Bartaman Logo
৬ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

উত্তর ২৪ পরগনার বিস্তীর্ণ অংশে চলছে নাড়া পোড়ানোর কাজ, ধোঁয়ায় ঢাকছে গ্রাম

শীতে বিকাল ৫টা বাজতে না বাজতেই অন্ধকার নেমে আসে। আমডাঙা, বারাসত বা হাবড়ার বিস্তীর্ণ এলাকা অবশ্য তার আগেই ঢেকে যায় আঁধারে।

উত্তর ২৪ পরগনার বিস্তীর্ণ অংশে চলছে নাড়া পোড়ানোর কাজ, ধোঁয়ায় ঢাকছে গ্রাম
  • ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: শীতে বিকাল ৫টা বাজতে না বাজতেই অন্ধকার নেমে আসে। আমডাঙা, বারাসত বা হাবড়ার বিস্তীর্ণ এলাকা অবশ্য তার আগেই ঢেকে যায় আঁধারে। সৌজন্যে নাড়া পোড়া। একের পর এর গ্রাম ঢাকা পড়ে কালো ধোঁয়ায়। দমবন্ধ অবস্থা হয় বাসিন্দাদের। দুপুরের পর থেকেই চাষের জমিতে অবাধে চলে নাড়া পোড়ানোর কাজ। এতে চাষের জমির ক্ষতি হয় জেনেও বছরের পর বছর ধরে এই কাজ করে চলেছে চাষিদের একাংশ।

Advertisement

একটা সময় ছিল যখন কাস্তে দিয়ে ধান কাটা হত। তাতে গাছের গোড়ার কিছু অংশ জমিতে থেকে যেত। কালের নিয়মে বেশির ভাগ জায়গায় কাস্তের যুগ শেষ হয়েছে, এখন ধান কাটা হয় মেশিন দিয়ে। তাতে ধান গাছের গোড়ার প্রায় দ্বিগুণ অংশ ও খড়ের টুকরো পড়ে থাকছে জমিতে। পরবর্তীকালে চাষের জন্য দ্রুত জমি সাফ করতে নাড়া পোড়ায় বহু চাষি। এর ফলেই বাড়ছে দূষণ। এ নিয়ে সচেতনতা গড়ে তোলা যায়নি চাষিদের মধ্যে। কৃষিদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, নাড়া পোড়ানোর ফলে তৈরি হয় কার্বন ডাই অক্সাইড ও কার্বন মনোক্সাইড। তা শরীরের পক্ষে মারাত্মক ক্ষতিকর। তাছাড়া এভাবে আগুন দেওয়ার ফলে চাষাবাদে উপকারী পোকামাকড়, জীবাণু বা অণুখাদ্য পুড়ে নষ্ট হয়ে যায়। উর্বরতা কমে জমির। সেইসব ক্ষতির আশঙ্কা উড়িয়ে আমডাঙা থেকে হাবড়া বা মিনাখাঁ ও হাড়োয়া সর্বত্রই চলছে নাড়া পোড়ানো। তবে, ফি বছর শীতের সময় মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে উদ্যোগী হয় দপ্তর। এলাকায় এলাকায় প্রচার করা হয়। তবে এবার সেই অর্থে প্রচার নজরে আসেনি।

আমডাঙার তাড়াবেড়িয়ার বাসিন্দা পঙ্কজ দাস বলেন, প্রশাসন এত কিছু করলেও মানুষের হুঁশ ফেরেনি। দেগঙ্গার শিবাশিস চক্রবর্তী বলেন, শীতকালে বিকাল ৪টে বাজলে এমনিতেই অন্ধকার হয়ে যায়। এখন নাড়া পোড়ানোর কারণে আরও তাড়াতাড়ি অন্ধকার নেমে আসছে। চারদিক ধোঁয়াশায় ঢেলে যায়। এ নিয়ে জেলার কৃষিদপ্তরের এক কর্তা বলেন, নাড়া পোড়ালে দূষণ নিয়ন্ত্রণ আইনে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর জন্য আমরা বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে প্রচার করছি। কিন্তু তারপরেও বন্ধ হয়নি নাড়া পোড়ানোর কাজ। পরিবেশ দপ্তর বেশ কয়েকটি জায়গায় এনিয়ে অভিযোগও দায়ের করেছে। আমরাও প্রচারে জোর দিচ্ছি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ