Bartaman Logo
২৮ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

কৃষক স্বার্থ, প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমায় প্রিমিয়াম দেবে রাজ্যই

কৃষক স্বার্থ, প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমায় প্রিমিয়াম দেবে রাজ্যই
  • ২৮ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

প্রীতেশ বসু, কলকাতা: বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর একের পর এক কেন্দ্রীয় প্রকল্প চালু হচ্ছে রাজ্যে। এবার কৃষকদের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের চালু করা ‘বাংলা শস্য বিমা’র জায়গায় আসছে ‘প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা’। তবে এক্ষেত্রে কৃষকদের কোনো প্রিমিয়াম দিতে হবে না। রাজ্য সরকারই প্রিমিয়াম মেটাবে। প্রসঙ্গত, ‘বাংলা শস্য বিমা’র ক্ষেত্রেও রাজ্যই সম্পূর্ণ প্রিমিয়াম দিত। কিন্তু, দেশের যেসব রাজ্যে ‘প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা’ চালু আছে, সেখানে প্রিমিয়াম মেটাতে হয় কৃষকদেরই। অর্থাৎ, গোটা দেশে পশ্চিমবঙ্গই একমাত্র রাজ্য হতে চলেছে, যেখানে কৃষক স্বার্থে প্রিমিয়ামের সম্পূর্ণ টাকা মেটাবে বিজেপি পরিচালিত রাজ্য সরকার। 

Advertisement

প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অন্য কোনো কারণে চাষ বা উৎপাদিত ফসল ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলে কৃষকদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি পৌঁছে যায় ক্ষতিপূরণ বাবদ বিমার টাকা। এর জন্য প্রতিবার নির্দিষ্ট আবেদনপত্র পূরণ করতে হয় কৃষকদের। এতদিন ধরে চলে আসা এই নিয়ম অপরিবর্তিত রাখছে বর্তমান ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার। রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী দুধকুমার মণ্ডল বলেন, ‘আমরা প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা চালু করতে চলেছি। শীঘ্রই বিমা সংস্থাগুলির সঙ্গে বৈঠক হবে। তবে একটা বিষয় আমরা ঠিক করে ফেলেছি, কৃষককে কোনো প্রিমিয়াম দিতে হবে না। তাঁদের হয়ে ওই টাকা দেবে রাজ্য।’ এই বিমার সৌজন্যে ফি-বছর ক্ষতির মুখে পড়া লক্ষ লক্ষ কৃষকের অনেকটা আর্থিক সুরাহা হয়। আগামী মরশুমের জন্য কৃষকরা যাতে দ্রুত বিমার আবেদনপত্র পূরণ করতে পারেন, সেই লক্ষ্যে সরকার পদক্ষেপ করবে বলে জানা গিয়েছে। তাই নবান্নও বিমা সংস্থার সঙ্গে চুক্তির প্রক্রিয়া দ্রুত সেরে ফেলতে চাইছে বলে খবর। 
সমস্ত ফসলের ক্ষেত্রেই কি প্রিমিয়ামের টাকা মেটাবে রাজ্য? এই প্রশ্নে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য, যত বেশি সম্ভব কৃষককে সাহায্য করা। সেকথা মাথায় রেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ধান হোক বা আলু, সব ফসলের জন্যই এই সুবিধা প্রদানের ইচ্ছা আছে আমাদের।’ কতজন কৃষক উপকৃত হবেন এই প্রকল্পের মাধ্যমে? রাজ্যের এক পদস্থ কর্তার কথায়, ‘একজনও কৃষকের ফসল নষ্ট না হোক—সেটাই আমরা চাই। কিন্তু বাস্তবে তো তা হয় না! কোনো বছর ১ লক্ষ, কোনো বছর তারও বেশি কৃষককে বিমার টাকায় ক্ষতিপূরণ দিতে হয়। এমনও কয়েক বছর গিয়েছে, যখন ৯ লক্ষ কৃষকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে বিমার টাকা। কোনো এলাকায় চাষবাস ক্ষতিগ্রস্ত হলে সরেজমিনে যাচাই করে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার বিষয়টি নির্ধারণ করা হয়। এর জন্য স্যাটেলাইট ইমেজের সাহায্যও নেওয়া হয়।’ 
এর পাশাপাশি যাঁরা কেন্দ্রের আরেকটি প্রকল্প ‘পিএম কিষাণ’-এর সুবিধা পাবেন না, তাঁদের জন্য থাকছে রাজ্যের ‘কৃষকবন্ধু নিউ’ প্রকল্প। এর মাধ্যমে এক একরের কম কৃষিজমির মালিক বছরে চার হাজার এবং এক একরের বেশি জমির মালিক বছরে ৬ হাজার টাকা করে পাবেন।
 শান্তিপুরে ধান রোয়া। -অভি ঘোষ 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ