েছে ৭০ লক্ষ ১৪ হাজার ২৯১ টাকা। কত খরচ হয়েছে? জবাব, কাজ এগোচ্ছে।