Bartaman Logo
৩ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

উন্নয়নের খতিয়ানে তৃণমূলই এগিয়ে, বিরোধীদের কথা বিশ্বাস করছে না মানুষ

১৬ নম্বর জাতীয় সড়কের রানিহাটির মোড় থেকে রানিহাটি-আমতা রাস্তা ধরে কিছুটা এগিয়ে দাঁড়িয়ে পড়লাম একটি চায়ের দোকানে। সেখানে বেঞ্চে বসে থাকা শেখ জামালউদ্দিনকে জিজ্ঞাসা করলাম, এবার কী বুঝছেন?

উন্নয়নের খতিয়ানে তৃণমূলই এগিয়ে, বিরোধীদের কথা বিশ্বাস করছে না মানুষ
  • ২৮ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০

পাপ্পা গুহ, পাঁচলা: ১৬ নম্বর জাতীয় সড়কের রানিহাটির মোড় থেকে রানিহাটি-আমতা রাস্তা ধরে কিছুটা এগিয়ে দাঁড়িয়ে পড়লাম একটি চায়ের দোকানে। সেখানে বেঞ্চে বসে থাকা শেখ জামালউদ্দিনকে জিজ্ঞাসা করলাম, এবার কী বুঝছেন? ভোটের হাওয়া কোন দিকে? জবাব যেন তাঁর ঠোঁটে লেগে ছিল। বললেন, এখানে উন্নয়নের হাওয়া বইছে। এবারেও তৃণমূলের পাল্লা ভারী। বিরোধীরা প্রচারে উন্নয়নের পরিবর্তে যে সব কথা বলছে, তা সাধারণ মানুষ বিশ্বাস করছে না। সুতরাং তৃণমূল প্রার্থী গুলশান মল্লিকের জয় অনেকটাই নিশ্চিত।

Advertisement

চায়ের দোকান থেকে বেরিয়ে ধুলোর বাঁধ ধরে আরেকটু এগতেই রাস্তার দু’ধারে দেওয়াল লিখন চোখে পড়ল। সিংহভাগ দেওয়ালেই ঘাসফুলের ছবি। পাশাপাশি রয়েছে তৃণমূলের পতাকা। ধুলোর বাঁধের মোড় থেকে বাঁ দিকের রাস্তা ধরে সোজা গেলেই পড়ে তৃণমূল প্রার্থী গুলশান মল্লিকের বাড়ি। কলিং বেল বাজাতে গুলশান মল্লিক নিজেই দরজা খুলে দিলেন। ভিতরে দলের কর্মীরা ভোটের রণকৌশল নিয়ে ব্যস্ত। জিজ্ঞাসা করলাম, এবার কী হবে? প্রশ্ন শুনে তৃণমূল প্রার্থীর সোজা উত্তর, ময়দানে বিরোধীরা নেই। গত পাঁচ বছরে এলাকার রাস্তাঘাট থেকে পানীয় জল, স্বাস্থ্য পরিষেবা থেকে শিল্প— সব ক্ষেত্রেই উন্নয়ন হয়েছে। সুতরাং ওরা সারাদিন মিটিং মিছিল করলেও গতবারের মতো মানুষ এবারেও ওদের ভোট দেবে না। এবারেও পাঁচলার মানুষ আমাদেরই আশীর্বাদ করবেন। সেখান থেকে বেরিয়ে গ্রামের পথে নজর পড়ল একটি বাড়িতে। সেখানে কয়েকজন যুবক জরির কাজ করছেন। কথাপ্রসঙ্গে তাঁদেরই একজন বললেন, এক সময় এই এলাকায় ঘরে ঘরে জরির কাজ হতো। হাওড়া জেলার পাশাপাশি রাজ্যের বহু জেলার মানুষ এখান থেকে জরির কাজ নিয়ে গিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তবে সেসব এখন অতীত। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে এখানে জরি শিল্পীদের সুবিধার্থে একটি বিশেষ প্রকল্প তৈরি করা হয়েছিল। সেটা ফলপ্রসূ হয়নি। কথা প্রসঙ্গে বিকি হাকোলার বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক হৃষিকেশ পোল্লে বলেন, এখানে রাস্তাঘাটের উন্নয়ন হয়েছে। যা চোখে পড়ার মতো।
পাঁচলার বিজেপি প্রার্থী রঞ্জন পালের অভিযোগ, রাজ্য সরকারের ব্যর্থতার কারণেই এখানে জরি শিল্পের সমস্যা বেড়েছে। বহু মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। তাঁর দাবি, বিকল্প পেশার যে দিশা দেখানো হয়েছিল, সেটাও বাস্তবে কার্যকর হয়নি। এবার মানুষ এর বিরুদ্ধে ভোট দেবেন। ফরওয়ার্ড ব্লকের প্রার্থী ফরিদ মোল্লার অভিযোগ, এখানে জমি হাঙরদের দাপট বেড়েছে। চাষযোগ্য জমি মাটি ফেলে ভরাট করা হচ্ছে। মানুষ এর বিরুদ্ধে একজোট হয়ে এর বিরুদ্ধে ভোট দেবেন।

সম্পর্কিত সংবাদ