Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / ব্ল্যাকবোর্ড

সোমালিয়ায় মানা শিঙাড়ায়

ছুটির দিন। তায় বিকেল থেকে বৃষ্টি। চারপাশ একটু অন্ধকার হতেই শিঙাড়া আর একবাটি মুড়ি নিয়ে জানলার ধারে

সোমালিয়ায় মানা শিঙাড়ায়
  • ২১ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

ছুটির দিন। তায় বিকেল থেকে বৃষ্টি। চারপাশ একটু অন্ধকার হতেই শিঙাড়া আর একবাটি মুড়ি নিয়ে জানলার ধারে। সঙ্গে এক কাপ ঘন দুধ চা। এর চেয়ে সুখের আর কী বা আছে! কিন্তু সেই সুখ যে কোনও মুহূর্তে বিপদ টেনে আনতে পারে।  শিঙাড়া মুখে তুললেই ঠাঁই হতে পারে গরাদের ওপারে। কিংবা আরও ভয়ানক শাস্তি! এমনই নিয়ম রয়েছে সোমালিয়ায়। সেই ২০১১ সাল থেকে আফ্রিকার এই দেশে শিঙাড়া খাওয়া নিষিদ্ধ। শুধু তাই নয়, শিঙাড়ার ছবিও দেখা যায় না কোথাও। একথা ঠিক, সোমালিয়ায় ভারতের মতো শিঙাড়া-প্রেমী নেই। কিন্তু তাই বলে শিঙাড়া খাওয়া নিষিদ্ধ! ব্যাপারটাও বেশ অদ্ভুত না? মনে হতে পারে,  স্বাস্থ্যের কথা ভেবে এমন নিয়ম জারি করেছে সোমালিয়ার সরকার। তেলেভাজা এই খাবার যতই মুখরোচক হোক, শরীরের তেমন উপকার করে না। বরং অতিরিক্ত শিঙাড়া খেলে হিতে বিপরীত হতে পারে। তবে সোমালিয়ায় শিঙাড়া নিষিদ্ধ হওয়ার কারণটা একেবারে আলাদা। প্রথমে কারণ নিয়ে স্পষ্ট কিছু জানায়নি সোমালিয়া সরকার। অনেকেই ভেবে নেন, এই খাবারে পাশ্চাত্য প্রভাব বেশি। তাই নিষেধাজ্ঞা। পরে জানা যায়, শিঙাড়ায় রাশ টানার আসল কারণ কিছু মুসলিম ধর্মীয় সংগঠনের আপত্তি। তাদের দাবি, শিঙাড়ার এই ‘তেকোনা’ আকার খ্রিস্টানদের বিশেষ প্রতীকের মতো। তাই শিঙাড়া খাওয়া ধর্মবিরুদ্ধ। এর বিরোধীতায় পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর হয়ে ওঠে যে, গোটা দেশে শিঙাড়ার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করতে বাধ্য হয় সরকার। তাই শিঙাড়ার প্রতি যাদের অকৃত্রিম ভালোবাসা, বিকেল হলেই মন উচাটন হয়ে ওঠে, তাঁরা পৃথিবীর যে প্রান্তেই ঘুরতে যান না কেন, সোমালিয়া যাবেন ভেবেচিন্তে।

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ